সুমন সুবহান

আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতির চরম উত্তেজনাকর মুহূর্তে গত ১৭ জুন ফ্রান্সের ভার্সাই প্রাসাদে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের মধ্যে একটি প্রাথমিক সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও তার স্থায়ী স্থায়িত্ব এক মাসও টিকতে পারেনি। হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করা এবং তেহরানের ওপর থেকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে তেল বিক্রির সুযোগ দেওয়ার এই ট্রাম্পীয় কৌশলটি মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি আনবে বলে ধারণা করা হয়েছিল। তবে হরমুজের নিকটবর্তী জলসীমায় তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে আকস্মিক হামলা সেই আশায় জল ঢেলে দিয়েছে।
এর প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের দুই রাতব্যাপী বিমান হামলা চালিয়ে ইরানের ১৭০টিরও বেশি সামরিক স্থাপনা ধ্বংস করেছে। এতে দুই দেশ আবার এক চরম অনিশ্চিত যুদ্ধের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। ওয়াশিংটনের এক হাজার ক্ষেপণাস্ত্রের প্রচ্ছন্ন হুমকি এবং তেহরানের অভ্যন্তরে সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর পর সৃষ্ট রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা বিশ্লেষণ করলে এটি স্পষ্ট হয় যে, ট্রাম্পের ‘বোমা ও চুক্তি’র দ্বিমুখী কৌশল বর্তমানে এক গভীর গোলকধাঁধায় পতিত হয়েছে, যার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও কৌশলগত ছাড়ের ওপর নির্ভরশীল।
গত ১৭ জুন ফ্রান্সের ঐতিহাসিক ভার্সাই প্রাসাদে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে যে প্রাথমিক সমঝোতা হয়েছিল, তা ছিল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের একটি উচ্চাভিলাষী ভূ-রাজনৈতিক জুয়া। ট্রাম্পের ধারণা ছিল, বহু বছর ধরে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার যাঁতাকলে পিষ্ট ইরান যখন আবার বিশ্ববাজারে তেল বিক্রি করে শত শত কোটি ডলার উপার্জন করতে পারবে, তখন তারা এই বিপুল অর্থনৈতিক সুবিধা হারাতে চাইবে না। ট্রাম্প বিশ্বাস করেছিলেন, বিপুল অর্থের এই লোভ এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার তাড়না ইরানকে আঞ্চলিক ক্ষেত্রে একরোখা আচরণ থেকে বিরত রাখবে এবং একটি শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে বাধ্য করবে। চুক্তির পর ট্রাম্প স্বয়ং দাবি করেছিলেন, ‘এটা ইরানের জন্য খুব ভালো চুক্তি। তারা বারবার হামলার শিকার হয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে।’
এই কৌশলের মাধ্যমে ওয়াশিংটন মূলত অর্থনৈতিক প্রলোভনকে ইরানের পরমাণু ও সামরিক আকাঙ্ক্ষা দমনের প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চেয়েছিল।
ভার্সাই চুক্তির এক মাস পার হওয়ার আগেই হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই দেশের দীর্ঘদিনের মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব আবারো সামনে চলে আসে। চুক্তিতে একটি সাধারণ ধারা উল্লেখ ছিল যে, ‘ইরান তার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে যাতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ নিরাপদে চলাচল করতে পারে।’ কিন্তু এই বাক্যটির ব্যাখ্যা দুই পক্ষ সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে নিজেদের মতো করে দাঁড় করায়, যা পরবর্তীতে বড় ধরনের সংঘাতের জন্ম দেয়।
