রংপুরে আম বাগান ও সেচ ঘরে দুই কৃষকের মরদেহ উদ্ধার

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
রংপুর

প্রকাশ : ০৭ মে ২০২৬, ১৯: ১৭
মিঠাপুকুরের ময়েনপুর ইউনিয়নের একটি আম বাগানে এক কৃষকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সংগৃহীত ছবি

রংপুরে একই দিনে দুই কৃষকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৭ মে) জেলার পীরগঞ্জ ও মিঠাপুকুর থেকে তাঁদের লাশ উদ্ধার করা হয়। তবে সন্ধ্যা পর্যন্ত এসব ঘটনা কোনো মামলা হয়নি বলে নিশ্চিত করেছেন স্থানীয় থানা-পুলিশ। এর আগে বুধবার (৬ মে) রাতে পৃথক এ হত্যাকাণ্ড ঘটে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মিঠাপুকুরে নিহত আবু সাঈদ (৪০) কৃষি কাজ ও গবাদিপশু পালন করে সংসার চালাতেন। তিনি উপজেলার বালুয়া মাসিমপুর ইউনিয়নের উচা বালুয়া বালাবাড়ি গ্রামের আজগর আলীর ছেলে। তাঁকে গলাকেটে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ, পরিবার ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বুধবার বাড়ির কাজ শেষে পার্শ্ববর্তী শাল্টির বাজারে যান আবু সাঈদ। রাত ৮টার দিকে স্থানীয় বাজারে চাচা বিপুল মিয়ার সঙ্গে তাঁর শেষ দেখা হয়। গভীর রাত পর্যন্ত তিনি বাড়ি না ফেরায় পরিবারের লোকজন বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজিও তাঁর সন্ধান পাওয়া যায়নি।

বৃহস্পতিবার সকাল ৭টার দিকে উপজেলার ময়েনপুর ইউনিয়নের আকমল হোসেনের আম বাগানে রাস্তার পাশে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তির মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে থানায় খবর দেয় স্থানীয়রা। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মরদেহের ছবি দেখে আবু সাঈদকে শনাক্ত করেন পরিবারের সদস্যরা।

মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুজ্জামান বলেন, মরদেহের গলায় ধারালো অস্ত্রের গভীর ক্ষত চিহ্ন রয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ জেলা সদরে পাঠানো হয়েছে। হত্যার কারণ উদ্‌ঘাটন ও জড়িতদের চিহ্নিত করতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

একই দিন সকালে জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার বড় আলমপুর ইউনিয়নের উমরপুর মাঠে থাকা সেচঘর থেকে মফিজার রহমান নামের এক কৃষকের হাত-পা বাঁধা রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি ওই এলাকার সেচ মালিক মো. আমজাদ আলীর ছেলে। মফিজার রাতে নিজেদের বিএডিসির সেচ মেশিন ও ট্রান্সমিটার পাহারার দায়িত্বে ছিলেন বলে জানিয়েছেন পরিবার ও স্থানীয়রা।

পরিবার জানায়, প্রতিদিনের মতো গতকাল বুধবার রাতে মফিজার রহমান উমরপুর মাঠের সেচ ঘরে পাহারায় যান। বৃহস্পতিবার সকালে শহিদুল ইসলাম নামে এক কৃষক গরু নিয়ে মাঠে গেলে সেচ ঘরের দরজা খোলা ও ট্রান্সমিটার খুলে নেওয়া অবস্থায় দেখতে পান। পরে ঘরের ভেতরে গিয়ে তিনি মফিজার রহমানের হাত-পা বাঁধা রক্তাক্ত মরদেহ দেখে চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। খবর পেয়ে পীরগঞ্জ থানা-পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে।

পীরগঞ্জ থানার ওসি নজমুল হক বলেন, গভীর রাতে চোর চক্র সেচ ট্রান্সমিটার চুরি করতে এসে বাধা পেয়ে মফিজার রহমানকে হত্যা করে ট্রান্সমিটার নিয়ে পালিয়ে যায় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত