নড়াইলে জমি নিয়ে বিরোধে বীর মুক্তিযোদ্ধাকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
নড়াইল

প্রকাশ : ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৭: ৪৬
হামলায় আহত বীর মুক্তিযোদ্ধা কৃষ্ণপদ আচার্যকে খুলনায় স্থানান্তর করা হয়েছে। সংগৃহীত ছবি

নড়াইলের কালিয়ায় জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে সাবেক কাউন্সিলর ও বীর মুক্তিযোদ্ধা কৃষ্ণপদ আচার্যকে (৭২) কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন। গতকাল রোববার (৫ এপ্রিল) রাতে উপজেলার ছোট কালিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে কালিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান স্থানীয়রা। তবে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে পাঠানো স্থানান্তর করা হয়েছে জানিয়েছেন স্বজনেরা।

আহত কৃষ্ণপদ আচার্য ওই গ্রামের মৃত সন্তোষ আচার্যের ছেলে ও কালিয়া পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর। কালিয়ায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় কৃষ্ণপদ আচার্য বলেন, মনষা মন্দিরের জমি ও তাঁর পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে প্রতিবেশী ফজর শেখ ও ওলিয়ার রহমানের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ মামলা চলছিল। এর জেরে তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে প্রতিপক্ষের লোকজন এ হামলা চালিয়েছে।

স্থানীয় দোকানদার শাহীদ রহমান জানান, রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে কৃষ্ণপদ আচার্য কালিয়া বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। এ সময় তাঁর দোকানের সামনে পৌঁছালে কয়েকজন ব্যক্তি অতর্কিতভাবে হামলা চালায়।

কালিয়া বাজারের একাধিক ব্যবসায়ী ও ভুক্তভোগী স্বজনরা জানিয়েছেন, কৃষ্ণপদ আচার্য গতকাল রাতে বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে ছোট কালিয়া এলাকায় সাইদের দোকানের সামনে পৌঁছালে সুমন, মিলন ও মাহিদুল নামে কয়েকজন তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালান। এ সময় তাঁর মাথা, হাত ও পায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে এবং পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেন।

কৃষ্ণপদ আচার্যের বোনের ছেলে পার্থ চক্রবর্তী তাঁর পিসোর ওপর সন্ত্রাসী হামলার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।

এদিকে হামলার পর থেকে অভিযুক্তদের এলাকায় দেখা যায়নি। তাঁদের বাড়িতে গেলেও পরিবারের কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সোমবার দুপুরে তাঁদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।

হামলার ঘটনায় বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত কালিয়া থানায় কোনো মামলা হয়নি জানিয়ে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইদ্রিস আলী বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং জড়িতদের আটকে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ভুক্তভোগী পক্ষের লোকজনের সঙ্গে কথা হয়েছে। তাঁরা শিগ্‌গিরই থানায় এসে মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন।

সম্পর্কিত