তরুণ নেতৃত্ব এলে এক ধরনের সম্ভাবনা থাকে যে তারা একটু কমিটেড থাকবেন, নতুন কিছু নিয়ে আসবেন। কিন্তু অভিজ্ঞ সংসদ সদস্য না থাকলে সংসদীয় প্রক্রিয়ায় সমস্যা হয়।
স্ট্রিম প্রতিবেদক

আসন্ন সংসদ নির্বাচনের সিংহভাগ প্রার্থী প্রথমবার ভোটযুদ্ধে অংশ নিচ্ছেন। শুধু তা-ই নয়, গত চারটি নির্বাচনের তুলনায় এবারের প্রার্থীরা কম বয়সী এবং উচ্চশিক্ষিত। হলফনামা বিশ্লেষণ করে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এসব তথ্য জানিয়েছে।
বিশ্লেষণে দেখা যায়, এবারের নির্বাচনে ১ হাজার ৬৯৬ প্রার্থী প্রথমবারের মতো সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে মোট প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ১ হাজার ৯৬৯। ২০১৮ সালের একাদশ সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী ছিলেন ১ হাজার ৮৬১ জন।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, মোট প্রার্থীর অনুপাতে সংখ্যাটি বিশাল। অভিজ্ঞ রাজনীতিকদের চেয়ে এবার নবীনরা ভোটের মাঠে বেশি সরব। এ বিষয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক কে এম মহিউদ্দিন স্ট্রিম বলেন, গত তিন নির্বাচনে যারা জয়ী হয়েছেন, তাদের অনেকেই এবারের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন না। ২০০৮ সালের ইলেকশনে যারা অংশ নিয়েছেন, তাদের অনেকেই নির্বাচন করছেন না। বিএনপির প্রবীণ নেতারা রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় নন। তাদের কেউ অবসরে, কেউ মারা গেছেন। ফলে নির্বাচনে নতুন মুখ আসবে– এটাই স্বাভাবিক।
অর্ধেকের বেশি তরুণ ও মধ্যবয়সী
প্রার্থীদের বয়সের বিন্যাসেও এসেছে পরিবর্তন। হলফনামার তথ্য বলছে, মোট প্রার্থীর ৫৮ দশমিক ২৯ শতাংশের বয়স ২৫ থেকে ৫৪ বছরের মধ্যে। অর্থাৎ অর্ধেকের বেশি প্রার্থী তরুণ কিংবা মধ্যবয়সী। এর মধ্যে ২৫ থেকে ৩৪ বছর বয়সীর হার ৯ দশমিক ৪১ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি প্রার্থী ৪৫ থেকে ৫৪ বছর বয়সী, যা মোট প্রার্থীর প্রায় ৩০ শতাংশ (২৯ দশমিক ৮৮)। ৩৫ থেকে ৪৪ বছর বয়সী প্রার্থী ১৯ শতাংশ।
টিআইবির পর্যালোচনা বলছে, গত চারবার (২০০৮ থেকে ২০২৪) ও এবার যারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, সে পরিসংখ্যানে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি ‘কম বয়সী’ পাওয়া গেছে। ৫৫ থেকে ৬৫ বছর বয়সসীমার প্রার্থী ২৪ শতাংশের মতো।
অধ্যাপক মহিউদ্দিন মনে করেন, তরুণ নেতৃত্ব এলে এক ধরনের সম্ভাবনা থাকে যে তারা একটু কমিটেড থাকবেন, নতুন কিছু নিয়ে আসবেন। কিন্তু অভিজ্ঞ সংসদ সদস্য না থাকলে কিন্তু সংসদীয় প্রক্রিয়ায় সমস্যা হয়। ফলে সম্ভাবনা যেমন আছে, চ্যালেঞ্জও রয়েছে। নতুন নেতৃত্ব কতটা মানিয়ে নিতে পারবে তার ওপর সম্ভাবনা নির্ভর করছে। অর্থাৎ তারা কতটা রাজনৈতিক বা সংসদীয় প্রক্রিয়া সম্পর্কে জ্ঞান রাখেন– তার ওপর।
আবার তরুণ বেশি হলেই যে পার্লামেন্ট অচল হয়ে যাবে, আবার বয়স্ক থাকলে যে পার্লামেন্ট খুব ভালো চলবে– তা নয় বলেও মন্তব্য করেন অধ্যাপক মহিউদ্দিন।
