বাংলাদেশি নির্যাতনে দক্ষিণ কোরিয়ায় শ্রমিক অসন্তোষ

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

ভাইরাল ভিডিওর স্ক্রিনশট।

দক্ষিণ কোরিয়ার ইনচনের টেক্সটাইল কারখানায় এক বাংলাদেশি অভিবাসী কর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর অভিযুক্ত ম্যানেজারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (২৬ এপ্রিল) দেশটির সংবাদমাধ্যম দ্য কোরিয়া হেরাল্ডের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা গেছে।

এই ঘটনায় দেশটিতে জনরোষ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় নাগরিক সমাজ ও শ্রমিক ইউনিয়নগুলো অভিবাসী কর্মীদের সুরক্ষায় আরও শক্তিশালী আইনের দাবি জানিয়েছে।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, ওই ম্যানেজার বাংলাদেশি কর্মীকে চড় মারছেন এবং একপর্যায়ে তাঁর চুল ধরে টেনে নিয়ে যাচ্ছেন। জানা গেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি ওই কারখানার মালিকের ছেলে। তিনি সেখানে চারজন বাংলাদেশি কর্মীর তদারকি করতেন।

দক্ষিণ কোরিয়ার অভিবাসী শ্রমিক ইউনিয়ন জানিয়েছে, পুলিশ অভিযুক্ত ব্যক্তিকে হেফাজতে নিয়েছে। তদন্তের পর ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা হিসেবে বিদেশি কর্মী নিয়োগে নিষেধাজ্ঞাও আসতে পারে।

ভুক্তভোগী বাংলাদেশি তিন বছর ধরে ওই কারখানায় কাজ করছেন। তিনি জানান, শুক্রবার রাতে ম্যানেজার মদ্যপ অবস্থায় তাঁর ডরমিটরিতে ঢুকে হাঙ্গামা করেন। এ সময় ম্যানেজার তাঁর কোরিয়ান ভাষা শেখার বইগুলো ছিঁড়ে ফেলেন। এর পরদিন কাজে গেলে ম্যানেজার তাঁকে বরখাস্ত করার কথা বলেন এবং মারধর শুরু করেন।

কারখানার অন্য কর্মীরাও ওই ম্যানেজারের বিরুদ্ধে বর্ণবাদী আচরণের অভিযোগ তুলেছেন। একজন কর্মী জানান, ধর্মীয় কারণে মদ্যপান না করলেও ম্যানেজার প্রায়ই তাঁকে জোর করে মদ খাওয়াতে চাইতেন। ওই কর্মী আরও বলেন, ম্যানেজার আমাদের মানুষ বলে মনে করতেন না। অন্য এক কর্মীর দাবি, ম্যানেজার প্রায়ই তাঁদের কলার ধরে টানতেন এবং লাথি মারতেন। তিনি এমনকি বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে বাজে মন্তব্য করতেন।

নির্যাতনের ঘটনার নিন্দা জানিয়ে শ্রমমন্ত্রী কিম ইয়াং-হুন বলেন, বিদেশি কর্মীদের ওপর এমন সহিংসতা চরম মানবাধিকার লঙ্ঘন। এর পাশাপাশি স্পষ্ট ফৌজদারি অপরাধও বটে। মন্ত্রণালয় শুধু এই ঘটনাই নয়, বরং কারখানায় শ্রমিক সুরক্ষায় আরও কোনো ঘাটতি আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে। ভুক্তভোগী কর্মীর ইচ্ছানুযায়ী তাঁকে অস্থায়ী আশ্রয় দেওয়া এবং কর্মস্থল পরিবর্তনে সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

কোরিয়ান কনফেডারেশন অফ ট্রেড ইউনিয়ন (কেসিটিইউ) জানিয়েছে, ভুক্তভোগী বাংলাদেশি ই-নাইন ভিসায় সেখানে কাজ করছিলেন। এই ভিসা মূলত অপেশাদার খাতে কাজের জন্য বিদেশি নাগরিকদের দেওয়া হয়।

কেসিটিইউর নারী কমিটির কোয়ান সু-জং সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, অভিবাসী কর্মীরা এখন প্রশাসনের বদলে গণমাধ্যমের ওপর বেশি আস্থা রাখছেন। এই পরিস্থিতির দেশের আইন এবং শ্রম সংস্থাগুলোর ভূমিকা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তৈরি করছে।

তথ্যসূত্র: দ্য কোরিয়া হেরাল্ড এবং ডন

সম্পর্কিত