যুক্তরাষ্ট্র ভেবেছিল, এই চুক্তির অর্থ হলো ইরান কেবল আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে এবং সমস্ত বাণিজ্যিক জাহাজের অবাধ যাতায়াত বজায় রাখবে। অন্যদিকে, ইরান এই ধারাটিকে তাদের নিজস্ব জলসীমার ওপর পূর্ণ সার্বভৌমত্ব ও কর্তৃত্বের স্বীকৃতি হিসেবে ধরে নেয়। তেহরানের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালির কোন পথ দিয়ে কোন জাহাজ চলাচল করবে তা সম্পূর্ণভাবে নির্ধারণ করবে তারা এবং ভবিষ্যতে এই আন্তর্জাতিক রুট ব্যবহারের জন্য তারা বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর কাছ থেকে সামুদ্রিক সেবা ফি বা শুল্ক আদায় করবে। ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স-এর একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, নতুন চুক্তির আওতায় প্রণালিটি শেষ পর্যন্ত ওমানের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে ইরান পরিচালনা করার অধিকার রাখে, যার মধ্যে সম্ভাব্য সেবা ফি নির্ধারণের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
ইরানের এই অনমনীয় অবস্থানের কারণে মার্কিন নৌবাহিনী ওমানের কাছের একটি বিকল্প রুট ব্যবহার করে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করাতে শুরু করলে ইরান এটিকে তাদের জলসীমার লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য করে। এর জের ধরে ওমানের জলসীমা ব্যবহারকারী তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে ইরান সরাসরি গুলি চালায় এবং হামলা চালায়। তেহরানের পক্ষ থেকে বারবার দাবি করা হয়, একমাত্র নিরাপদ পথ হলো তাদের নিজস্ব জলসীমা দিয়ে যাওয়া রুট এবং তারা পারস্য উপসাগরে নিজেদের একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য ‘পারস্য উপসাগর প্রণালি কর্তৃপক্ষ’ গঠনেরও চেষ্টা চালায়। এই হামলার পর ট্রাম্প প্রশাসন ক্ষুব্ধ হয়ে ঘোষণা করে যে, ভার্সাই চুক্তি এখন আর কার্যকর নয় এবং হোয়াইট হাউজ এটিকে সরাসরি যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন হিসেবে চিহ্নিত করে।
হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার পর ট্রাম্প প্রশাসন তাদের পূর্বের কঠোর সামরিক অবস্থানে ফিরে যায়। দুই রাত ধরে মার্কিন বিমান বাহিনী ইরানের ১৭০টিরও বেশি সামরিক স্থাপনা ও ঘাঁটিতে ব্যাপক বোমাবর্ষণ করে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স অত্যন্ত কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘যদি তারা জাহাজে হামলা করে, আমরা তাদের ওপর কঠোর হামলা চালাব।’
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে আরও তীব্র হুমকি দিয়ে লেখেন, ‘ইরানের দিকে তাক করে ১ হাজার ক্ষেপণাস্ত্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আরও হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হবে, যদি ইরান সরকার বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দেওয়া তাদের হুমকি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট অর্থাৎ আমাকে হত্যা করে বা হত্যার চেষ্টা করে! মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের পুরো এলাকাকে সম্পূর্ণরূপে নিশ্চিহ্ন ও ধ্বংস করে দিতে প্রস্তুত।’
নিউ ইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, ইরান দীর্ঘদিন ধরে তাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করছে এবং এর জবাবে তিনি মার্কিন সামরিক বাহিনীকে ইরানে পূর্ণ মাত্রার ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর আগাম নির্দেশ দিয়ে রেখেছেন। এই তীব্র সামরিক উত্তেজনা সত্ত্বেও, মার্কিন প্রশাসন ভেতরে ভেতরে কূটনৈতিক জানালা খোলা রাখার চেষ্টা করছে, যা ট্রাম্পের পরস্পরবিরোধী নীতির এক অনন্য উদাহরণ।