সেন্টার ফর গভরন্যান্স স্টাডিজের সাবেক এই পরিচালক বলেন, পার্লামেন্টে যারা যাচ্ছেন, তারা পেশাগতভাবে কতটা রাজনীতিবিদ, তারা পার্লামেন্টটাকে আসলে কীভাবে দেখছেন, আইন তৈরির বডি হিসেবে দেখছেন, নাকি এটাকে টাকা বানানোর বডি হিসেবে দেখছেন– সেটাই আসল ব্যাপার। আইন প্রণয়ন করতে গেলে সেই জ্ঞান, সেই প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে হবে। তাহলে সংসদে ভালো অবদান রাখা যাবে।
উচ্চশিক্ষিত প্রার্থীর আধিক্য
নির্বাচনে অংশ নেওয়া দুই-তৃতীয়াংশের বেশি প্রার্থীর স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রি রয়েছে। ৪৭ দশমিক ৯৮ শতাংশ প্রার্থী স্নাতকোত্তর এবং ২৮ শতাংশের বেশি প্রার্থী স্নাতকধারী। উচ্চমাধ্যমিকের ৮ দশমিক ৯৪, মাধ্যমিক পাস ৬ দশমিক ৫৪ ও স্বশিক্ষিত প্রার্থী মাত্র ৫ দশমিক ৬৩ শতাংশ।
শিক্ষিত লোকজন রাজনীতিতে আসছেন, এটা বাংলাদেশের জন্য একটা ইতিবাচক দিক হলেও কে এম মহিউদ্দিন শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ডিগ্রিধারী হলেই যে সংসদে খুব ভালো করবেন, খুব ন্যায়বিচার করবেন–এমন নয়। বিগত সংসদগুলোতে ডিগ্রিধারীর সংখ্যা বেশি ছিল, পিএইচডি ডিগ্রিধারী ছিল কিন্তু সেসব সংসদ ছিল নিষ্ক্রিয়।
আগের ১২ নির্বাচনে যত দল ও প্রার্থী

আসন্ন সংসদ নির্বাচনের সিংহভাগ প্রার্থী প্রথমবার ভোটযুদ্ধে অংশ নিচ্ছেন। শুধু তা-ই নয়, গত চারটি নির্বাচনের তুলনায় এবারের প্রার্থীরা কম বয়সী এবং উচ্চশিক্ষিত। হলফনামা বিশ্লেষণ করে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এসব তথ্য জানিয়েছে।
বিশ্লেষণে দেখা যায়, এবারের নির্বাচনে ১ হাজার ৬৯৬ প্রার্থী প্রথমবারের মতো সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে মোট প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ১ হাজার ৯৬৯। ২০১৮ সালের একাদশ সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী ছিলেন ১ হাজার ৮৬১ জন।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, মোট প্রার্থীর অনুপাতে সংখ্যাটি বিশাল। অভিজ্ঞ রাজনীতিকদের চেয়ে এবার নবীনরা ভোটের মাঠে বেশি সরব। এ বিষয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক কে এম মহিউদ্দিন স্ট্রিম বলেন, গত তিন নির্বাচনে যারা জয়ী হয়েছেন, তাদের অনেকেই এবারের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন না। ২০০৮ সালের ইলেকশনে যারা অংশ নিয়েছেন, তাদের অনেকেই নির্বাচন করছেন না। বিএনপির প্রবীণ নেতারা রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় নন। তাদের কেউ অবসরে, কেউ মারা গেছেন। ফলে নির্বাচনে নতুন মুখ আসবে– এটাই স্বাভাবিক।
অর্ধেকের বেশি তরুণ ও মধ্যবয়সী
প্রার্থীদের বয়সের বিন্যাসেও এসেছে পরিবর্তন। হলফনামার তথ্য বলছে, মোট প্রার্থীর ৫৮ দশমিক ২৯ শতাংশের বয়স ২৫ থেকে ৫৪ বছরের মধ্যে। অর্থাৎ অর্ধেকের বেশি প্রার্থী তরুণ কিংবা মধ্যবয়সী। এর মধ্যে ২৫ থেকে ৩৪ বছর বয়সীর হার ৯ দশমিক ৪১ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি প্রার্থী ৪৫ থেকে ৫৪ বছর বয়সী, যা মোট প্রার্থীর প্রায় ৩০ শতাংশ (২৯ দশমিক ৮৮)। ৩৫ থেকে ৪৪ বছর বয়সী প্রার্থী ১৯ শতাংশ।
টিআইবির পর্যালোচনা বলছে, গত চারবার (২০০৮ থেকে ২০২৪) ও এবার যারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, সে পরিসংখ্যানে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি ‘কম বয়সী’ পাওয়া গেছে। ৫৫ থেকে ৬৫ বছর বয়সসীমার প্রার্থী ২৪ শতাংশের মতো।
