ভাসমান টার্মিনালে ত্রুটি: কমেছে ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ২২ জুলাই ২০২৬, ২৩: ৪৮
ভাসমান টার্মিনালে ত্রুটি: কমেছে ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ। ছবি: সংগৃহীত

দেশের একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে (এফএসআরইউ) কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়ায় জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে। এতে দেশের শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সিএনজি স্টেশনসহ গ্রাহক পর্যায়ে গ্যাস সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে আজ বুধবার (২২ জুলাই) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ৭২৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩টি নতুন কূপ খননের প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে সংশ্লিষ্ট টার্মিনাল থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে গ্যাসের চাপ কমে গেছে। প্রয়োজনীয় চাপ না থাকায় সিএনজি স্টেশনগুলোতে গ্যাস নেওয়ার জন্য যানবাহনের দীর্ঘ সারি ও সাময়িক জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে।

জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, কারিগরি বিশেষজ্ঞরা এফএসআরইউর সমস্যা দ্রুত সমাধান করে সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছেন। একই সঙ্গে সীমিত সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে জরুরি ও অগ্রাধিকার খাতগুলোতে গ্যাস সরবরাহ অব্যাহত রাখার চেষ্টা হচ্ছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বর্তমান সংকটের তাৎক্ষণিক কারণ কারিগরি ত্রুটি হলেও অতীতে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদনে পর্যাপ্ত গুরুত্ব না দেওয়ায় এলএনজি আমদানির ওপর নির্ভরশীলতা অনেক বেড়েছে। ফলে আমদানি অবকাঠামোর কোনো একটিতে সমস্যা হলে পুরো জাতীয় গ্যাস সরবরাহব্যবস্থা চাপের মুখে পড়ে।

এই আমদানিনির্ভরতা পর্যায়ক্রমে কমিয়ে আনতে সরকার স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে দেশজুড়ে পর্যায়ক্রমে ১০০টি কূপ খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় আজ একনেক সভায় নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ এলাকায় ৭২৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩টি কূপ খননের একটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়।

এ ছাড়া স্থলভাগ ও সমুদ্রে গ্যাস অনুসন্ধান জোরদার করতে অনশোর ও অফশোর মডেল পিএসসির আওতায় নতুন করে দরপত্র আহ্বান এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার চেষ্টা চলছে। তবে কূপ খনন ও উৎপাদন শুরু করা সময়সাপেক্ষ বিষয় হওয়ায় এই দীর্ঘমেয়াদি সংকটের রাতারাতি সমাধান সম্ভব নয় বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

বর্তমান ও ভবিষ্যৎ চাহিদা মেটাতে সরকার আরও কয়েকটি দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ নিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে চতুর্থ এফএসআরইউ (ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল) স্থাপনের জন্য দরপত্র আহ্বান কার্যক্রম।

জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং কারিগরি সমস্যা সমাধানের সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হবে। সাময়িক এই অসুবিধার জন্য সংশ্লিষ্ট গ্রাহক ও সাধারণ জনগণের কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ।

Ad 300x250

সম্পর্কিত