যুক্তরাষ্ট্রের এই ধারাবাহিক সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপের মুখে ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নজিরবিহীন ফাটল ও বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। সাম্প্রতিক মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর দেশের শাসনব্যবস্থার মূল স্তম্ভটি দুর্বল হয়ে পড়েছে। খামেনির জানাজায় অংশ নেওয়া হাজার হাজার সাধারণ মানুষ ও কট্টরপন্থীরা সরকারের বর্তমান নমনীয় নীতি ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টার অভিযোগ তুলে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে।
এই ক্ষোভের প্রথম শিকার হন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। বিক্ষুব্ধ জনতা তার দিকে পাথর ছুড়ে মারে, তাকে ‘আমেরিকার সমঝোতাকারী’ বলে গালি দেয় এবং তার মৃত্যু কামনা করে স্লোগান দেয়। পরিস্থিতি এতটাই বেগতিক ছিল যে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকেও বিক্ষুব্ধ জনতার হাত থেকে রক্ষা করতে তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মীরা দ্রুত সভাস্থল থেকে সরিয়ে নিতে বাধ্য হন।
মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনাটি ইরানের কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশে হয়নি, বরং খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের ভেতরে তৈরি হওয়া একটি ‘নিয়ন্ত্রণহীন কট্টরপন্থী গোষ্ঠী’ এই আলোচনা ও চুক্তি ভেস্তে দেওয়ার জন্য এই হামলা চালিয়েছিল। তেহরান গোপনে ট্রাম্পের উপদেষ্টাদের কাছে স্বীকার করেছে যে, জাহাজে গুলি চালানো একটি ভুল ছিল এবং তারা আলোচনা চালিয়ে যেতে চায়।
সাবেক মার্কিন কূটনীতিক রিচার্ড হাস ওয়াশিংটন-তেহরান সম্পর্কের এই বর্তমান অচলাবস্থাকে একটি ‘কৌশলগত শূন্যতা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, ‘আমরা এখন এমন এক অবস্থায় আছি, যেখানে কোনো ভালো কৌশল দেখা যাচ্ছে না।’ তিনি বিশ্লেষণ করে দেখান যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যত বেশি ইরানে সামরিক হামলা চালাচ্ছে, ইরান তত বেশি উপসাগরের তেল ও জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে, যা মার্কিন নৌবাহিনী পুরোপুরি রক্ষা করতে পারছে না। হাসের মতে, ট্রাম্পের পূর্ববর্তী দুটি ধারণাই ভুল প্রমাণিত হয়েছে—প্রথমত, বোমা মেরে ইরানের শাসনব্যবস্থা বা সরকার বদলে ফেলা, এবং দ্বিতীয়ত, বোমার ভয়ে ইরানকে সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ করানো। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই সংকটের মূল সমস্যাগুলো প্রযুক্তিগত নয়, বরং সম্পূর্ণ রাজনৈতিক, যা নিচের দুটি প্রধান বিষয়ের ওপর ঝুলে আছে।
২০১৫ সালের ওবামা সরকারের চুক্তির মতো ইরানকে ৯৭ শতাংশ পারমাণবিক জ্বালানি ছেড়ে দিতে হবে বলে ট্রাম্প দাবি করছেন। কারণ তিনি ওবামার চেয়ে কম কোনো কৃতিত্ব মেনে নেবেন না। পক্ষান্তরে ইরান তাদের নিজস্ব পারমাণবিক জ্বালানি ও সমৃদ্ধকরণ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায়।
ওয়াশিংটন চায় প্রণালির আন্তর্জাতিক রুটের অবাধ ও সম্পূর্ণ মুক্ত চলাচল, যেখানে কোনো সামরিক হস্তক্ষেপ থাকবে না। অন্যদিকে তেহরানের দাবি, তারা ওমানের সাথে যৌথভাবে এই রুট নিয়ন্ত্রণ করবে এবং চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে শুল্ক আদায় করবে।
