প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সম্পাদক পরিষদের বৈঠক
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী কাছে হত্যা মামলায় আসামি ৯৪ জনসহ ২৮২ সাংবাদিকের তালিকা হস্তান্তর করে সম্পাদক পরিষদ।
স্ট্রিম প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন সংবাদপত্রের সম্পাদকদের সংগঠন ‘সম্পাদক পরিষদ’– এর নেতারা। রোববার (১৭ মে) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এই বৈঠকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য আইনের অগণতান্ত্রিক ধারাগুলো বাতিল ও পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছে সম্পাদক পরিষদ।
এ ছাড়া প্রেস কাউন্সিলকে শক্তিশালী করা, সাংবাদিকদের দায়বদ্ধতা বাড়ানো, অপতথ্য রোধে ফ্যাক্ট চেকের ব্যবস্থা, গণমাধ্যম কমিশন গঠনের আগে আরও বেশি আলোচনা, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হওয়া হয়রানিমূলক মামলা এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করাসহ বিভিন্ন বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।
পরে সম্পাদক পরিষদের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বৈঠকের বিষয়বস্তু তুলে ধরা হয়। সচিবালয়েও সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীর এবং ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং জানায়, বৈঠকে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর তথ্যবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান, সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও নিউএজ সম্পাদক নূরুল কবির, সাধারণ সম্পাদক বণিক বার্তার সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, দ্য ডেইলি স্টার সম্পাদক ও প্রকাশক মাহফুজ আনাম, মানবজমিন সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান, দ্য ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস সম্পাদক শামসুল হক জাহিদ, দৈনিক ইনকিলাব সম্পাদক এএমএম বাহাউদ্দিন, সুপ্রভাত বাংলাদেশ সম্পাদক রুশো মাহমুদ এবং দৈনিক করতোয়া সম্পাদক মোজাম্মেল হক, প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেসসচিব আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন। পরে প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিক নেতাদের নিয়ে মধ্যাহ্নভোজ করেন।
সম্পাদক পরিষদের সভাপতি নূরুল কবীর বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। প্রধানত বাংলাদেশের যে গণমাধ্যম পরিমণ্ডল আছে, সেখানে আইন-কানুনের মধ্যে যে অগণতান্ত্রিক অংশগুলো আছে, সেগুলো সম্পর্কে আমরা তাঁকে অবহিত করেছি। অনেক বিষয়ে পর্যালোচনার প্রয়োজন আছে বলে আমরা জানিয়েছি এবং তিনি তাতে সম্মত হয়েছেন।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে একটি গণতান্ত্রিক গণমাধ্যম কাঠামো গড়ে তোলার জন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বয়ে একটি পরামর্শক কমিটি করে জুন মাসজুড়ে কাজ করে জুলাইয়ে একটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরির বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি। সেই প্রতিবেদনের আলোকে গণতান্ত্রিক আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

সম্পাদক পরিষদের সভাপতি বলেন, ‘গণমাধ্যম চর্চার মধ্যে যে নানান ত্রুটি-বিচ্যুতি রয়েছে, সেগুলো থেকে কীভাবে বেরিয়ে আসা যায় এবং সরকার যতক্ষণ গণতান্ত্রিক আচরণ করবে, ততক্ষণ সম্পাদকরা তাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকবেন– এ বিষয়ে আমরা আশ্বাস দিয়েছি। সরকারও এটিকে স্বাগত জানিয়েছে।’
