স্ট্রিম প্রতিবেদক

ঈদুল ফিতর ঘিরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আগেই ছুটি ঘোষণা হয়েছে। সরকারও আগেই সরকারের নির্দিষ্ট ছুটি ঘোষণা করেছে। সবমিলিয়ে লম্বা ছুটির কারণে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার অনেক আগেই ঢাকা ছাড়তে শুরু করেন মানুষ। এতে অন্যান্য বার শেষ মুহূর্তের যে চাপ থাকে, এবার তুলনামূলক সেটি না থাকায় অনেক যাত্রী নির্বিঘ্নে গন্তব্যে যেতে পারছেন। তবে এর মধ্যেও ঈদযাত্রা নিয়ে কিছুটা অস্বস্তি রয়ে গেছে। বিশেষ করে বাস ভাড়া এবং নির্ধারিত গন্তব্যে যাত্রী না নামানোর অভিযোগ উঠেছে বিভিন্ন পরিবহনের বিরুদ্ধে।
অবশ্য পরিবহন কর্তৃপক্ষের দাবি—এখন যে যাত্রীরা আসছেন তাঁদের অধিকাংশই অগ্রিম টিকিট কেটেছিলেন। বাসের সব সিট ইতিমধ্যে বুকড হয়ে আছে। তাই নতুন যাত্রী তুলনামূলক কম। তাই নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত কোনো অর্থ তাঁরা নিচ্ছেন না।
তবে যাত্রী ও শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অপরিকল্পিত রুট ব্যবস্থাপনা, ভাড়া নির্ধারণে অসামঞ্জস্য এবং শ্রমিকদের চুক্তির আওতায় না আনায় প্রতি বছরের মতো এবারও ঈদযাত্রায় হয়রানি দেখা গেছে।
অভিযোগ উঠেছে, অতিরিক্ত মুনাফার আশায় স্বল্প পাল্লার বাসগুলোকে দূরপাল্লার রুটে চালাচ্ছেন বাস কর্তৃপক্ষ। আর নিজেদের পরিকল্পনা কার্যকর করতে বাস শ্রমিকদের দালাল হিসেবে কাজে লাগিয়ে যাত্রীদের কাছ থেকে বেশি ভাড়া আদায় হচ্ছে। এতে নিকটবর্তী জেলার যাত্রীরা দূরপাল্লার টিকিট কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।
এমনই এক যাত্রী মাগুরার বাসিন্দা জহিরুল ইসলাম। তিনি জানান, প্রতি বছর গাবতলী থেকে প্রায় ৪০০ টাকায় মাগুরা যান। এবার তাঁকে জানানো হচ্ছে, মাগুরা যেতে হলে খুলনা পর্যন্ত টিকিট কাটতে হবে। আর এর জন্য ভাড়া গুনতে হবে ৮০০ টাকারও বেশি।
মিরপুরের বাসিন্দা আমেনা ইসলাম দুই শিশু মেয়ে ও স্বামীকে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি যশোরে যাচ্ছেন। ছুটি কবে শুরু হবে তা অনিশ্চিত থাকায় আগে থেকে টিকিট কাটতে পারেননি। বাস কোম্পানিগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাঁকে আশ্বস্ত করা হয়েছিল, টিকিট পাওয়া যাবে। কিন্তু এখন যশোরের টিকিট পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। সাতক্ষীরা রুটের বাসে এখন তাঁর কাছে ১২০০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া চাওয়া হচ্ছে।
আমেনা ইসলামের অভিযোগ, পরিকল্পনা করে পরিবহন মালিকরা এখন যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করছেন।
গাবতলী বাসস্ট্যান্ডে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) টাঙানো তথ্য অনুযায়ী, উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গ মিলিয়ে প্রায় ৬০টি রুট রয়েছে। এর মধ্যে যশোর, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও মাগুরাগামী যাত্রীরা বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন।
খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, বগুড়ার নির্ধারিত ভাড়া ৫০০ টাকা। কিন্তু লালমনিরহাটগামী বাসে উঠলে বগুড়ার জন্য ৯৮০ টাকা, কুড়িগ্রাম রুটে ৯৯০ টাকা, গাইবান্ধা ৭৬০, রংপুর ৮৭০, ঠাকুরগাঁও ১০৮০ এবং পঞ্চগড় রুটে ১১৮০ টাকা দিতে হচ্ছে।
একইভাবে যশোরের ভাড়া ৭২০ টাকা হলেও খুলনা রুটে গেলে ৮৩০ টাকা, বাগেরহাট ৯৩০, কালীগঞ্জ ১০৩০, সাতক্ষীরা ৯৬০ এবং বেনাপোলে ৭৭০ টাকা দিতে হচ্ছে।
বুয়েটের ট্রান্সপোর্ট ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে পাস করা জহিরুল ইসলামের মতে, বাস ভাড়া জেলাভিত্তিক হওয়া উচিত। একাধিক রুট থাকলে ৫০ থেকে ১০০ টাকার পার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু এর বেশি পার্থক্য যাত্রী হয়রানির শামিল।
ভাড়া সংক্রান্ত হয়রানি এখানেই শেষ নয়। সাধারণত বড় ও প্রতিষ্ঠিত পরিবহন কোম্পানিগুলো সরাসরি অতিরিক্ত ভাড়া নেয় না। অনেক ক্ষেত্রে পরিবনহগুলোর অনলাইনে টিকিট বুকিংয়ের সুবিধা রয়েছে। তবে যেহেতু পরিবহন শ্রমিকদের অধিকাংশই চুক্তির আওতায় নেই এবং তাঁরা ঈদ বোনাস বা অতিরিক্ত সুবিধা পান না। তাই অনেক ক্ষেত্রে তাঁরা যাত্রীদের কাছ থেকে ৫০ থেকে ১০০ টাকা ‘সার্ভিস চার্জ’ হিসেবে আদায় করছেন। এতে টিকিট নিশ্চিত থাকার পরও বিব্রতকর পরিস্থিতি এড়াতে যাত্রীরা বাড়তি অর্থ দিতে বাধ্য হন।
উত্তরবঙ্গের রংপুর রুটের হানিফ এন্টারপ্রাইজের এক সুপারভাইজার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘ঈদে অন্যান্য পেশায় বোনাস দেওয়া হলেও পরিবহন শ্রমিকদের জন্য তেমন কোনো ব্যবস্থা নেই। ফলে অতিরিক্ত ১০০ টাকা নেওয়াকে তারা অস্বাভাবিক মনে করেন না।’
অন্যদিকে, স্বল্প পাল্লার ও অপ্রচলিত পরিবহনগুলোতে দালালচক্র সক্রিয় থাকায় যাত্রীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে এবং অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে।
শৈলকূপা ডিলাক্সের টিকিট বিক্রেতা মো. রিয়াদ জানান, গাবতলীতে তাঁদের একাধিক কাউন্টার থাকা সত্ত্বেও অনেক যাত্রী দালালের মাধ্যমে টিকিট কেনেন। দালালরা অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার পর যখন যাত্রীরা প্রকৃত ভাড়া জানতে পারেন, তখন কাউন্টারে এসে বিতর্কে জড়ান।
দালালদের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘সারা বছর তাঁরা আমাদের জন্য যাত্রী জোগাড় করে। ঈদের সময় তাঁদের বাদ দিলে তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই এই ব্যবস্থাটি পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হয় না।’
ফরিদপুর রুটের গোল্ডেন লাইন পরিবহনের টিকিট বিক্রেতা আরিফ জানান, সারা বছর তারা ৪০০ টাকায় যাত্রী পরিবহন করলেও নতুন তালিকায় ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৮৫ টাকা, যা তাদের জন্য লোকসান। এছাড়া ফরিদপুর থেকে ফেরার পথে বাস খালি আসতে হয়। এ কারণে তাঁরা ওই রুটে বাস কমিয়ে দিয়ে তুলনামূলক লাভজনক বরিশাল রুটে বেশি বাস পরিচালনা করছেন।’
হানিফ এন্টারপ্রাইজের উত্তরবঙ্গ অঞ্চলের ম্যানেজার মো. হুমায়ুন কবির জানান, তাঁদের প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের বিরুদ্ধে যাত্রী হয়রানির কোনো অভিযোগ তাঁরা পাননি। তিনি দাবি করেন, বিআরটিএ নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে তাঁরা এক টাকাও অতিরিক্ত আদায় করেন না।