চুক্তি ভঙ্গ এবং তীব্র সামরিক সংঘাতের পরেও আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীদের চাপে দুই পক্ষই পুনরায় আলোচনার টেবিলে বসতে সম্মত হয়েছে। ওমানের মাস্কাটে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক নির্ধারিত হয়েছে, যেখানে মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের প্রভাবশালী জামাতা জ্যারেড কুশনার। অন্যদিকে, কাতারও এই উত্তেজনা প্রশমনে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে এবং কাতারের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল ইতিমধ্যেই তেহরান সফর করেছে।
ওয়াশিংটন এবার আলোচনার পূর্বশর্ত হিসেবে ইরানের কাছ থেকে একটি প্রকাশ্য ও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দাবি করেছে, যেখানে ইরানকে স্পষ্ট করে বলতে হবে যে হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য উন্মুক্ত এবং বাণিজ্যিক জাহাজে গুলি চালানো একটি ভুল ছিল। ট্রাম্প তাঁর ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, ‘ইরান আমাদেরকে আলোচনা চালিয়ে যেতে বলেছে। আমরা তাতে সম্মত হয়েছি, তবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে যুদ্ধবিরতি শেষ হয়ে গেছে।’ এর অর্থ হলো, আলোচনার টেবিলে বসার পাশাপাশি মার্কিন সামরিক চাপ পূর্ণ মাত্রায় বজায় থাকবে।
হামলা, নিষেধাজ্ঞা এবং ক্ষণস্থায়ী চুক্তির এই গোলকধাঁধায় মার্কিন-ইরান সম্পর্কের ভবিষ্যৎ বর্তমানে এক চরম অনিশ্চয়তার সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। ট্রাম্প প্রশাসনের সামরিক শক্তি প্রদর্শন এবং ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা সাময়িকভাবে তেহরানকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনলেও, মৌলিক রাজনৈতিক ও কৌশলগত বিরোধগুলোর সমাধান না হলে যেকোনো নতুন চুক্তিই আবার ভেস্তে যেতে পারে।
হরমুজ প্রণালির সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং পারমাণবিক কর্মসূচির সীমাবদ্ধতা নিয়ে দুই দেশের পরস্পরবিরোধী অবস্থান প্রমাণ করে যে, কেবল অর্থনৈতিক প্রলোভন বা ১০০০ ক্ষেপণাস্ত্রের ভয় দেখিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা অসম্ভব। ইরানের অভ্যন্তরে কট্টরপন্থীদের নিয়ন্ত্রণহীন আচরণ এবং ওয়াশিংটনের ওবামা-আমলের চেয়েও কঠোর চুক্তি পাওয়ার জেদ এই সংকটকে আরও দীর্ঘায়িত করবে।
ওমানের আসন্ন সংলাপ তখনই সফল হতে পারে, যদি উভয় পক্ষই তাদের চরমপন্থী অবস্থান থেকে সরে এসে একটি বাস্তবসম্মত ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য সমঝোতায় পৌঁছাতে রাজি হয়। চূড়ান্ত বিচারে, ট্রাম্প যদি তার সামরিক আগ্রাসন ও একপেশে কূটনৈতিক চাপের বৃত্ত থেকে বের হতে না পারেন, তবে এই গোলকধাঁধা শেষ পর্যন্ত পারস্য উপসাগরে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ও বিধ্বংসী আঞ্চলিক যুদ্ধের জন্ম দিতে পারে।

আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতির চরম উত্তেজনাকর মুহূর্তে গত ১৭ জুন ফ্রান্সের ভার্সাই প্রাসাদে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের মধ্যে একটি প্রাথমিক সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও তার স্থায়ী স্থায়িত্ব এক মাসও টিকতে পারেনি। হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করা এবং তেহরানের ওপর থেকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে তেল বিক্রির সুযোগ দেওয়ার এই ট্রাম্পীয় কৌশলটি মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি আনবে বলে ধারণা করা হয়েছিল। তবে হরমুজের নিকটবর্তী জলসীমায় তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে আকস্মিক হামলা সেই আশায় জল ঢেলে দিয়েছে।