ত্রুটি-বিচ্যুতির ধরন সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘সামাজিক মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে নানা ধরনের ভুল তথ্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, যা সমাজের সব অংশকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। সাংবাদিকেরাও এর বাইরে নন। এসব থেকে বেরিয়ে এসে পুরো গণমাধ্যম জগতের গ্রহণযোগ্যতা, বিশ্বাসযোগ্যতা ও নির্ভরযোগ্যতা বাড়াতে এবং জনগণের কাছে তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রতিষ্ঠা করতে যেসব বাধা রয়েছে, সেগুলো দূর করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার বিষয়ে আমাদের ঐকমত্য হয়েছে।’
সম্পাদক পরিষদের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গণমাধ্যমবিষয়ক আইনগুলো অনেক পুরোনো এবং তা সংবাদপত্রের স্বাধীনতার জন্য প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে। এগুলো বহির্বিশ্বে দেশের গণমাধ্যমের ভাবমূর্তিকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে। বিশেষ করে পত্রিকা প্রকাশের ঘোষণাপত্রের ফর্ম ‘বি’তে প্রকাশকদের ঘোষণা ও স্বাক্ষর দিয়ে বলতে হয়– ‘আমি, এই মর্মে আরও ঘোষণা করিতেছি যে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বার্থের পরিপন্থী বা কোনো আপত্তিকর বিষয় আমার উক্ত পত্রিকায় প্রকাশে বিরত থাকিব এবং ১৯৭৩ সনের ছাপাখানা ও প্রকাশনা (ডিক্লারেশন ও রেজিস্ট্রেশন) আইনের সমুদয় নিয়মাবলী মানিয়া চলিতে বাধ্য থাকিব।’ এই ধারাটি সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং এতে অগণতান্ত্রিক চরিত্র রয়েছে। সম্পাদক পরিষদ ধারাটি বাতিলের দাবি জানিয়েছে।
বৈঠক সূত্র জানায়, বৈঠকে সম্পাদকদের পক্ষ থেকে প্রেস কাউন্সিলকে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। সম্পাদক ও সাংবাদিকদের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার ওপরেও জোর দেওয়া হয়। এ বিষয়ে সম্পাদক পরিষদ কাজ করছে বলে প্রধানমন্ত্রীকে জানানো হয়।
অপতথ্য রোধের বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। সম্পাদকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, এ বিষয়ে মূলধারার সংবাদপত্রের দায়িত্ব সবচেয়ে বেশি। এ জন্য সংবাদপত্রগুলোর ‘ফ্যাক্ট চেকের’ ব্যবস্থা রাখা উচিত। কোনো কোনো সংবাদপত্র ইতোমধ্যে তা শুরু করেছে।
গণমাধ্যম কমিশন নিয়ে আরও বেশি আলোচনা হওয়া প্রয়োজন বলে সম্পাদকদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। এ বিষয়ে একটি কমিটি গঠন করার আগে একটি রূপরেখার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। সম্পাদক পরিষদ জানিয়েছে, গণমাধ্যম কমিশন করা ও প্রেস কাউন্সিলকে শক্তিশালী করার বিষয় পরিষদের পক্ষ থেকে উত্থাপন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে তথ্যমন্ত্রীকে আগামী জুন মাসের মধ্যে এ–সংক্রান্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করে জুলাইয়ের মধ্যেই সরকার যেন একটি দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে পারে, সে অনুযায়ী উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী গণমাধ্যমের স্বনিয়ন্ত্রিত কাঠামোর প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে জোর দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে সম্পাদক পরিষদ আগামী জুলাইয়ের মধ্যে সাংবাদিকদের জন্য একটি ‘কোড অব কনডাক্ট’ বা আচরণবিধি প্রণয়ন ও গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানায়।
হত্যাসহ মামলা থাকা ২৮২ সাংবাদিকের তালিকা হস্তান্তর
