leadT1ad

'জঙ্গি নাটক' সাজিয়ে ৭ জনকে হত্যা: সাবেক ২ আইজিপিসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ছবি: সংগৃহীত

গাজীপুরের পাতারটেকে কথিত জঙ্গি আস্তানার নাটক সাজিয়ে সাতজনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক ডিবিপ্রধান হারুন অর রশীদ, সাবেক দুই আইজিপি ও ডিএমপির সাবেক কমিশনারসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ প্রসিকিউশন পক্ষ এই অভিযোগ দাখিল করে। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর যাচাই-বাছাই শেষে মঙ্গলবার তা আদালতে উপস্থাপন করা হয়।

আনুষ্ঠানিক অভিযোগে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষ পর্যায়ের ১০ কর্মকর্তাকে আসামি করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন পুলিশের সাবেক আইজিপি একেএম শহিদুল হক ও ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান মিয়া, পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের তৎকালীন প্রধান ও সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. মনিরুল ইসলাম, গাজীপুরের তৎকালীন পুলিশ সুপার ও ডিএমপির সাবেক ডিবি প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ এবং বগুড়া জেলার সাবেক পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান।

প্রসিকিউশন সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ নয় বছর আগের এই ঘটনাটির তদন্ত শেষ করে তদন্ত সংস্থা প্রসিকিউশনের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আইনি যাচাই-বাছাই শেষে মঙ্গলবার ফরমাল চার্জ দাখিল করা হলো। এখন ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ আমলে নিয়ে শুনানির জন্য পরবর্তী দিন ধার্য করবেন।

এর আগে ২০২৫ সালের আগস্ট মাসে এই মামলায় সাবেক আইজিপি জাবেদ পাটোয়ারী, সিটিটিসি প্রধান মনিরুল ইসলাম, এসপি হারুন অর রশীদসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

মামলার নথিপত্র ও অভিযোগের বিবরণ অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ৮ অক্টোবর সকাল আনুমানিক ৮টা ৫০ মিনিট থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নোয়াগাঁওয়ের পাতারটেক এলাকায় সোলাইমান সরকারের দোতলা বাড়িতে এক যৌথ অভিযান চালানো হয়। পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট সিটিটিসি, সোয়াট টিম, গাজীপুর জেলা পুলিশ ও বগুড়া জেলা পুলিশের সমন্বয়ে পরিচালিত ওই অভিযানে ‘জঙ্গি নিধন’-এর নামে শত শত রাউন্ড গুলি ছুড়ে সাতজনকে হত্যা করা হয়। তৎকালীন পুলিশ প্রশাসন একে ‘সফল জঙ্গিবিরোধী অভিযান’ হিসেবে প্রচার করলেও বর্তমান তদন্তে ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, ১৯ থেকে ২৭ বছর বয়সী ওই সাত তরুণকে পরিকল্পিতভাবে সেখানে এনে জঙ্গি সাজিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল।

ওই ঘটনায় নিহত সাতজনের মধ্যে তিনজনের পরিচয় পাওয়া গেলেও বাকি চারজনের পরিচয় গত নয় বছরেও জানা যায়নি। শনাক্তকৃত তিনজন হলেন সিরাজগঞ্জের কাজীপুরের বরইতলা বাজারের আবু সাঈদের ছেলে ফরিদুল ইসলাম আকাশ, সুনামগঞ্জের ছাতকের মনিরগাথি (ডিকমা) গ্রামের মতিউর রহমানের ছেলে সাইফুল ইসলাম বাবলু এবং পুরান ঢাকার বংশালের মো. আজিম উদ্দিনের ছেলে ইব্রাহিম।

নিহত ইব্রাহিম রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর একটি মাদরাসায় লেখাপড়া করতেন। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ইব্রাহিমের বাবা মো. আজিম উদ্দিন ছেলেকে বিচারবহির্ভূতভাবে গুম ও হত্যার অভিযোগ এনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়ের করেন।

Ad 300x250

সম্পর্কিত