এর প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের দুই রাতব্যাপী বিমান হামলা চালিয়ে ইরানের ১৭০টিরও বেশি সামরিক স্থাপনা ধ্বংস করেছে। এতে দুই দেশ আবার এক চরম অনিশ্চিত যুদ্ধের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। ওয়াশিংটনের এক হাজার ক্ষেপণাস্ত্রের প্রচ্ছন্ন হুমকি এবং তেহরানের অভ্যন্তরে সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর পর সৃষ্ট রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা বিশ্লেষণ করলে এটি স্পষ্ট হয় যে, ট্রাম্পের ‘বোমা ও চুক্তি’র দ্বিমুখী কৌশল বর্তমানে এক গভীর গোলকধাঁধায় পতিত হয়েছে, যার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও কৌশলগত ছাড়ের ওপর নির্ভরশীল।
গত ১৭ জুন ফ্রান্সের ঐতিহাসিক ভার্সাই প্রাসাদে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে যে প্রাথমিক সমঝোতা হয়েছিল, তা ছিল প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের একটি উচ্চাভিলাষী ভূ-রাজনৈতিক জুয়া। ট্রাম্পের ধারণা ছিল, বহু বছর ধরে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার যাঁতাকলে পিষ্ট ইরান যখন আবার বিশ্ববাজারে তেল বিক্রি করে শত শত কোটি ডলার উপার্জন করতে পারবে, তখন তারা এই বিপুল অর্থনৈতিক সুবিধা হারাতে চাইবে না। ট্রাম্প বিশ্বাস করেছিলেন, বিপুল অর্থের এই লোভ এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার তাড়না ইরানকে আঞ্চলিক ক্ষেত্রে একরোখা আচরণ থেকে বিরত রাখবে এবং একটি শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে বাধ্য করবে। চুক্তির পর ট্রাম্প স্বয়ং দাবি করেছিলেন, ‘এটা ইরানের জন্য খুব ভালো চুক্তি। তারা বারবার হামলার শিকার হয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে।’
এই কৌশলের মাধ্যমে ওয়াশিংটন মূলত অর্থনৈতিক প্রলোভনকে ইরানের পরমাণু ও সামরিক আকাঙ্ক্ষা দমনের প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চেয়েছিল।
ভার্সাই চুক্তির এক মাস পার হওয়ার আগেই হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই দেশের দীর্ঘদিনের মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব আবারো সামনে চলে আসে। চুক্তিতে একটি সাধারণ ধারা উল্লেখ ছিল যে, ‘ইরান তার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে যাতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ নিরাপদে চলাচল করতে পারে।’ কিন্তু এই বাক্যটির ব্যাখ্যা দুই পক্ষ সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে নিজেদের মতো করে দাঁড় করায়, যা পরবর্তীতে বড় ধরনের সংঘাতের জন্ম দেয়।
যুক্তরাষ্ট্র ভেবেছিল, এই চুক্তির অর্থ হলো ইরান কেবল আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে এবং সমস্ত বাণিজ্যিক জাহাজের অবাধ যাতায়াত বজায় রাখবে। অন্যদিকে, ইরান এই ধারাটিকে তাদের নিজস্ব জলসীমার ওপর পূর্ণ সার্বভৌমত্ব ও কর্তৃত্বের স্বীকৃতি হিসেবে ধরে নেয়। তেহরানের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালির কোন পথ দিয়ে কোন জাহাজ চলাচল করবে তা সম্পূর্ণভাবে নির্ধারণ করবে তারা এবং ভবিষ্যতে এই আন্তর্জাতিক রুট ব্যবহারের জন্য তারা বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর কাছ থেকে সামুদ্রিক সেবা ফি বা শুল্ক আদায় করবে। ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স-এর একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, নতুন চুক্তির আওতায় প্রণালিটি শেষ পর্যন্ত ওমানের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে ইরান পরিচালনা করার অধিকার রাখে, যার মধ্যে সম্ভাব্য সেবা ফি নির্ধারণের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
