১০ বছর পর ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশনে ভোট, বিপুল ব্যবধানে চেয়ারম্যান মোশাররফ

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ১২ জুলাই ২০২৬, ১৫: ৫৩
বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশনের নবনির্বাচিত সভাপতি মো. মোশাররফ হোসেন। সংগৃহীত ছবি

দীর্ঘ ১০ বছর পর অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফএ) ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের নির্বাচনে বিপুল ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন মো. মোশাররফ হোসেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বগুড়া-৭ আসনের সংসদ সদস্য মোরশেদ মিল্টন পেয়েছেন মাত্র ৪৩ ভোট।

শনিবার (১১ জুলাই) রাজধানীর বকশীবাজারে আলিয়া মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে কারা কনভেনশন সেন্টারে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এই ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। রাতেই বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ও নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান সন্দীপ কুমার সরকারের স্বাক্ষরে আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হয়।

বিএফএ নির্বাচন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, সারা দেশে সংগঠনটির মোট ভোটার ৪ হাজার ২০০ জন। এর মধ্যে শনিবার ২ হাজার ৬২ জন ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। ভোট গণনায় ১ হাজার ৯৩৯টি ভোট বৈধ এবং ১২৩টি ভোট বাতিল বলে গণ্য হয়।

ঘোষিত ফলাফলে দেখা যায়, চেয়ারম্যান পদে মো. মোশাররফ হোসেন ১ হাজার ৮৯৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। অন্যদিকে পরিচালক (অর্থ) পদে মো. আলাউদ্দিন চৌধুরী ১ হাজার ৮৪৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। এই পদে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী মো. এনামুল হক পেয়েছেন ৯৫ ভোট।

বিএফএর সেক্রেটারি রিয়াজ আহমেদ জানান, সংগঠনের মোট ৩৩টি পদের মধ্যে দেশের ৪টি বিভাগীয় অঞ্চল থেকে ইতিমধ্যে ৩১ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। ফলে শনিবার কেবল চেয়ারম্যান ও পরিচালক (অর্থ)—এই দুই পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। চূড়ান্ত ফলাফলের তালিকায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ফার্স্ট ভাইস-চেয়ারম্যান মো. মামুনুর রশিদ খান এবং চারজন ভাইস-চেয়ারম্যানসহ অন্যান্য পরিচালকদের নাম প্রকাশ করা হয়েছে।

আইনি বাধা পেরিয়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া প্রসঙ্গে নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘বিগত ১০ বছর পর বিএফএর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। একটি পক্ষ নির্বাচন বানচাল করতে রিট করেছিল, তবে আদালত তা খারিজ করে দিয়েছেন।’

আগামী দিনের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ডিলার ও কৃষকদের কল্যাণের জন্যই বিএফএ কাজ করে। আমি এ খাতের প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করে সম্মিলিতভাবে কাজ করব।’

তবে নির্বাচনের এই ফলাফল ও প্রক্রিয়া নিয়ে অসন্তোষ জানিয়েছেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মোরশেদ মিল্টন। নির্বাচনের আগের দিন শুক্রবার (১০ জুলাই) এক বিজ্ঞপ্তিতে এই নির্বাচন ঘিরে গভীর উদ্বেগ ও হতাশা প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা এবং সব সদস্যের সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়নি।

নেতৃত্বে এলেন যাঁরা—

চেয়ারম্যান ও ভাইস-চেয়ারম্যান:

১. মো. মোশাররফ হোসেন (চেয়ারম্যান)
২. মো. মামুনুর রশিদ খান (ফার্স্ট ভাইস-চেয়ারম্যান)
৩. মাহমুদ হাসান রাজু (ভাইস-চেয়ারম্যান - নর্দান)
৪. এস এম বাবুল (ভাইস-চেয়ারম্যান - সেন্ট্রাল)
৫. মো. নূর আলম পাটোয়ারী (ভাইস-চেয়ারম্যান - সাউথ-ওয়েস্টার্ন)
৬. মোহাম্মদ হাকিম আলী (ভাইস-চেয়ারম্যান - ইস্টার্ন)

পরিচালক (অর্থ):

৭. মো. আলাউদ্দিন চৌধুরী

পরিচালক (জেনারেল মেম্বার):

৮. মো. খালেকুজ্জামান (সেন্ট্রাল)
৯. মো. আব্দুস সালাম মিয়া বাবু (সেন্ট্রাল)
১০. মো. চান মিয়া (সেন্ট্রাল)
১১. মো. সাইদুর রহমান (সেন্ট্রাল)
১২. মোবারক হোসেন বাচ্চু (সেন্ট্রাল)
১৩. মোহাম্মদ আবিদুর রহমান ভূঁইয়া (ইস্টার্ন)
১৪. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন (ইস্টার্ন)
১৫. মোহাম্মদ আনিসুল হক মজুমদার (ইস্টার্ন)
১৬. মো. জাহাঙ্গীর আলম (ইস্টার্ন)
১৭. মো. মোসাদ্দেক হোসেন (নর্দান)
১৮. মো. আব্দুল মজিদ (নর্দান)
১৯. মো. শহিদুল ইসলাম (নর্দান)
২০. মো. আবুল হাসেম (নর্দান)
২১. মো. ওসমান আলী (নর্দান)
২২. মো. আব্দুর রহমান (সাউথ-ওয়েস্টার্ন)
২৩. মো. হাসান মেহেদী রেজভী (সাউথ-ওয়েস্টার্ন)
২৪. এ কে এম আমিনুল ইসলাম (সাউথ-ওয়েস্টার্ন)
২৫. জি. এম. মোর্শেদ (সাউথ-ওয়েস্টার্ন)

পরিচালক (অ্যাসোসিয়েট মেম্বার):

২৬. মো. শামীম আল আলম (সেন্ট্রাল)
২৭. জাবেদুল ইসলাম সোহাগ (ইস্টার্ন)
২৮. মো. কামাল হোসেন (সাউথ-ওয়েস্টার্ন)

অন্যান্য পরিচালক:

২৯. মোহাম্মদ সাইফুল হুদা (ম্যানুফ্যাকচারারস)
৩০. মো. সাইদুর রহমান খান (ম্যানুফ্যাকচারারস)
৩১. ওমর ফারুক (ইমপোর্টারস)
৩২. রশিদুল হাসান (ইনডেনটরস)

Ad 300x250

সম্পর্কিত