জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের জামিন

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

এবিএম খায়রুল হক। ছবি: ইউএনবি থেকে নেওয়া

হত্যা ও রায় জালিয়াতির চার মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। তবে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি মামলা এখনও বিচারাধীন থাকায় তিনি আপাতত কারামুক্তি পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।

রোববার (৮ মার্চ) বিচারপতি মো. খায়রুল আলম ও বিচারপতি মো. সগীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাই কোর্ট বেঞ্চ এসব মামলায় জামিন প্রশ্নে জারি করা রুলের শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আদালতের কার্যতালিকায় ২০ থেকে ২৩ নম্বর ক্রমিকে থাকা মামলাগুলোর শুনানির সময় বেলা ২টায় নির্ধারিত ছিল। শুনানি চলাকালে আদালত কক্ষে প্রবেশাধিকার সম্পূর্ণরূপে নিয়ন্ত্রিত রাখা হয়।

এদিন আদালতে খায়রুল হকের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী, সারা হোসেন, মোতাহার হোসেন সাজু ও সাঈদ আহমেদ রাজা। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আবদুল্যাহ আল মাহমুদ, নাহিদ হোসেন, মো. জহিরুল ইসলাম সুমন ও মো. আক্তারুজ্জামান।

এর আগে, গত বছরের ২৬ অক্টোবর হত্যা, রায় জালিয়াতি ও দুদকের মামলাসহ মোট পাঁচ মামলায় খায়রুল হককে কেন জামিন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছিল হাইকোর্টের আরেকটি বেঞ্চ।

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত বছরের ২৪ জুলাই সকালে রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ওইদিন রাতেই জুলাই আন্দোলনে রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে যুবদল কর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাঁকে কারাগারে পাঠান আদালত।

পরে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে বেআইনি রায় দেওয়া ও জাল রায় তৈরির অভিযোগে গত বছরের ২৭ আগস্ট রাজধানীর শাহবাগ থানায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুজাহিদুল ইসলাম শাহীনের দায়ের করা মামলায় খায়রুল হককে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। একই অভিযোগে গত বছরের ২৫ আগস্ট নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানায় নুরুল ইসলাম মোল্লা নামের এক ব্যক্তির করা অপর একটি মামলায়ও তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। শাহবাগ থানার মামলায় তাকে সাত দিনের রিমান্ডেও নেওয়া হয়েছিল।

দুদকের মামলা

এর আগে গত বছরের ৬ আগস্ট বিধিবহির্ভূতভাবে রাজউকের প্লট গ্রহণের অভিযোগে খায়রুল হকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে দুদক।

দুদকের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুনের করা ওই মামলায় খায়রুল হক ছাড়াও রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান মো. নুরুল হুদা, সাবেক সদস্য (অর্থ) ও সদস্য (এস্টেট) আ ই ম গোলাম কিবরিয়া, সাবেক সদস্য (অর্থ) মো. আবু বক্কার সিকদার, সাবেক সদস্য (পরিকল্পনা) মো. আনোয়ারুল ইসলাম সিকদার, সাবেক সদস্য (এস্টেট) আখতার হোসেন ভূঁইয়া, সাবেক যুগ্মসচিব ও সদস্য (উন্নয়ন) এম মাহবুবুল আলম এবং সদস্য (প্রশাসন ও ভূমি) নাজমুল হাইকে আসামি করা হয়।

এ বি এম খায়রুল হক ২০১০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ২০১১ সালের ১৭ মে পর্যন্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ ২০১১ সালের ১০ মে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে রায় দেয়, যার মধ্য দিয়ে নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্ত হয়।

সম্পর্কিত