ইরানের এই অনমনীয় অবস্থানের কারণে মার্কিন নৌবাহিনী ওমানের কাছের একটি বিকল্প রুট ব্যবহার করে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করাতে শুরু করলে ইরান এটিকে তাদের জলসীমার লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য করে। এর জের ধরে ওমানের জলসীমা ব্যবহারকারী তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে ইরান সরাসরি গুলি চালায় এবং হামলা চালায়। তেহরানের পক্ষ থেকে বারবার দাবি করা হয়, একমাত্র নিরাপদ পথ হলো তাদের নিজস্ব জলসীমা দিয়ে যাওয়া রুট এবং তারা পারস্য উপসাগরে নিজেদের একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য ‘পারস্য উপসাগর প্রণালি কর্তৃপক্ষ’ গঠনেরও চেষ্টা চালায়। এই হামলার পর ট্রাম্প প্রশাসন ক্ষুব্ধ হয়ে ঘোষণা করে যে, ভার্সাই চুক্তি এখন আর কার্যকর নয় এবং হোয়াইট হাউজ এটিকে সরাসরি যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন হিসেবে চিহ্নিত করে।
হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার পর ট্রাম্প প্রশাসন তাদের পূর্বের কঠোর সামরিক অবস্থানে ফিরে যায়। দুই রাত ধরে মার্কিন বিমান বাহিনী ইরানের ১৭০টিরও বেশি সামরিক স্থাপনা ও ঘাঁটিতে ব্যাপক বোমাবর্ষণ করে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স অত্যন্ত কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘যদি তারা জাহাজে হামলা করে, আমরা তাদের ওপর কঠোর হামলা চালাব।’
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে আরও তীব্র হুমকি দিয়ে লেখেন, ‘ইরানের দিকে তাক করে ১ হাজার ক্ষেপণাস্ত্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। আরও হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হবে, যদি ইরান সরকার বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দেওয়া তাদের হুমকি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট অর্থাৎ আমাকে হত্যা করে বা হত্যার চেষ্টা করে! মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের পুরো এলাকাকে সম্পূর্ণরূপে নিশ্চিহ্ন ও ধ্বংস করে দিতে প্রস্তুত।’
নিউ ইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, ইরান দীর্ঘদিন ধরে তাকে হত্যার ষড়যন্ত্র করছে এবং এর জবাবে তিনি মার্কিন সামরিক বাহিনীকে ইরানে পূর্ণ মাত্রার ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর আগাম নির্দেশ দিয়ে রেখেছেন। এই তীব্র সামরিক উত্তেজনা সত্ত্বেও, মার্কিন প্রশাসন ভেতরে ভেতরে কূটনৈতিক জানালা খোলা রাখার চেষ্টা করছে, যা ট্রাম্পের পরস্পরবিরোধী নীতির এক অনন্য উদাহরণ।
যুক্তরাষ্ট্রের এই ধারাবাহিক সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপের মুখে ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নজিরবিহীন ফাটল ও বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। সাম্প্রতিক মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর দেশের শাসনব্যবস্থার মূল স্তম্ভটি দুর্বল হয়ে পড়েছে। খামেনির জানাজায় অংশ নেওয়া হাজার হাজার সাধারণ মানুষ ও কট্টরপন্থীরা সরকারের বর্তমান নমনীয় নীতি ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টার অভিযোগ তুলে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে।