গাবতলীতে নাবিল পরিবহন, শ্যামলী পরিবহন, সোহাগ পরিবহন, দেশ ট্রাভেলস ও এসবি পরিবহনসহ আরও কয়েকটি পরিবহনের সঙ্গে কথা বললেও একই ধরনের বক্তব্য পাওয়া গেছে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, তাঁরা নির্ধারিত ভাড়ার মধ্যেই যাত্রী পরিবহন করছেন এবং অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়।
এদিকে, যাত্রী হয়রানি প্রতিরোধে গাবতলী বাসস্ট্যান্ডে ভিজিল্যান্স ক্যাম্প স্থাপন করেছে বিআরটিএ। বিআরটিএ’র সহকারী পরিচালক ও গাবতলী ভিজিল্যান্স ক্যাম্পের ইনচার্জ মইনুল হাসান বলেন, ‘কিছু অভিযোগ এলেও বুধবার পর্যন্ত ভাড়া সংক্রান্ত কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই যাত্রী নামিয়ে দেওয়ার কয়েকটি অভিযোগ পাওয়া গেছে।’
ভাড়া সংক্রান্ত বিভ্রান্তির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ভিন্ন ভিন্ন রুট দিয়ে একই জেলায় পৌঁছানো হয় বলে প্রতিটি রুটের জন্য আলাদা ভাড়া নির্ধারিত থাকে। কোনো নির্দিষ্ট রুটে টিকিট না পেলে যাত্রীরা অন্য রুটের বাসে উঠছেন, ফলে ভাড়ার তারতম্য হচ্ছে। এই বিষয়টি অনেক যাত্রী বুঝতে না পারায় সমস্যা তৈরি হচ্ছে। বিষয়টি ব্যাখ্যা করলে অধিকাংশ যাত্রী লিখিত অভিযোগ না দিয়ে ফিরে যাচ্ছেন।’
অন্যদিকে, সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বুধবার (১৮ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে গাবতলী বাসস্ট্যান্ড পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘সব বাস কাউন্টার থেকে নির্ধারিত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। এখন পর্যন্ত যাত্রী ভোগান্তির কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।’
সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, ‘কোথাও যানজট নেই এবং বাসগুলো সময়মতো ছেড়ে যাচ্ছে। কিছু কিছু পরিবহন নির্ধারিত ভাড়ার চেয়েও ২০ থেকে ৩০ টাকা কম নিচ্ছে।’
মন্ত্রী জানান, যাত্রীদের অভিযোগ গ্রহণের জন্য সেখানে পুলিশ বুথ রয়েছে এবং কেউ অতিরিক্ত ভাড়ার অভিযোগ করলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ঈদযাত্রার সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এবারের ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক। যাত্রীরা শৃঙ্খলার সঙ্গে ঢাকা ছাড়তে পারছেন। কোথাও বড় ধরনের বিঘ্নের খবর পাওয়া যায়নি।’

ঈদুল ফিতর ঘিরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আগেই ছুটি ঘোষণা হয়েছে। সরকারও আগেই সরকারের নির্দিষ্ট ছুটি ঘোষণা করেছে। সবমিলিয়ে লম্বা ছুটির কারণে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার অনেক আগেই ঢাকা ছাড়তে শুরু করেন মানুষ। এতে অন্যান্য বার শেষ মুহূর্তের যে চাপ থাকে, এবার তুলনামূলক সেটি না থাকায় অনেক যাত্রী নির্বিঘ্নে গন্তব্যে যেতে পারছেন। তবে এর মধ্যেও ঈদযাত্রা নিয়ে কিছুটা অস্বস্তি রয়ে গেছে। বিশেষ করে বাস ভাড়া এবং নির্ধারিত গন্তব্যে যাত্রী না নামানোর অভিযোগ উঠেছে বিভিন্ন পরিবহনের বিরুদ্ধে।