হত্যাসহ বিভিন্ন মামলা থাকা ২৮২ সাংবাদিকের তালিকা প্রধানমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করেছে সম্পাদক পরিষদ। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমরা একটি তালিকা দিয়েছি। সেখানে আমরা বলেছি, প্রায় ২৮২ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের মামলা হয়েছে। তাঁর মধ্যে ৯৪ জন হত্যা মামলার আসামি। সেটি আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে বলেছি।
তিনি বলেন, এই তালিকা যে একদম সম্পূর্ণ, তা বলব না। অসম্পূর্ণ থাকতে পারে। কিন্তু আমরা আন্তরিকভাবে চেষ্টা করে দিয়েছি। প্রধানমন্ত্রী সেটি গ্রহণ করেছেন এবং তথ্যমন্ত্রীকে বলেছেন– ‘এই ব্যাপারে তারা একটি উদ্যোগ নেবেন’।
মাহফুজ আনাম বলেন, ‘আমরা খুব দৃঢ়ভাবে বলেছি, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা এবং এত ধরনের মামলা গণতান্ত্রিক দেশের পরিবেশের জন্য ভালো নয়। এই সরকারের ভাবমূর্তির জন্যও ভালো নয়।’
প্রধানমন্ত্রী কী বলেছেন– প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘উনি (প্রধানমন্ত্রী) এটি খুবই আন্তরিকভাবে নিয়েছেন এবং বলেছেন– তারা বিষয়টি পরীক্ষা করবেন। এ ব্যাপারে তারা আগ্রহী।’
বৈঠকে সম্পাদক পরিষদের নেতারা প্রধানমন্ত্রীকে বলেছেন, সরকারের তিন মাস পূর্ণ হলেও, এই সময়ে সাংবাদিকেরা তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের বাধার সম্মুখীন হননি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন সংবাদপত্রের সম্পাদকদের সংগঠন ‘সম্পাদক পরিষদ’– এর নেতারা। রোববার (১৭ মে) দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এই বৈঠকে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য আইনের অগণতান্ত্রিক ধারাগুলো বাতিল ও পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছে সম্পাদক পরিষদ।
এ ছাড়া প্রেস কাউন্সিলকে শক্তিশালী করা, সাংবাদিকদের দায়বদ্ধতা বাড়ানো, অপতথ্য রোধে ফ্যাক্ট চেকের ব্যবস্থা, গণমাধ্যম কমিশন গঠনের আগে আরও বেশি আলোচনা, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হওয়া হয়রানিমূলক মামলা এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করাসহ বিভিন্ন বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।
পরে সম্পাদক পরিষদের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বৈঠকের বিষয়বস্তু তুলে ধরা হয়। সচিবালয়েও সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীর এবং ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং জানায়, বৈঠকে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর তথ্যবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান, সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও নিউএজ সম্পাদক নূরুল কবির, সাধারণ সম্পাদক বণিক বার্তার সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, দ্য ডেইলি স্টার সম্পাদক ও প্রকাশক মাহফুজ আনাম, মানবজমিন সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান, দ্য ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস সম্পাদক শামসুল হক জাহিদ, দৈনিক ইনকিলাব সম্পাদক এএমএম বাহাউদ্দিন, সুপ্রভাত বাংলাদেশ সম্পাদক রুশো মাহমুদ এবং দৈনিক করতোয়া সম্পাদক মোজাম্মেল হক, প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেসসচিব আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন। পরে প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিক নেতাদের নিয়ে মধ্যাহ্নভোজ করেন।