এই ক্ষোভের প্রথম শিকার হন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। বিক্ষুব্ধ জনতা তার দিকে পাথর ছুড়ে মারে, তাকে ‘আমেরিকার সমঝোতাকারী’ বলে গালি দেয় এবং তার মৃত্যু কামনা করে স্লোগান দেয়। পরিস্থিতি এতটাই বেগতিক ছিল যে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকেও বিক্ষুব্ধ জনতার হাত থেকে রক্ষা করতে তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মীরা দ্রুত সভাস্থল থেকে সরিয়ে নিতে বাধ্য হন।
মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনাটি ইরানের কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশে হয়নি, বরং খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের ভেতরে তৈরি হওয়া একটি ‘নিয়ন্ত্রণহীন কট্টরপন্থী গোষ্ঠী’ এই আলোচনা ও চুক্তি ভেস্তে দেওয়ার জন্য এই হামলা চালিয়েছিল। তেহরান গোপনে ট্রাম্পের উপদেষ্টাদের কাছে স্বীকার করেছে যে, জাহাজে গুলি চালানো একটি ভুল ছিল এবং তারা আলোচনা চালিয়ে যেতে চায়।
সাবেক মার্কিন কূটনীতিক রিচার্ড হাস ওয়াশিংটন-তেহরান সম্পর্কের এই বর্তমান অচলাবস্থাকে একটি ‘কৌশলগত শূন্যতা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, ‘আমরা এখন এমন এক অবস্থায় আছি, যেখানে কোনো ভালো কৌশল দেখা যাচ্ছে না।’ তিনি বিশ্লেষণ করে দেখান যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যত বেশি ইরানে সামরিক হামলা চালাচ্ছে, ইরান তত বেশি উপসাগরের তেল ও জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে, যা মার্কিন নৌবাহিনী পুরোপুরি রক্ষা করতে পারছে না। হাসের মতে, ট্রাম্পের পূর্ববর্তী দুটি ধারণাই ভুল প্রমাণিত হয়েছে—প্রথমত, বোমা মেরে ইরানের শাসনব্যবস্থা বা সরকার বদলে ফেলা, এবং দ্বিতীয়ত, বোমার ভয়ে ইরানকে সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ করানো। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই সংকটের মূল সমস্যাগুলো প্রযুক্তিগত নয়, বরং সম্পূর্ণ রাজনৈতিক, যা নিচের দুটি প্রধান বিষয়ের ওপর ঝুলে আছে।
২০১৫ সালের ওবামা সরকারের চুক্তির মতো ইরানকে ৯৭ শতাংশ পারমাণবিক জ্বালানি ছেড়ে দিতে হবে বলে ট্রাম্প দাবি করছেন। কারণ তিনি ওবামার চেয়ে কম কোনো কৃতিত্ব মেনে নেবেন না। পক্ষান্তরে ইরান তাদের নিজস্ব পারমাণবিক জ্বালানি ও সমৃদ্ধকরণ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায়।
ওয়াশিংটন চায় প্রণালির আন্তর্জাতিক রুটের অবাধ ও সম্পূর্ণ মুক্ত চলাচল, যেখানে কোনো সামরিক হস্তক্ষেপ থাকবে না। অন্যদিকে তেহরানের দাবি, তারা ওমানের সাথে যৌথভাবে এই রুট নিয়ন্ত্রণ করবে এবং চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে শুল্ক আদায় করবে।
চুক্তি ভঙ্গ এবং তীব্র সামরিক সংঘাতের পরেও আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীদের চাপে দুই পক্ষই পুনরায় আলোচনার টেবিলে বসতে সম্মত হয়েছে। ওমানের মাস্কাটে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক নির্ধারিত হয়েছে, যেখানে মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের প্রভাবশালী জামাতা জ্যারেড কুশনার। অন্যদিকে, কাতারও এই উত্তেজনা প্রশমনে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে এবং কাতারের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল ইতিমধ্যেই তেহরান সফর করেছে।