অবশ্য পরিবহন কর্তৃপক্ষের দাবি—এখন যে যাত্রীরা আসছেন তাঁদের অধিকাংশই অগ্রিম টিকিট কেটেছিলেন। বাসের সব সিট ইতিমধ্যে বুকড হয়ে আছে। তাই নতুন যাত্রী তুলনামূলক কম। তাই নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত কোনো অর্থ তাঁরা নিচ্ছেন না।
তবে যাত্রী ও শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অপরিকল্পিত রুট ব্যবস্থাপনা, ভাড়া নির্ধারণে অসামঞ্জস্য এবং শ্রমিকদের চুক্তির আওতায় না আনায় প্রতি বছরের মতো এবারও ঈদযাত্রায় হয়রানি দেখা গেছে।
অভিযোগ উঠেছে, অতিরিক্ত মুনাফার আশায় স্বল্প পাল্লার বাসগুলোকে দূরপাল্লার রুটে চালাচ্ছেন বাস কর্তৃপক্ষ। আর নিজেদের পরিকল্পনা কার্যকর করতে বাস শ্রমিকদের দালাল হিসেবে কাজে লাগিয়ে যাত্রীদের কাছ থেকে বেশি ভাড়া আদায় হচ্ছে। এতে নিকটবর্তী জেলার যাত্রীরা দূরপাল্লার টিকিট কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।
এমনই এক যাত্রী মাগুরার বাসিন্দা জহিরুল ইসলাম। তিনি জানান, প্রতি বছর গাবতলী থেকে প্রায় ৪০০ টাকায় মাগুরা যান। এবার তাঁকে জানানো হচ্ছে, মাগুরা যেতে হলে খুলনা পর্যন্ত টিকিট কাটতে হবে। আর এর জন্য ভাড়া গুনতে হবে ৮০০ টাকারও বেশি।
মিরপুরের বাসিন্দা আমেনা ইসলাম দুই শিশু মেয়ে ও স্বামীকে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি যশোরে যাচ্ছেন। ছুটি কবে শুরু হবে তা অনিশ্চিত থাকায় আগে থেকে টিকিট কাটতে পারেননি। বাস কোম্পানিগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাঁকে আশ্বস্ত করা হয়েছিল, টিকিট পাওয়া যাবে। কিন্তু এখন যশোরের টিকিট পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। সাতক্ষীরা রুটের বাসে এখন তাঁর কাছে ১২০০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া চাওয়া হচ্ছে।
আমেনা ইসলামের অভিযোগ, পরিকল্পনা করে পরিবহন মালিকরা এখন যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করছেন।
গাবতলী বাসস্ট্যান্ডে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) টাঙানো তথ্য অনুযায়ী, উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গ মিলিয়ে প্রায় ৬০টি রুট রয়েছে। এর মধ্যে যশোর, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও মাগুরাগামী যাত্রীরা বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন।
খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, বগুড়ার নির্ধারিত ভাড়া ৫০০ টাকা। কিন্তু লালমনিরহাটগামী বাসে উঠলে বগুড়ার জন্য ৯৮০ টাকা, কুড়িগ্রাম রুটে ৯৯০ টাকা, গাইবান্ধা ৭৬০, রংপুর ৮৭০, ঠাকুরগাঁও ১০৮০ এবং পঞ্চগড় রুটে ১১৮০ টাকা দিতে হচ্ছে।
একইভাবে যশোরের ভাড়া ৭২০ টাকা হলেও খুলনা রুটে গেলে ৮৩০ টাকা, বাগেরহাট ৯৩০, কালীগঞ্জ ১০৩০, সাতক্ষীরা ৯৬০ এবং বেনাপোলে ৭৭০ টাকা দিতে হচ্ছে।
বুয়েটের ট্রান্সপোর্ট ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে পাস করা জহিরুল ইসলামের মতে, বাস ভাড়া জেলাভিত্তিক হওয়া উচিত। একাধিক রুট থাকলে ৫০ থেকে ১০০ টাকার পার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু এর বেশি পার্থক্য যাত্রী হয়রানির শামিল।