সম্পাদক পরিষদের সভাপতি নূরুল কবীর বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। প্রধানত বাংলাদেশের যে গণমাধ্যম পরিমণ্ডল আছে, সেখানে আইন-কানুনের মধ্যে যে অগণতান্ত্রিক অংশগুলো আছে, সেগুলো সম্পর্কে আমরা তাঁকে অবহিত করেছি। অনেক বিষয়ে পর্যালোচনার প্রয়োজন আছে বলে আমরা জানিয়েছি এবং তিনি তাতে সম্মত হয়েছেন।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে একটি গণতান্ত্রিক গণমাধ্যম কাঠামো গড়ে তোলার জন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বয়ে একটি পরামর্শক কমিটি করে জুন মাসজুড়ে কাজ করে জুলাইয়ে একটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন তৈরির বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি। সেই প্রতিবেদনের আলোকে গণতান্ত্রিক আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

সম্পাদক পরিষদের সভাপতি বলেন, ‘গণমাধ্যম চর্চার মধ্যে যে নানান ত্রুটি-বিচ্যুতি রয়েছে, সেগুলো থেকে কীভাবে বেরিয়ে আসা যায় এবং সরকার যতক্ষণ গণতান্ত্রিক আচরণ করবে, ততক্ষণ সম্পাদকরা তাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকবেন– এ বিষয়ে আমরা আশ্বাস দিয়েছি। সরকারও এটিকে স্বাগত জানিয়েছে।’
ত্রুটি-বিচ্যুতির ধরন সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘সামাজিক মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে নানা ধরনের ভুল তথ্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, যা সমাজের সব অংশকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। সাংবাদিকেরাও এর বাইরে নন। এসব থেকে বেরিয়ে এসে পুরো গণমাধ্যম জগতের গ্রহণযোগ্যতা, বিশ্বাসযোগ্যতা ও নির্ভরযোগ্যতা বাড়াতে এবং জনগণের কাছে তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রতিষ্ঠা করতে যেসব বাধা রয়েছে, সেগুলো দূর করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার বিষয়ে আমাদের ঐকমত্য হয়েছে।’
সম্পাদক পরিষদের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গণমাধ্যমবিষয়ক আইনগুলো অনেক পুরোনো এবং তা সংবাদপত্রের স্বাধীনতার জন্য প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে। এগুলো বহির্বিশ্বে দেশের গণমাধ্যমের ভাবমূর্তিকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে। বিশেষ করে পত্রিকা প্রকাশের ঘোষণাপত্রের ফর্ম ‘বি’তে প্রকাশকদের ঘোষণা ও স্বাক্ষর দিয়ে বলতে হয়– ‘আমি, এই মর্মে আরও ঘোষণা করিতেছি যে, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বার্থের পরিপন্থী বা কোনো আপত্তিকর বিষয় আমার উক্ত পত্রিকায় প্রকাশে বিরত থাকিব এবং ১৯৭৩ সনের ছাপাখানা ও প্রকাশনা (ডিক্লারেশন ও রেজিস্ট্রেশন) আইনের সমুদয় নিয়মাবলী মানিয়া চলিতে বাধ্য থাকিব।’ এই ধারাটি সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং এতে অগণতান্ত্রিক চরিত্র রয়েছে। সম্পাদক পরিষদ ধারাটি বাতিলের দাবি জানিয়েছে।
বৈঠক সূত্র জানায়, বৈঠকে সম্পাদকদের পক্ষ থেকে প্রেস কাউন্সিলকে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। সম্পাদক ও সাংবাদিকদের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার ওপরেও জোর দেওয়া হয়। এ বিষয়ে সম্পাদক পরিষদ কাজ করছে বলে প্রধানমন্ত্রীকে জানানো হয়।
অপতথ্য রোধের বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়। সম্পাদকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, এ বিষয়ে মূলধারার সংবাদপত্রের দায়িত্ব সবচেয়ে বেশি। এ জন্য সংবাদপত্রগুলোর ‘ফ্যাক্ট চেকের’ ব্যবস্থা রাখা উচিত। কোনো কোনো সংবাদপত্র ইতোমধ্যে তা শুরু করেছে।
