প্রভাবশালীদের অনিয়মে রাজশাহীর পাম্পগুলোতে বিশৃঙ্খলা চরমে

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
রাজশাহী

একটি ফিলিং স্টেশনের চিত্র। ছবি: সংগৃহীত

তেল নিতে ভাঙছেন লাইন। প্রতিবাদ করলে হচ্ছেন চড়াও। হাতাহাতিতেও জড়াচ্ছেন। রাজশাহীতে প্রভাবশালীদের এমন আচরণে প্রতিদিনই তেলের পাম্পগুলো বিশৃঙ্খলা বাড়ছে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, তেল সংকটের কারণে পাম্পগুলোতে এমনিতেই দীর্ঘ লাইন থাকছে। তবে তাদের উপেক্ষা করে তেল নেওয়া বা বেশি নেওয়ার চেষ্টা করছেন কতিপয় প্রভাবশালী। এ নিয়ে গত তিন দিন জেলার কোথাও না কোথাও সংঘর্ষ হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশের অবস্থাও হিমশিম।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকালে নগরের নওদাপাড়ার লতা ফিলিং স্টেশনে অপেক্ষমাণ দু’পক্ষের মধ্যে মারামারি হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তিন দিন পর ওই পাম্পে তেল দেওয়া হচ্ছিল। মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন ছিল। এর মধ্যে স্থানীয় কয়েকজন লাইন উপেক্ষা করে তেল নিতে চাইলে অন্যরা বাধা দেয়। পরে দু’পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়।

এর আগের দিন রাজশাহীর চারঘাটের আদর্শ ফিলিং স্টেশনেও এ নিয়ে দু’পক্ষে হাতাহাতি হয়। আর মঙ্গলবার নগরের আলুপট্টি এলাকায় আফরীন ফিলিং স্টেশনে বাঁশ নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায় দুই পক্ষ।

রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত উপকমিশনার গাজিউর রহমান বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও নিরাপত্তার স্বার্থে প্রতিটি ফিলিং স্টেশনে পুলিশ আছে। এরপরও কোথাও বিশৃঙ্খলা হলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনছে।

বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, রাজশাহীতে ফিলিং স্টেশন আছে ৪৫টি। পাশাপাশি ১৫টি এজেন্সি রয়েছে, যারা ড্রামে ডিজেল ও কেরোসিন রেখে বিক্রি করে। এই বিক্রেতারা আগে চাহিদামতো তেল পেতেন। এখন পাচ্ছেন দু-একদিন পরপর। এতে ফিলিং স্টেশনগুলোতে বাড়ছে গ্রাহক।

এ ছাড়া কবে কোনো পাম্পে তেল দেওয়া হবে, তা আগেই জানতে পারছেন বাইকাররা। এতে আগের দিন দুপুরেই তারা ফিলিং স্টেশনের সামনে সারিবদ্ধভাবে বাইক রেখে দিচ্ছেন। আবার গ্রামের অনেকে শহর থেকে তেল নিয়ে গিয়ে বেশি দামে বিক্রি করছেন। শহরেও একই ঘটনা ঘটছে। এতে ফিলিং স্টেশনগুলোতে মোটরসাইকেলের চাপ কোনোভাবেই কমছে না।

এদিকে, বাইকের লাইসেন্স ও হেলমেট না থাকলে তেল না দেওয়ার ঘোষণা দিলেও কার্যকর করতে পারেনি জেলা প্রশাসন। পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনও জোড়-বিজোড় নম্বর দেখে তেল দেওয়ার সিদ্ধান্ত প্রয়োগ করতে পারেনি। এতে ফিলিং স্টেশনগুলোতে একই মানুষ সকাল-বিকেল ঘুরে ফিরে বারবার তেল নিচ্ছেন।

বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের রাজশাহী জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আনিসুল ইসলাম শিমুল বলেন, সব পাম্প প্রতিদিন তেল পাচ্ছে না। এ কারণে যেখানে তেল দেওয়া হচ্ছে, সেখানেই বাইকের দীর্ঘ সারি হচ্ছে। মুহূর্তের মধ্যেই তেল শেষ হয়ে যাচ্ছে। কিছু কিছু মানুষ বার বার তেল নেওয়ার কারণে সংকট আরও বাড়ছে।

তিনি বলেন, এ অবস্থায় জেলা প্রশাসন সোমবার থেকে ফুয়েল কার্ড চালু করার কথা জানিয়েছে। এটা করলে একই বাইক বার বার তেল নিতে পারবে না। তখন হয়তো পরিস্থিতির উন্নতি হবে।

সম্পর্কিত