ভাড়া সংক্রান্ত হয়রানি এখানেই শেষ নয়। সাধারণত বড় ও প্রতিষ্ঠিত পরিবহন কোম্পানিগুলো সরাসরি অতিরিক্ত ভাড়া নেয় না। অনেক ক্ষেত্রে পরিবনহগুলোর অনলাইনে টিকিট বুকিংয়ের সুবিধা রয়েছে। তবে যেহেতু পরিবহন শ্রমিকদের অধিকাংশই চুক্তির আওতায় নেই এবং তাঁরা ঈদ বোনাস বা অতিরিক্ত সুবিধা পান না। তাই অনেক ক্ষেত্রে তাঁরা যাত্রীদের কাছ থেকে ৫০ থেকে ১০০ টাকা ‘সার্ভিস চার্জ’ হিসেবে আদায় করছেন। এতে টিকিট নিশ্চিত থাকার পরও বিব্রতকর পরিস্থিতি এড়াতে যাত্রীরা বাড়তি অর্থ দিতে বাধ্য হন।
উত্তরবঙ্গের রংপুর রুটের হানিফ এন্টারপ্রাইজের এক সুপারভাইজার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘ঈদে অন্যান্য পেশায় বোনাস দেওয়া হলেও পরিবহন শ্রমিকদের জন্য তেমন কোনো ব্যবস্থা নেই। ফলে অতিরিক্ত ১০০ টাকা নেওয়াকে তারা অস্বাভাবিক মনে করেন না।’
অন্যদিকে, স্বল্প পাল্লার ও অপ্রচলিত পরিবহনগুলোতে দালালচক্র সক্রিয় থাকায় যাত্রীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে এবং অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে।
শৈলকূপা ডিলাক্সের টিকিট বিক্রেতা মো. রিয়াদ জানান, গাবতলীতে তাঁদের একাধিক কাউন্টার থাকা সত্ত্বেও অনেক যাত্রী দালালের মাধ্যমে টিকিট কেনেন। দালালরা অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার পর যখন যাত্রীরা প্রকৃত ভাড়া জানতে পারেন, তখন কাউন্টারে এসে বিতর্কে জড়ান।
দালালদের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘সারা বছর তাঁরা আমাদের জন্য যাত্রী জোগাড় করে। ঈদের সময় তাঁদের বাদ দিলে তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই এই ব্যবস্থাটি পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হয় না।’
ফরিদপুর রুটের গোল্ডেন লাইন পরিবহনের টিকিট বিক্রেতা আরিফ জানান, সারা বছর তারা ৪০০ টাকায় যাত্রী পরিবহন করলেও নতুন তালিকায় ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৮৫ টাকা, যা তাদের জন্য লোকসান। এছাড়া ফরিদপুর থেকে ফেরার পথে বাস খালি আসতে হয়। এ কারণে তাঁরা ওই রুটে বাস কমিয়ে দিয়ে তুলনামূলক লাভজনক বরিশাল রুটে বেশি বাস পরিচালনা করছেন।’
হানিফ এন্টারপ্রাইজের উত্তরবঙ্গ অঞ্চলের ম্যানেজার মো. হুমায়ুন কবির জানান, তাঁদের প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের বিরুদ্ধে যাত্রী হয়রানির কোনো অভিযোগ তাঁরা পাননি। তিনি দাবি করেন, বিআরটিএ নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে তাঁরা এক টাকাও অতিরিক্ত আদায় করেন না।
গাবতলীতে নাবিল পরিবহন, শ্যামলী পরিবহন, সোহাগ পরিবহন, দেশ ট্রাভেলস ও এসবি পরিবহনসহ আরও কয়েকটি পরিবহনের সঙ্গে কথা বললেও একই ধরনের বক্তব্য পাওয়া গেছে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, তাঁরা নির্ধারিত ভাড়ার মধ্যেই যাত্রী পরিবহন করছেন এবং অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়।
এদিকে, যাত্রী হয়রানি প্রতিরোধে গাবতলী বাসস্ট্যান্ডে ভিজিল্যান্স ক্যাম্প স্থাপন করেছে বিআরটিএ। বিআরটিএ’র সহকারী পরিচালক ও গাবতলী ভিজিল্যান্স ক্যাম্পের ইনচার্জ মইনুল হাসান বলেন, ‘কিছু অভিযোগ এলেও বুধবার পর্যন্ত ভাড়া সংক্রান্ত কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই যাত্রী নামিয়ে দেওয়ার কয়েকটি অভিযোগ পাওয়া গেছে।’
