ময়মনসিংহ মেডিকেল: সারা বছরের ডেঙ্গু রোগী ছাড়াল আগস্টেই

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
ময়মনসিংহ

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বেড়ে ডেঙ্গু রোগী। স্ট্রিম ছবি
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বেড়ে ডেঙ্গু রোগী। স্ট্রিম ছবি

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চলতি বছর ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ২১ ডেঙ্গু রোগী। এর মধ্যে ৫৩৫ জনই চলতি আগস্ট মাসের ২০ দিনে। জুলাইয়ে ৩৬০ আর এর আগের ছয় মাসে ভর্তি হন বাকি ১২৬ জন।

এখন পর্যন্ত এই হাসপাতালে ৬ ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে ফেব্রুয়ারিতে ১, জুনে ৩ ও জুলাইয়ে দুজনের মৃত্যু হয়।

দেশে প্রতিবছর জুলাই থেকে নভেম্বরে ডেঙ্গুর প্রকোপ থাকে। বছরের সিংহভাগ রোগীই এই পাঁচ মাসে হাসপাতালে ভর্তি হয়। ময়মনসিংহ মেডিকেল হাসপাতালের তথ্যানুযায়ী, বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকালে এই হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৯৭ রোগী ভর্তি আছেন। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি হয়েছে ৪৩ জন। ছাড়পত্র পেয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩২ জন।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) মো. মাইনউদ্দিন খান বলেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইতিমধ্যে পৃথক আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করে চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। রোগীরা আসছে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই জ্বর কিংবা র‍্যাশ নিয়ে। ওষুধপত্র কিংবা পরীক্ষার ব্যাপারে হাসপাতালে প্রস্তুতি রয়েছে।

বিভাগীয় পরিচালকের (স্বাস্থ্য) কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মমেক হাসপাতালসহ ময়মনসিংহ বিভাগের চার জেলায় ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত সাত মাসে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৬৪৯ জন। মৃত্যু হয়েছিল মাত্র একজনের। অবশ্য গত বছরের আগস্ট থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গু রোগী ছিল ৪ হাজার ৪১ জন। মৃত্যু হয়েছিল ২৮ জনের। চলতি বছর ১৯ আগস্ট পর্যন্ত মমেক হাসপাতালসহ ১ হাজার ৪২৩ জন রোগী বিভাগে ভর্তি ছিলেন। মমেক হাসপাতাল ছাড়া বিভাগের অন্য সরকারি হাসপাতাল বা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি ছিলেন ৪৪৫ জন ডেঙ্গু রোগী। এর মধ্যে ময়মনসিংহ জেলায় ৯৬, জামালপুরে ১১০, শেরপুর ১২০ ও নেত্রকোনা জেলায় ১১৯ জন। ১ হাজার ৪২৩ জনের মধ্যে আগস্টের ১৯ তারিখ পর্যন্ত ৭১৩ জন।

ময়মনসিংহ বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. প্রদীপ কুমার সাহা বলেন, ‘আমরা বিভাগীয় কমিশনার, সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, স্থানীয় সিভিল সার্জনসহ সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গেই এ বিষয়ে কথা বলেছি এবং অ্যাডিস মশা নিধনের জন্য দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গু চিকিৎসার জন্য ২০২৬ সালের যে প্রটোকল আছে, ওই অনুযায়ী চিকিৎসা সেবা দেওয়ার জন্য প্রতিটি হাসপাতালে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্য যে কিট প্রয়োজন তা পর্যাপ্ত রয়েছে, একইসঙ্গে স্যালাইনও যথেষ্ট রয়েছে।

ময়মনসিংহ নগরে ৬ হটস্পট

ডেঙ্গু আক্রান্তদের বড় অংশ ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন এলাকার। ডেঙ্গু সংক্রমণের ঝুঁকি বিবেচনায় ময়মনসিংহ নগরের ছয়টি ওয়ার্ডকে হটস্পট ‘বিশেষ জোন’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে সিটি করপোরেশন। এগুলো হলো ৬, ১০, ১১, ১২, ১৩ ও ১৪ নম্বর ওয়ার্ড। সিটি করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত নগরে ৪ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হলেও জুন মাসে ৮ জন, জুলাইয়ে ১১০ জন এবং আগস্টের এখন পর্যন্ত ১৩৭ জন ব্যক্তি ডেঙ্গু আক্রান্ত হন। এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যু নেই।

ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশেষ উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. রুকুনোজ্জামান রোকন বলেন, গত বছরের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বিশেষ জোন চিহ্নিত করা হয়েছে। মশার বংশবিস্তারের ঝুঁকি বেশি থাকায় বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বিশেষ জোনে দিনে দুইবেলা মশকনিধন কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। ফগিংয়ের পাশাপাশি স্প্রে করা হচ্ছে। আশপাশ পরিষ্কার রাখতে বাড়ি বাড়ি লিফলেটও পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত