জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

সুষ্ঠু ঈদযাত্রা নিশ্চিতে বিশেষ দায়িত্ব পালন করবে ট্রাফিক পুলিশ

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ১৫ মার্চ ২০২৬, ২১: ২৯
এবার রাস্তায় ট্রাফিক কর্মকর্তার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। এআই দিয়ে তৈরি ছবি।

আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে বিশেষ দায়িত্ব পালন করবে পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ। আগামীকাল সোমবার অফিস শেষ করেই ঈদের ছুটিতে ঢাকা ছাড়বেন অনেকে। ২৩ মার্চ পর্যন্ত টানা সাত দিনের এই লম্বা ছুটিতে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরবেন অসংখ্য মানুষ। প্রিয়জনের সঙ্গে স্মৃতি আর আনন্দের এই যাত্রা যেন ভোগান্তি বা বিষাদে পরিণত না হয়, সেজন্য ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ বিশেষ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, সাধারণ মানুষের ঢাকা ত্যাগ এবং ঈদের পর পুনরায় ঢাকায় প্রবেশ পর্যন্ত সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকবে পুলিশ। অন্য সময়ের তুলনায় এবার রাস্তায় ট্রাফিক কর্মকর্তার সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এবারের ঈদে ঢাকা ছেড়ে যাবেন প্রায় দেড় কোটি মানুষ। এই বিশাল জনস্রোত মূলত বাস, ট্রেন ও লঞ্চে যাতায়াত করবেন। তবে বাসের ওপর চাপ সবচেয়ে বেশি থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে। রাজধানীর তিনটি প্রধান পয়েন্ট—মহাখালী, গাবতলী ও সায়দাবাদ দিয়ে বাসগুলো ঢাকা ত্যাগ করবে।

ঢাকার প্রবেশ ও বাহির হওয়ার মুখগুলোতে নেওয়া ব্যবস্থা প্রসঙ্গে ট্রাফিক গুলশান বিভাগের এডিসি মোহাম্মদ জিয়াউর রহমান স্ট্রিমকে বলেন, “মহাখালী টার্মিনালের আশপাশে বেশ কিছু ফুয়েল পাম্প আছে। আন্তজেলা বাসগুলো ঈদ উপলক্ষে ঢাকায় এসে এই পাম্পগুলোতে ভিড় করছে, ফলে ওই এলাকায় বড় চাপ তৈরি হয়। এই চাপ কমাতে আমাদের নিয়মিত ফোর্সের বাইরেও অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এই মুহূর্তে অতিরিক্ত ৭০ জন সদস্য কাজ করছেন। সব মিলিয়ে মহাখালীতে দৈনিক ১০০ জনেরও বেশি ট্রাফিক সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন।” তিনি আরও বলেন, “টার্মিনাল কর্তৃপক্ষের ভলান্টিয়ারদের সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। রাস্তায় যেন কোনো যাত্রী ওঠানামা না করে, সেজন্য কাউন্টারভিত্তিক সচেতনতা তৈরি করা হচ্ছে।”

ট্রাফিক ওয়ারী বিভাগের ডিসি মোহাম্মদ আজাদ রহমান বলেন, “ঈদে যানবাহনের প্রচুর চাপ থাকে। এসব সামাল দিতে আমাদের সর্বোচ্চ জনবল মোতায়েন থাকবে। সাধারণ ডিউটির তুলনায় বেশি অফিসার ও সদস্য মাঠে থাকবেন। ঢাকা ত্যাগের রাস্তাগুলোতে আমাদের অগ্রাধিকার থাকবে যাতে স্বাচ্ছন্দ্যে মানুষ যাত্রা উপভোগ করতে পারে। প্রয়োজনে আমরা সড়কে ডাইভারশন দেব।”

একইভাবে ট্রাফিক মিরপুর বিভাগের ডিসি মোহাম্মদ সানোয়ার হোসেন বলেন, “মানুষ যেন নির্বিঘ্নে বাড়ি যেতে পারে, সেজন্য আমাদের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা থাকবে। গাবতলী এলাকায় পর্যাপ্ত সংখ্যক সদস্য নিয়োগ করা হবে।”

ঈদযাত্রায় পুলিশের পরামর্শ
সড়ক ব্যবস্থাপনা নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠনের তথ্য অনুযায়ী, ঈদযাত্রায় দুর্ঘটনার হার বাড়ে। ২০২৫ সালের ঈদুল ফিতরের আগে ও পরের ১৫ দিনে দেশে ৩১৫টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩২২ জন নিহত এবং ৮২৬ জন আহত হয়েছিলেন। এর মধ্যে শীর্ষে ছিল মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা। ১৩৫টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৫১ জন নিহত ও ১৫৫ জন আরোহী আহত হন।

এবারের ঈদযাত্রায় দুর্ঘটনা এড়াতে বাংলাদেশ পুলিশ বিশেষ পরামর্শ দিয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তর থেকে বলা হয়েছে, পর্যাপ্ত সময় নিয়ে যাত্রার পরিকল্পনা করতে হবে এবং নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। চালককে দ্রুতগতিতে গাড়ি চালাতে চাপ দেওয়া যাবে না। বাসের ছাদ, ট্রাক বা পিকআপের মতো পণ্যবাহী যানবাহনে ঝুঁকিপূর্ণ ভ্রমণ থেকে বিরত থাকতে হবে। রাস্তা পারাপারে জেব্রা ক্রসিং বা ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অপরিচিত ব্যক্তির দেওয়া খাবার বা পানীয় গ্রহণ না করার জন্য সতর্ক করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, ঈদযাত্রায় কোনো বিপদে পড়লে পুলিশ সদর দপ্তরের কন্ট্রোল রুম (০১৩২০০০১৩০০ ও ০১৩২০০০১২৯৯) অথবা হাইওয়ে পুলিশ (০১৩২০১৮২৫৯৮), রেলওয়ে পুলিশ (০১৩২০১৭৭৫৯৮), নৌপুলিশ (০১৩২০১৬৯৫৯৮) এবং র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন বা র‍্যাব (০১৭৭৭৭২০০২৯) নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে।

সম্পর্কিত