leadT1ad

১০ বছরে বোয়িংয়ের ১৪ উড়োজাহাজ কিনবে বাংলাদেশ

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৬: ৫৩
রোববার সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন বাণিজ্য এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। স্ট্রিম ছবি

বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে ও নিজস্ব সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০৩৫ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং কোম্পানি থেকে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সচিবালয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বড় অঙ্কের বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর পাশাপাশি বাংলাদেশ বিমানের যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা বাড়াতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

বাণিজ্য উপদেষ্টা জানান, ২০২৫ সালে আকাশপথে বাংলাদেশ থেকে ১ কোটি ৬০ লাখ যাত্রী পরিবহন হলেও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স মাত্র ২০ লাখ যাত্রী বহন করেছে। পর্যাপ্ত উড়োজাহাজ না থাকায় দেড় কোটির বেশি যাত্রী হারিয়েছে জাতীয় সংস্থাটি। বর্তমানে বিমানের বহরে থাকা ১৪টি সচল উড়োজাহাজ দিয়ে চাহিদা মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। ২০৩৫ সাল নাগাদ বিমানের অন্তত ৪৭টি উড়োজাহাজ প্রয়োজন হবে, যার অংশ হিসেবে আপাতত ১৪টি বোয়িং কেনার প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে।

মূল্য নির্ধারণ ও ক্রয়ের বিষয়ে ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদকে প্রধান করে একটি নেগোসিয়েশন টিম গঠন করা হয়েছে। উপদেষ্টা বলেন, ‘এই ১৪ উড়োজাহাজের দাম আনুমানিক ৩০ থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকা হবে, যা ১০ থেকে ২০ বছরে কিস্তিতে পরিশোধ করা যাবে। প্রতি বছর প্রায় দেড় থেকে দুই হাজার কোটি টাকা পরিশোধ করতে হবে, যার বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের বার্ষিক রপ্তানি আয় এক লাখ কোটি টাকার বেশি।‘

সংবাদ সম্মেলনে বিমান সচিব জানান, বর্তমানে বিমান ১৯টি উড়োজাহাজ দিয়ে কার্যক্রম চালাচ্ছে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে ৪টি উড়োজাহাজ অবসরে যাবে। নতুন উড়োজাহাজ যুক্ত না হলে রুট পরিচালনা ব্যাহত হবে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক সম্প্রতি আরোপিত ৩৭ শতাংশ পারস্পরিক শুল্কের ফলে সৃষ্ট বাণিজ্যিক অনিশ্চয়তা কাটাতে ৬ বিলিয়ন ডলার বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর লক্ষ্যে এই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, উড়োজাহাজ ক্রয়ের এই প্রক্রিয়া ২০২৪ সাল থেকেই চলমান এবং কোনোভাবেই ‘তড়িঘড়ি’ করে নেওয়া সিদ্ধান্ত নয়। ইতোমধ্যে বোয়িং ও এয়ারবাসের প্রস্তাব বিশ্লেষণ করে টেকনো-ফিনান্সিয়াল কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে এবং বর্তমানে চূড়ান্ত দরকষাকষি চলছে।

Ad 300x250

সম্পর্কিত