ওয়াশিংটন এবার আলোচনার পূর্বশর্ত হিসেবে ইরানের কাছ থেকে একটি প্রকাশ্য ও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দাবি করেছে, যেখানে ইরানকে স্পষ্ট করে বলতে হবে যে হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য উন্মুক্ত এবং বাণিজ্যিক জাহাজে গুলি চালানো একটি ভুল ছিল। ট্রাম্প তাঁর ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, ‘ইরান আমাদেরকে আলোচনা চালিয়ে যেতে বলেছে। আমরা তাতে সম্মত হয়েছি, তবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে যুদ্ধবিরতি শেষ হয়ে গেছে।’ এর অর্থ হলো, আলোচনার টেবিলে বসার পাশাপাশি মার্কিন সামরিক চাপ পূর্ণ মাত্রায় বজায় থাকবে।
হামলা, নিষেধাজ্ঞা এবং ক্ষণস্থায়ী চুক্তির এই গোলকধাঁধায় মার্কিন-ইরান সম্পর্কের ভবিষ্যৎ বর্তমানে এক চরম অনিশ্চয়তার সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। ট্রাম্প প্রশাসনের সামরিক শক্তি প্রদর্শন এবং ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা সাময়িকভাবে তেহরানকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনলেও, মৌলিক রাজনৈতিক ও কৌশলগত বিরোধগুলোর সমাধান না হলে যেকোনো নতুন চুক্তিই আবার ভেস্তে যেতে পারে।
হরমুজ প্রণালির সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং পারমাণবিক কর্মসূচির সীমাবদ্ধতা নিয়ে দুই দেশের পরস্পরবিরোধী অবস্থান প্রমাণ করে যে, কেবল অর্থনৈতিক প্রলোভন বা ১০০০ ক্ষেপণাস্ত্রের ভয় দেখিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা অসম্ভব। ইরানের অভ্যন্তরে কট্টরপন্থীদের নিয়ন্ত্রণহীন আচরণ এবং ওয়াশিংটনের ওবামা-আমলের চেয়েও কঠোর চুক্তি পাওয়ার জেদ এই সংকটকে আরও দীর্ঘায়িত করবে।
ওমানের আসন্ন সংলাপ তখনই সফল হতে পারে, যদি উভয় পক্ষই তাদের চরমপন্থী অবস্থান থেকে সরে এসে একটি বাস্তবসম্মত ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য সমঝোতায় পৌঁছাতে রাজি হয়। চূড়ান্ত বিচারে, ট্রাম্প যদি তার সামরিক আগ্রাসন ও একপেশে কূটনৈতিক চাপের বৃত্ত থেকে বের হতে না পারেন, তবে এই গোলকধাঁধা শেষ পর্যন্ত পারস্য উপসাগরে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ও বিধ্বংসী আঞ্চলিক যুদ্ধের জন্ম দিতে পারে।
.png)

জলবায়ু পরিবর্তনের রূঢ় বাস্তবতাও আমাদের মাথায় রাখতে হবে। আগামী ১০-২০ বছরে আবহাওয়ার এই চরমভাবাপন্ন আচরণ আরও বাড়বে। ভারী বৃষ্টির তীব্রতা যেমন বাড়বে, তেমনি হঠাৎ অতিবৃষ্টির ঘটনাও ঘন ঘন ঘটবে। আবার কোনো কোনো বছর হয়তো একেবারেই খরা দেখা দেবে।
২ ঘণ্টা আগে
১৪ বছরের এক কিশোরি। সহায়হীন, আশ্রয়হীন, অভিভাবকহীন। রাষ্ট্রই তার অভিভাবক। ফরিদপুরের সরকারি শিশু পরিবারে (বালিকা) থাকা ষষ্ঠ শ্রেণি পড়ুয়া এই শিশু গত জানুয়ারি থেকে একাধিকবার ধর্ষণের শিকার হয়েছে। আর এই ঘটনা সামনে এসেছে তখনই, যখন সে সাতাশ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে চিকিৎসকের কাছে পৌঁছেছে।
৬ ঘণ্টা আগে
নরসিংদীর মেথিকান্দা রেলস্টেশনে দীর্ঘদিন ধরে বসবাসকারী ছিন্নমূল নারী ববি বেগম যেভাবে দুর্বৃত্তদের হাতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন, সেটাকে মর্মান্তিক বললেও কম বলা যায়। বাকপ্রতিবন্ধী প্রবীণ এ নারীর জমানো অর্থ কেড়ে নিতেই যে কিছু অমানুষ তার ওপর চড়াও হয়েছিল, সেটা ইতোমধ্যে স্পষ্ট।
১৯ ঘণ্টা আগে
৩১ মে, রাত। যশোরের শার্শা উপজেলার সাদিপুর সীমান্তের কাছে টহলরত বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যরা দেখতে পান, সীমান্তের কাঁটাতারের একটি অংশ কেটে ফেলা হয়েছে। ওপারে দাঁড়িয়ে ছিলেন অনেক মানুষ। তাদের মধ্যে নারী ও শিশুও ছিল।
১১ জুলাই ২০২৬