ভাড়া সংক্রান্ত বিভ্রান্তির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ভিন্ন ভিন্ন রুট দিয়ে একই জেলায় পৌঁছানো হয় বলে প্রতিটি রুটের জন্য আলাদা ভাড়া নির্ধারিত থাকে। কোনো নির্দিষ্ট রুটে টিকিট না পেলে যাত্রীরা অন্য রুটের বাসে উঠছেন, ফলে ভাড়ার তারতম্য হচ্ছে। এই বিষয়টি অনেক যাত্রী বুঝতে না পারায় সমস্যা তৈরি হচ্ছে। বিষয়টি ব্যাখ্যা করলে অধিকাংশ যাত্রী লিখিত অভিযোগ না দিয়ে ফিরে যাচ্ছেন।’
অন্যদিকে, সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বুধবার (১৮ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে গাবতলী বাসস্ট্যান্ড পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘সব বাস কাউন্টার থেকে নির্ধারিত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। এখন পর্যন্ত যাত্রী ভোগান্তির কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।’
সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, ‘কোথাও যানজট নেই এবং বাসগুলো সময়মতো ছেড়ে যাচ্ছে। কিছু কিছু পরিবহন নির্ধারিত ভাড়ার চেয়েও ২০ থেকে ৩০ টাকা কম নিচ্ছে।’
মন্ত্রী জানান, যাত্রীদের অভিযোগ গ্রহণের জন্য সেখানে পুলিশ বুথ রয়েছে এবং কেউ অতিরিক্ত ভাড়ার অভিযোগ করলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ঈদযাত্রার সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘এবারের ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক। যাত্রীরা শৃঙ্খলার সঙ্গে ঢাকা ছাড়তে পারছেন। কোথাও বড় ধরনের বিঘ্নের খবর পাওয়া যায়নি।’

ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের নিয়ে বগুড়ার সান্তাহারে দুর্ঘটনার শিকার ট্রেনের ক্ষয়ক্ষতি কমানো ও দুর্ভোগ এড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
৩২ মিনিট আগে
ঈদের ছুটি শুরুর দ্বিতীয় দিনে যাত্রীদের ভিড় কিছুটা ভেড়েছে সদরঘাটে। পছন্দমতো ডেক ও কেবিন না পেয়ে হতাশ অনেক যাত্রী। বিআইডব্লিউটিএ সূত্রে জানা যায়, বুধবার (১৮ই মার্চ) বেলা ৩টা পর্যন্ত ৫১টি লঞ্চ সদরঘাট ছেড়ে গেছে। সদরঘাট পৌঁছেছে ৫৭টি।
১ ঘণ্টা আগে
ঈদুল ফিতরের ছুটিতে প্রায় ফাঁকা হয়ে গেছে ঢাকা। এ সময় চুরি, ছিনতাই, ডাকাতির আশঙ্কা বেড়ে যায়। এই ছুটিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) দিয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা নির্দেশনা। এমনকি মূল্যবানসামগ্রী থানায় রাখার সুযোগও পাবেন। আর পুলিশ সদস্যরাও বিশেষ দায়িত্ব পালন করছেন।
২ ঘণ্টা আগে
পবিত্র ঈদুল ফিতর ও স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে টানা ১০ দিন বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সব ধরনের পণ্য আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। বুধবার থেকে আগামী ২৭ মার্চ পর্যন্ত এই বন্দরে বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড বন্ধ ঘোষণা করেছে হিলি কাস্টমস সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশন।
৩ ঘণ্টা আগে