অধ্যাপক মহিউদ্দিন মনে করেন, তরুণ নেতৃত্ব এলে এক ধরনের সম্ভাবনা থাকে যে তারা একটু কমিটেড থাকবেন, নতুন কিছু নিয়ে আসবেন। কিন্তু অভিজ্ঞ সংসদ সদস্য না থাকলে কিন্তু সংসদীয় প্রক্রিয়ায় সমস্যা হয়। ফলে সম্ভাবনা যেমন আছে, চ্যালেঞ্জও রয়েছে। নতুন নেতৃত্ব কতটা মানিয়ে নিতে পারবে তার ওপর সম্ভাবনা নির্ভর করছে। অর্থাৎ তারা কতটা রাজনৈতিক বা সংসদীয় প্রক্রিয়া সম্পর্কে জ্ঞান রাখেন– তার ওপর।
আবার তরুণ বেশি হলেই যে পার্লামেন্ট অচল হয়ে যাবে, আবার বয়স্ক থাকলে যে পার্লামেন্ট খুব ভালো চলবে– তা নয় বলেও মন্তব্য করেন অধ্যাপক মহিউদ্দিন।
সেন্টার ফর গভরন্যান্স স্টাডিজের সাবেক এই পরিচালক বলেন, পার্লামেন্টে যারা যাচ্ছেন, তারা পেশাগতভাবে কতটা রাজনীতিবিদ, তারা পার্লামেন্টটাকে আসলে কীভাবে দেখছেন, আইন তৈরির বডি হিসেবে দেখছেন, নাকি এটাকে টাকা বানানোর বডি হিসেবে দেখছেন– সেটাই আসল ব্যাপার। আইন প্রণয়ন করতে গেলে সেই জ্ঞান, সেই প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে হবে। তাহলে সংসদে ভালো অবদান রাখা যাবে।
উচ্চশিক্ষিত প্রার্থীর আধিক্য
নির্বাচনে অংশ নেওয়া দুই-তৃতীয়াংশের বেশি প্রার্থীর স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রি রয়েছে। ৪৭ দশমিক ৯৮ শতাংশ প্রার্থী স্নাতকোত্তর এবং ২৮ শতাংশের বেশি প্রার্থী স্নাতকধারী। উচ্চমাধ্যমিকের ৮ দশমিক ৯৪, মাধ্যমিক পাস ৬ দশমিক ৫৪ ও স্বশিক্ষিত প্রার্থী মাত্র ৫ দশমিক ৬৩ শতাংশ।
শিক্ষিত লোকজন রাজনীতিতে আসছেন, এটা বাংলাদেশের জন্য একটা ইতিবাচক দিক হলেও কে এম মহিউদ্দিন শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ডিগ্রিধারী হলেই যে সংসদে খুব ভালো করবেন, খুব ন্যায়বিচার করবেন–এমন নয়। বিগত সংসদগুলোতে ডিগ্রিধারীর সংখ্যা বেশি ছিল, পিএইচডি ডিগ্রিধারী ছিল কিন্তু সেসব সংসদ ছিল নিষ্ক্রিয়।
আগের ১২ নির্বাচনে যত দল ও প্রার্থী

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।
২২ মিনিট আগে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে আগামী ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি বুধ ও বৃহস্পতিবার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলের শ্রমিক ও কর্মচারীদের জন্য ১০ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) বিশেষ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
১ ঘণ্টা আগে
উত্তরাঞ্চলের মানুষের জন্য আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে নীলফামারীতে এক হাজার শয্যার চিকিৎসাকেন্দ্র গড়ে তোলা হচ্ছে। বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী জেনারেল হাসপাতাল’ নামে এই প্রকল্প একনেক সভায় অনুমোদন পেয়েছে।
১ ঘণ্টা আগে
নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন ঢাকা-১৮ আসনে জামায়াত-এনসিপি ১০ দলীয় জোট সমর্থিত প্রার্থী মো. আরিফুল ইসলাম। আজ সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে উত্তরার বিএনএস সেন্টারে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
১ ঘণ্টা আগে