জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

পাবনায় বিএনপি সমর্থক দু’পক্ষে সংঘর্ষ, গুলিতে গৃহবধূ নিহত

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
পাবনা

প্রকাশ : ২৩ মার্চ ২০২৬, ১৫: ৫০
হত্যাকাণ্ডের প্রতীকী ছবি। সংগৃহীত

পাবনার সুজানগরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিএনপি সমর্থক দু’পক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে এক গৃহবধূ প্রাণ হারিয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১০ জন।

সোমবার (২৩ মার্চ) সকাল ৮টার দিকে সুজানগর উপজেলার মানিকহাট ইউনিয়নের ভিটবিলা পশ্চিমপাড়া গ্রামে এ সংঘর্ষ হয়। এ সময় গুলিতে নিহত গৃহবধূর নাম চায়না খাতুন (৪০)। তিনি ওই গ্রামের শুকুর আলীর স্ত্রী।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, আধিপত্য বিস্তার নিয়ে হাটখালী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রাফিউল ইসলাম রাজার পক্ষের সঙ্গে ভিটবিলা গ্রামের বিএনপি সমর্থক ইসলাম প্রামাণিক পক্ষের বিরোধ চলছিল। রোববার রাতে দু’পক্ষের সমর্থকদের মধ্যে একদফা মারামারি হয়। এরপর থেকেই উত্তেজনা চলছিল।

সকালে ইসলাম প্রামানিকের লোকজন লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এলাকায় জড়ো হয়। ওই সময় রাজার পক্ষের লোকজন অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় গুলি ছুড়লে চায়না খাতুন ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এ ছাড়া গুরুতর আহত ১০ জন সুজানগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ইসলাম প্রামানিক বলেন, আমার ভাগনে ফরহাদ আওয়ামী লীগ সমর্থক ছিল। এজন্য রোববার রাতে ভিটবিলা বাজারে তাকে মারধর করে রাজার লোকজন। আমি গিয়ে নিষেধ করলে আমাকেও মারধর করে। খবর পেয়ে আমার গ্রামের লোকজন মিলে সিদ্ধান্ত নেয় মুরুব্বিদের সঙ্গে বসে সমঝোতা করবে। এজন্য সকালে আমরা বাড়ির সামনে আসে তারা। ওই সময় রাজার লোকজন অতর্কিত আমাদের ওপর গুলি চালায়। এতে স্পটেই চায়না খাতুন মারা যায়। আরও ৮-১০ জন আহত হয়েছে।

তবে রাফিউল ইসলাম রাজার দাবি তিনি কিছুই জানেন না। তিনি স্ট্রিমকে বলেন, ঘটনার সময় আমি ঘটনাস্থলেই ছিলাম না। আমার এক আত্মীয়ের বিয়ের দাওয়াত খেতে আসছি। এখানে আমার নাম জড়ানো ষড়যন্ত্রমূলক। গুলিবর্ষণ হয়েছে কিনা বা গুলিতে চায়না খাতুন মারা গেছে কিনা আমি জানি না। আমি শুনেছি, চায়না খাতুন স্ট্রোক করে মারা গেছে। আপনারা তদন্ত করে দেখেন¬- আমি সেখানে ছিলাম কিনা, আমার নেতৃত্বে হামলা হয়েছে কিনা। আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা হচ্ছে।

স্থানীয় ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমান বলেন, দু’পক্ষই বিএনপি সমর্থক। ভিটবিলা পশ্চিমপাড়া বাজার এলাকা এবং পূর্বপাড়ার ছেলেদের মধ্যে গতরাতে ঝামেলা হয় শুনেছি। এরপর পূর্বপাড়ার লোকদের (রাজা গ্রুপের) নিজেদের পশ্চিমপাড়া বাজারে যেতে দেবে না বলে ঘোষণা দেয় ইসলাম গ্রুপের লোকজন। সকালে লাঠিসোঁটা নিয়ে তারা পাহারা বসিয়ে কয়েকজনকে ফিরিয়েও দেয়। পরে পূর্বপাড়ার লোকজন একজোট হয়ে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়।

সুজানগর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার সাদিক আহমেদ জানান, মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে। হামলার কারণ জানতে তদন্ত চলছে। পরে বিস্তারিত জানানো যাবে।

সম্পর্কিত