ঠাকুরগাঁওয়ে সমতলের চা-বাগানে বদলে যাচ্ছে অর্থনীতি, সম্ভাবনা পর্যটনেও
স্ট্রিম সংবাদদাতাঠাকুরগাঁও

কোনো পাহাড়ি ঢাল নয়, যতদূর চোখ যায় শুধু সমতল জমি। সেই জমিতেই সারি সারি চাগাছ। সীমান্তঘেঁষা জেলা ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীর নিটাল ডোবা গ্রামে এখন এমন দৃশ্যই চোখে পড়ে। সবুজ পাতার এই চাষ কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি করেছে।
নাগর নদীর অববাহিকায় গড়ে ওঠা এ অঞ্চলে এখন বাণিজ্যিকভাবে গ্রিন টি ও ব্ল্যাক টি উৎপাদন হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, উৎপাদিত চা রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে যাচ্ছে।
চা চাষিরা জানান, কয়েক বছরের মধ্যেই চা চাষ বদলে দিয়েছে এলাকার অর্থনীতির চিত্র। একসময় যে পতিত জমি গোচারণের কাজে ব্যবহৃত হতো, এখন সেই জমিই চায়ের সবুজ পাতায় ভরে উঠেছে। এসব বাগানে অন্তত তিন হাজার নারী-পুরুষ কৃষিশ্রমিক হিসেবে কাজ করছেন।
চা-বাগানে কাজ করা মুন্নীহার জানান, আগে আমন ধান রোপণের পর তাঁদের বেকার থাকতে হতো। অভাবে অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাতে হয়েছে। এখন চা-বাগানে সারা বছর কাজের সুযোগ পাওয়ায় সেই কষ্ট অনেকটাই কমেছে। এখানকার আয় দিয়েই তাঁর সংসার চলছে।
যেভাবে শুরু
১৯৯৯ সালে সমতলে চা চাষের জন্য পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁওয়ে জরিপ চালায় বাংলাদেশ চা বোর্ড ও চা গবেষণা ইনস্টিটিউট। ২০০০ সালের দিকে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে চা চাষ শুরু হয়। ২০০৭ সালে ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় প্রথম বাণিজ্যিক ও ক্ষুদ্র পরিসরে চা চাষ শুরু হয়।
এর ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালে স্থানীয় উন্নয়ন সংস্থা ইএসডিওর সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘ইকো সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন’ (ইএমডিএফ)-এর উদ্যোগে বালিয়াডাঙ্গীর সোলার দোগাছি মৌজায় অর্গানিক পদ্ধতিতে চা চাষ শুরু হয়।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, এই অঞ্চলের বিপরীতে ভারতের পশ্চিম দিনাজপুরের ইসলামপুর মহকুমার কোদালদহ-ছোটা খানতি এলাকাজুড়ে রয়েছে চা-বাগান। সীমান্তের এ পাশেও সমতল ভূমিতে চা চাষের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। অর্গানিক পদ্ধতিতে চা চাষ শুরু হওয়ার পর থেকে বাগানের পরিধি ও উৎপাদন ধীরে ধীরে বাড়ছে।
ঠাকুরগাঁও জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মাজেদুল ইসলাম জানান, জেলায় বর্তমানে প্রায় ৫৯০ হেক্টর জমিতে চায়ের আবাদ হচ্ছে। তবে বালিয়াডাঙ্গীতে সম্পূর্ণ অর্গানিক পদ্ধতিতে চা চাষ করা হচ্ছে। সমতল ভূমিতে এ ধরনের চাষ কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলছে।
স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান রুবেল ইসলাম জানান, শুধু কর্মসংস্থান নয়; বাগান ঘিরে বদলে যাচ্ছে এই এলাকার পর্যটন চিত্রও। সবুজে ঘেরা চা-বাগানের সৌন্দর্য দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা।
বাগানের ফিল্ড অফিসার জুয়েল রানা জানান, সম্প্রতি বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন সমতল ভূমিতে চা চাষ ও উৎপাদন প্রক্রিয়া সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন।
.png)



-f1e129-256x144.webp)


