যুক্তরাষ্ট্রে দুই বাংলাদেশি হত্যা: তদন্ত চ্যাটজিপিটির বিরুদ্ধেও

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৯: ৩৯
অভিযুক্ত হিশাম সালেহ আবুঘরবেহ ও চ্যাটজিপিটির ইন্টারফেস। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী হত্যার ঘটনায় আলোচনায় এসেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট চ্যাটজিপিটি এবং এর নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই মামলায় প্রযুক্তির সম্ভাব্য ব্যবহারও খতিয়ে দেখা হবে।

ফ্লোরিডার অ্যাটর্নি জেনারেল জেমস উথমায়ার ঘোষণা দিয়েছেন, ওপেন এআইয়ের বিরুদ্ধে চলমান ফৌজদারি তদন্তের পরিধি বাড়িয়ে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার ওই দুই শিক্ষার্থী হত্যাকাণ্ডকে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।

তাঁর এক্স-হ্যান্ডেলে দেওয়া এক বার্তায় দাবি করেন, মামলার প্রধান সন্দেহভাজন অপরাধ সংগঠনের আগে চ্যাটজিপিটির সহায়তা নিয়েছিলেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে।

প্রায় এক সপ্তাহ আগে, ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে পৃথক ফৌজদারি তদন্ত শুরুর ঘোষণা দিয়েছিলেন তিনি।

ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির হত্যাকাণ্ডের তদন্তে উঠে এসেছে, প্রধান সন্দেহভাজন ২৬ বছর বয়সি হিশাম আবুঘরবেহ ঘটনার আগে ও পরে চ্যাটজিপিটিতে একাধিক প্রশ্ন করেছিলেন।

আদালতে জমা দেওয়া নথি অনুযায়ী, নিখোঁজ হওয়ার কয়েকদিন আগে তিনি জানতে চান, কোনো ব্যক্তিকে কালো ময়লার ব্যাগে ভরে ডাস্টবিনে ফেললে কী ঘটে। পরে তিনি আরও প্রশ্ন করেন, এমন ঘটনা ঘটলে তা কীভাবে ধরা পড়তে পারে।

গত ১৬ এপ্রিল দুই শিক্ষার্থীকে সর্বশেষ দেখা যায়। পরদিন তাদের নিখোঁজ ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে ফ্লোরিডার হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড ব্রিজের কাছে একটি কালো ময়লার ব্যাগ থেকে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার শরীরে একাধিক ছুরিকাঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

জাহিদা বৃষ্টির মরদেহ এখনো পাওয়া যায়নি। অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের তদন্তে সন্দেহভাজন হিশাম আবুঘরবেহর বাসা থেকে রক্তের দাগ, রক্তমাখা পোশাক, ডাক্ট টেপসহ ভুক্তিভোগীদের বিভিন্ন ব্যক্তিগত সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া একটি ট্র্যাশ কমপ্যাক্টর থেকে লিমনের মানিব্যাগ, চশমা এবং বৃষ্টির আইফোনের কেস পাওয়া যায়।

তদন্তকারীরা আরও জানায়, ঘটনার রাতে সন্দেহভাজনের গাড়ির গতিপথ জামিল ও বৃষ্টির মোবাইল ফোনের অবস্থানের সঙ্গে মিল পাওয়া গেছে। পরবর্তীতে গাড়িটি ধুয়ে পরিষ্কার করা হয়েছিল বলেও প্রমাণ মিলেছে।

এছাড়া, চ্যাটজিপিটিতে করা অন্যান্য প্রশ্নের মধ্যে ছিল—গাড়ির ভিআইএন নম্বর পরিবর্তন করা, লাইসেন্স ছাড়া বাড়িতে অস্ত্র রাখা বৈধতা এবং গুলির শব্দ প্রতিবেশীরা শুনতে পাবে কি না বিষয়ে।

বর্তমানে হিশামের বিরুদ্ধে দুটি সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের (ফার্স্ট ডিগ্রি মার্ডার) অভিযোগ আনা হয়েছে এবং বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে আটক রাখার আবেদন করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে ১৭ এপ্রিল নিখোঁজ হন লিমন ও বৃষ্টি। দুজনই ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার পিএইচডি শিক্ষার্থী। ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন লিমন। অন্যদিকে নাহিদা পিএইচডি করছিলেন কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে। নিখোঁজ হওয়ার আগের দিন দুজনকে সর্বশেষ ক্যাম্পাসে দেখা গিয়েছিল।

তাঁদের নিখোঁজের ঘটনায় হিশাম সালেহ আবুঘরবেহ নামে ২৬ বছরের আমেরিকার এক নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে স্থানীয় পুলিশ। তিনি জামিলের সঙ্গে একই কক্ষে থাকতেন।

তথ্যসুত্র: টাম্পাবে

সম্পর্কিত