টাঙ্গাইলে অনলাইন জুয়া চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০৮ জুন ২০২৬, ১৬: ২৪
টাঙ্গাইল সদর ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার বা সিপিসি তাদের গ্রেপ্তার করে। স্ট্রিম ছবি

অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা সংগ্রহ করে তা ক্রিপ্টোকারেন্সি ও বিভিন্ন ব্যাংকের মাধ্যমে বিদেশে পাচারকারী একটি চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

গত রবিবার (৭ জুন) টাঙ্গাইল সদর ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার বা সিপিসি তাদের গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— মো. সোলায়মান (৪৭), মো. সাগর মিয়া (২৮) এবং মো. জুয়েল রানা (৩২)। তাদের সবার বাড়ি টাঙ্গাইল সদর থানা এলাকায়। আজ সোমবার (৮ জুন) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।

সিআইডি জানায়, নিয়মিত সাইবার মনিটরিংয়ের অংশ হিসেবে সম্প্রতি দেশ-বিদেশ থেকে পরিচালিত বিভিন্ন অনলাইন বেটিং (বাজি ধরা) বা জুয়া ওয়েবসাইটের কার্যক্রম নজর কাড়ে সিপিসির। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, ফুটবল ম্যাচ এবং অনলাইন ক্যাসিনোকে কেন্দ্র করে টাকার বিনিময়ে এই জুয়া খেলা চলছিল।

এ ঘটনায় গত ১৭ মে ডিএমপির পল্টন থানায় সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর বিভিন্ন ধারায় একটি মামলা দায়ের করে সিআইডি। সেই মামলার তদন্তে নেমেই এই চক্রের সন্ধান মেলে।

তদন্তে জানা গেছে, জুয়ায় অংশ নেওয়ার জন্য প্রথমে নির্দিষ্ট সাইটে অ্যাকাউন্ট বা ওয়ালেট খুলতে হতো গ্রাহকদের। এরপর বিকাশ, নগদ, রকেট, উপায়ের মতো মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস বা এমএফএস কিংবা ব্যাংক হিসাব ও ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে টাকা জমা দিতে উৎসাহিত করা হতো। টাকা জমা হলে অ্যাকাউন্টে ভার্চুয়াল ব্যালেন্স যুক্ত হতো, যা দিয়ে চলত জুয়া।

সিআইডি আরও জানায়, এই চক্রটি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অনলাইন বেটিংয়ের জন্য এজেন্ট নিয়োগ করেছিল। জুয়াড়িদের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহের পর এজেন্টরা তাদের নির্দিষ্ট ও নির্ধারিত কমিশন কেটে রাখতেন। এরপর বাকি টাকা বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বিদেশে পাচার করা হতো।

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ব্যবহৃত একটি এজেন্ট নম্বরের সূত্র ধরে এই চক্রটিকে শনাক্ত করে সিআইডির আভিযানিক দল। গত রবিবার দুপুরে প্রথমে টাঙ্গাইলের কাগমারা ব্রিজ সংলগ্ন এলাকা থেকে নিজের ডিপার্টমেন্টাল স্টোরসহ সোলায়মানকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিকেলে টাঙ্গাইল সদরের কলেজপাড়া এলাকার একটি বিকাশের ডিস্ট্রিবিউশন হাউস থেকে সাগর ও জুয়েল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে সিআইডি জানায়, গ্রেপ্তারকৃত সোলায়মান টাকার বিনিময়ে তাঁর এজেন্ট সিমটি জুয়ার সাইটে ব্যবহারের জন্য সাগরের কাছে হস্তান্তর করেছিলেন। আর সাগর ও জুয়েল রানা মূলত এমএফএস-এর ডিএসও বা ডিস্ট্রিবিউশন সেলস অফিসার হিসেবে কর্মরত। তাঁরা পদের সুবিধা নিয়ে নির্দিষ্ট কমিশনের বিনিময়ে জুয়ার সাইটের জন্য বিভিন্ন এজেন্ট সিম সংগ্রহ করে দিতেন। পরে এসব সিম ব্যবহার করে জুয়ার টাকা জমা ও উত্তোলন করা হতো।

সিআইডি জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে। এই অনলাইন জুয়া ও অবৈধ অর্থপাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে সিআইডির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

সম্পর্কিত