আমানের ক্ষমা চাওয়া দেখতে চেয়েছিলেন সাদিক কায়েম

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৮: ২৬
সংগৃহীত ছবি

সম্প্রতি ফেসবুকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের সহসভাপতি সাদিক কায়েমের একটি ভিডিও ছড়িয়ে দাবি করা হচ্ছে, গুজব ছড়ানোর দায়ে তিনি প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছেন। ভিডিওটির ক্যাপশনেও বলা হচ্ছে, ‘গুজব ছড়ানোর দায়ে ক্ষমা চাইলে নীলক্ষেতের ভিপি সাদিক কায়েম।’

স্ট্রিমের যাচাইয়ে দেখা গেছে, দাবিটি সঠিক নয়। প্রচারিত ভিডিওটি গুজব ছড়ানোর দায়ে সাদিক কায়েমের ক্ষমা চাওয়ার নয়। প্রকৃতপক্ষে, একটি টকশোতে তিনি অন্য এক অতিথিকে উদ্দেশে এ কথা বলেন, যা ভিন্ন অর্থে প্রচার করা হচ্ছে।

এ ধরনের পোস্ট দেখুন এখানে, এখানে, এবং এখানে

প্রচারিত ভিডিওটি পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, সেখানে সাদিক কায়েমকে বলতে শোনা যায়, ‘ঘটনার জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চাই। এটা একটা কলঙ্কজনক অধ্যায় আমরা রচনা করেছি, আমরা আর জীবনে কখনো এই ধরনের কাজ করব না।’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই অংশটুকু আলাদা করে ছড়িয়ে দাবি করা হচ্ছে, তিনি নিজেই গুজব ছড়ানোর দায় স্বীকার করে ক্ষমা চাইছেন।

রিভার্স ইমেজ সার্চের মাধ্যমে ভিডিওটির উৎস হিসেবে স্টার নিউজের ‘কড়া আলাপ’ নামের একটি টকশো খুঁজে পাওয়া যায়। টকশোটির আলোচ্য বিষয় ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন ক্যাম্পাসে ছাত্রসংগঠনগুলোর রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তার, সাইবার যুদ্ধ এবং সাম্প্রতিক সংঘর্ষ। অনুষ্ঠানে আলোচনার জন্য উপস্থিত ছিলেন ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আমানুল্লাহ আমান, জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসান এবং ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম।

প্রায় ৪ মিনিট ৫৮ সেকেন্ডের ওই ভিডিওটির ৩ মিনিট ৩৪ সেকেন্ডের দিকে সাদিক কায়েমকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি আমান ভাই থেকে খুব আশা করেছিলাম, যখন এই নির্বাচিত সরকার আসার পরে, আমান ভাইয়ের যে দীর্ঘদিন ধরে তারা মবের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন, গণতন্ত্রের কথা বলেছেন, যখন একটা ফেক স্ক্রিনশটের ওপর ভিত্তি করে একজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শাহবাগ থানায় যাওয়ার পরে তখন তাকে মব তৈরি করে, সাংবাদিকদের মব তৈরি করে হামলা করা হলো। ওসির সামনে মব তৈরি করে তার যারা সহযোদ্ধা ছিল তাদের ওপর হামলা হলো, ডাকসুর নেতৃবৃন্দ যারা ছিল তাদের ওপর হামলা হলো। আমি আশা করেছিলাম আমাদের শ্রদ্ধেয় আমান ভাই জাতির কাছে হাত তুলে বলবেন যে আমরা এই ঘটনার জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চাই। এটা একটা কলঙ্কজনক অধ্যায় আমরা রচনা করেছি, আমরা আর জীবনে কখনো এই ধরনের কাজ করব না।’

অর্থাৎ পুরো বক্তব্যে সাদিক কায়েম নিজে গুজব ছড়ানোর দায় স্বীকার করে ক্ষমা চাননি। তিনি একটি ফেক স্ক্রিনশটকে কেন্দ্র করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী শাহবাগ থানায় যাওয়ার পর মব তৈরি ও হামলার অভিযোগ তুলে আমানুল্লাহ আমানের কাছ থেকে ক্ষমা প্রার্থনার প্রত্যাশা প্রকাশ করছিলেন।

‘গুজব ছড়ানোর দায়ে ক্ষমা চাইলে নীলক্ষেতের ভিপি সাদিক কায়েম’ দাবিতে প্রচারিত ভিডিও বিভ্রান্তিকর।

সম্পর্কিত