গণমাধ্যম কমিশন নিয়ে আরও বেশি আলোচনা হওয়া প্রয়োজন বলে সম্পাদকদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। এ বিষয়ে একটি কমিটি গঠন করার আগে একটি রূপরেখার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। সম্পাদক পরিষদ জানিয়েছে, গণমাধ্যম কমিশন করা ও প্রেস কাউন্সিলকে শক্তিশালী করার বিষয় পরিষদের পক্ষ থেকে উত্থাপন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে তথ্যমন্ত্রীকে আগামী জুন মাসের মধ্যে এ–সংক্রান্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করে জুলাইয়ের মধ্যেই সরকার যেন একটি দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে পারে, সে অনুযায়ী উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী গণমাধ্যমের স্বনিয়ন্ত্রিত কাঠামোর প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে জোর দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে সম্পাদক পরিষদ আগামী জুলাইয়ের মধ্যে সাংবাদিকদের জন্য একটি ‘কোড অব কনডাক্ট’ বা আচরণবিধি প্রণয়ন ও গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানায়।
হত্যাসহ মামলা থাকা ২৮২ সাংবাদিকের তালিকা হস্তান্তর
হত্যাসহ বিভিন্ন মামলা থাকা ২৮২ সাংবাদিকের তালিকা প্রধানমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করেছে সম্পাদক পরিষদ। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমরা একটি তালিকা দিয়েছি। সেখানে আমরা বলেছি, প্রায় ২৮২ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের মামলা হয়েছে। তাঁর মধ্যে ৯৪ জন হত্যা মামলার আসামি। সেটি আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে বলেছি।
তিনি বলেন, এই তালিকা যে একদম সম্পূর্ণ, তা বলব না। অসম্পূর্ণ থাকতে পারে। কিন্তু আমরা আন্তরিকভাবে চেষ্টা করে দিয়েছি। প্রধানমন্ত্রী সেটি গ্রহণ করেছেন এবং তথ্যমন্ত্রীকে বলেছেন– ‘এই ব্যাপারে তারা একটি উদ্যোগ নেবেন’।
মাহফুজ আনাম বলেন, ‘আমরা খুব দৃঢ়ভাবে বলেছি, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা এবং এত ধরনের মামলা গণতান্ত্রিক দেশের পরিবেশের জন্য ভালো নয়। এই সরকারের ভাবমূর্তির জন্যও ভালো নয়।’
প্রধানমন্ত্রী কী বলেছেন– প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘উনি (প্রধানমন্ত্রী) এটি খুবই আন্তরিকভাবে নিয়েছেন এবং বলেছেন– তারা বিষয়টি পরীক্ষা করবেন। এ ব্যাপারে তারা আগ্রহী।’
বৈঠকে সম্পাদক পরিষদের নেতারা প্রধানমন্ত্রীকে বলেছেন, সরকারের তিন মাস পূর্ণ হলেও, এই সময়ে সাংবাদিকেরা তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের বাধার সম্মুখীন হননি।

নরসিংদীর রায়পুরায় ইয়াসমিন ওরফে সুমন (২৬) নামে তৃতীয় লিঙ্গের এক ব্যক্তিকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। এই হামলায় চাঁদনী ওরফে বাবু (২৬) নামে আরেকজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
২ ঘণ্টা আগে
রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনালে বাসের সময়সূচিতে বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ে বাস না ছাড়ায় ঘরমুখো যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। বিশেষ করে লোকাল ও দূরপাল্লার সাধারণ বাসের ক্ষেত্রে এই বিলম্বের চিত্র সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে।
২ ঘণ্টা আগে
টাঙ্গাইলে রডবোঝাই ট্রাক উল্টে নওগাঁর মান্দা উপজেলার ৯ বন্ধুসহ ১৫ জন নিহত হয়েছেন। বাসের অতিরিক্ত ভাড়া বাঁচাতে তাঁরা ট্রাকে চড়ে বাড়ি ফিরছিলেন। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় পুরো মান্দা উপজেলায় এখন শোকের মাতম চলছে।
২ ঘণ্টা আগে
গোপালগঞ্জে মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাস, মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকারের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে ঘটনাস্থলেই মাইক্রোবাসের চালক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত অর্ধশত ব্যক্তি। সোমবার দুপুর দেড়টার দিকে সদর উপজেলার সোনাপুর এলাকায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
৩ ঘণ্টা আগে