জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

লক্ষ্মীপুরে স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে অপহরণের অভিযোগ, বাজুসের মানববন্ধন

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
লক্ষ্মীপুর

প্রকাশ : ১৭ মার্চ ২০২৬, ১৩: ৪০
বাজুসের সংবাদ সম্মেলন

জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে লক্ষ্মীপুরের মান্দারী বাজারের স্বর্ণ ব্যবসায়ী বিজয় কুরীকে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দুপুরে বাজুসের ব্যানারে মান্দারী বাজারে মানববন্ধন করা হয়। এতে ১২ ঘণ্টার মধ্যে বিজয়কে উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন জেলা বাজুস সভাপতি সমীর কর্মকার। একই দাবিতে মান্দারী বাজারের সব স্বর্ণের দোকান বন্ধ রেখেছে ব্যবসায়ীরা।

এর আগে সোমবার (১৬ মার্চ) দিবাগত রাতে মান্দারী বাজারের মালাকা বাড়ি থেকে বিজয়কে মারধরের পর সিএনজি চালিত অটোরিকশাযোগে অপহরণ করে নিয়ে যায়। তবে বিজয় নিজেই আত্মগোপনে থেকে অপহরণের নাটক সাজাচ্ছে বলে অভিযোগ করছে প্রতিপক্ষ উজ্জ্বল চন্দ্র দাসের স্ত্রী প্রতিমা রাণী দাস।

এদিকে রাতে ঘটনার সময় দুইপক্ষের মারামারিতে অন্তত সাতজন আহত হয়েছে। এ ঘটনায় বাড়িতে গিয়ে অভিযুক্ত উজ্জ্বল চন্দ্র দাস ও গণেশ চন্দ্র দাসকে পাওয়া যায়নি।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পৌঁছে উভয়পক্ষের সঙ্গে কথা বলেছেন বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদের সভাপতি শিমুল সাহা ও হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের জেলা কমিটির সদস্য সচিব মানিক সাহা।

মানববন্ধনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাজুস জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক পরেশ কর্মকরা ও মান্দারী বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুমন কৃষ্ণকুরীসহ স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা।

বিজয় বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) মান্দারী বাজারের সভাপতি ও সীমা শিল্পালয়ের স্বত্ত্বাধিকারী। তিনি জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সহ প্রচার সম্পাদক।

স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় এক বছর ধরে বিজয় কুরী ও উজ্জ্বল চন্দ্র দাসদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। সবশেষ সম্প্রতি তারা ঘটনাটি মীমাংসার জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্যের কাছে যায়। পরে এমপি হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাদেরকে ঘটনাটি মীমাংসার জন্য দায়িত্ব দেয়। হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা ঘটনাটি নিয়ে ঈদের পরে বসার সিদ্ধান্ত দিয়েছিল। এরমধ্যেই উজ্জ্বলরা বিরোধীয় জমিতে ঘর নির্মাণ করলে উভয়পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। সেখান থেকেই বিজয় কুরীকে অপহরণ অভিযোগ উঠেছে। তাকে কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না।

বিজয়ের ছেলে পিকলু কুরী বলেন, আমাদের জমিতে উজ্জ্বল চন্দ্র দাস ও গণেশ চন্দ্র দাস লোকজন এনে জোরপূর্বক রাতের অন্ধকারে ঘর নির্মাণ করে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পৌঁছে ঘর নির্মাণের খুঁটি ফেলে দিলে আমিসহ আমার বাবা ও ভাইকে পিটিয়ে আহত করে তারা। একপর্যায়ে আমার বাবা বিজয় কুরীকে তারা টেনে-হিঁচড়ে একটি সিএনজি যোগে তুলে নিয়ে যায়। তাকে অপহরণ করা হয়েছে। কোথাও আমার বাবাকে খুঁজে পাচ্ছি না।

প্রতিমা রাণী দাস বলেন, ২০১৯ সালে আমরা আবুল কালাম নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে পৌনে ৭ শতাংশ জমি ক্রয় করি। ২০২৪ সালে আবু তাহের নামে একজনের কাছ থেকে জমি ক্রয় করে। বিজয় আমাদের জমিটি দখলের পাঁয়তারা করে আসছে। সোমবার দুপুরে আমরা একটা ঘর করি ওই জমিতে। রাতে বিজয় ও তার ছেলেরা একদল লোক এনে আমাদের ঘরটি ভেঙে দেয়। এসময় বাধা দিতে গেলে আমাদের এলোপাতাড়ি মারধর করেছে। বিজয় নিজেই আত্মগোপনে গিয়ে অপহরণের নাটক করছে। আমরা তার বিষয়ে কিছুই জানি না।

বাজুস লক্ষ্মীপুর জেলা সভাপতি সমীর কর্মকার বলেন, স্বর্ণ ব্যবসায়ী বিজয়কে অপহরণ করা হয়েছে। এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাই। অবিলম্বে আগামি ১২ ঘণ্টার মধ্যে বিজয় কুরীর মুক্তি চাই।

বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদের সভাপতি শিমুল সাহা বলেন, আমরা উভয়পক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। ঘটনাটি সুষ্ঠু তদন্ত করে বিজয় কুরীকে উদ্ধার ও আইনগত ব্যবস্থার দাবি জানাচ্ছি।

চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোরশেদ আলম বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সম্পর্কিত