বগুড়ায় চিকিৎসা নিতে আসা মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ, কবিরাজ গ্রেপ্তার

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
বগুড়া

গ্রেপ্তার রেজাউল করিম

বগুড়ায় মাথাব্যথার চিকিৎসা নিতে এসে এক মাদ্রাসাছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত কবিরাজ ‘জ্বিনের আসর’ রয়েছে দাবি করে ঝাড়ফুঁকের কথা বলে দরজা বন্ধ করে তাঁকে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ। এ ঘটনায় অভিযুক্ত কবিরাজকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (৬ মে) সন্ধ্যায় শহরের নামাজগড় এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তি হাকিম রেজাউল করিম (৪০)। তিনি নামাজগড় এলাকায় ভান্ডারী মসজিদসংলগ্ন ‘আশ-সিফা দাওয়া খানা’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানে কবিরাজি ও ঝাড়ফুঁকের মাধ্যমে চিকিৎসা করতেন। রাত ১০টার দিকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী।

ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবার অভিযোগ, তাঁর মেয়ে রাজশাহীর একটি কওমি মহিলা মাদ্রাসায় দাখিল (এসএসসি সমমান) শ্রেণিতে পড়াশোনা করে। বেশ কিছুদিন ধরে সে মাথাব্যথায় ভুগছিল। বিভিন্ন চিকিৎসকের কাছে নিয়েও উন্নতি না হওয়ায় এক পরিচিত ব্যক্তির মাধ্যমে গত ৩ মে সকালে মেয়েকে নিয়ে তিনি অভিযুক্তের দাওয়া খানায় যান।

অভিযোগে বলা হয়, অভিযুক্ত কিশোরীর ওপর ‘জ্বিনের আসর’ রয়েছে দাবি করে ঝাড়ফুঁক করার কথা বলেন। একপর্যায়ে তিনি কিশোরীকে একটি কক্ষে নিয়ে দরজা বন্ধ করে দেন এবং অন্য সবাইকে বাইরে যেতে বলেন। পরে চিকিৎসার কথা বলে কিশোরীকে ধর্ষণ করেন।

একই দিন বিকেলে ১৬ হাজার ৫০০ টাকা নিয়ে আবার আসতে বলেন অভিযুক্ত। পরিবারের সদস্যরা টাকা নিয়ে পুনরায় সেখানে গেলে কিশোরীকে আবারও কক্ষে নিয়ে গিয়ে একইভাবে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরে কিশোরী বিষয়টি পরিবারকে জানায়। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে আলোচনা করে পরিবার থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে।

ওসি ইব্রাহীম আলী বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভুক্তভোগীর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্নের প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত