leadT1ad

পাকিস্তানে দুই দশক পর পুনরায় উদযাপন হলো ঐতিহ্যবাহী ঘুড়ি উৎসব

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৮: ১৭
পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে শত বছরের ঐতিহ্যবাহী ঘুড়ি উৎসব। ছবি: রয়টার্স

পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে শতবছরের ঐতিহ্যবাহী ঘুড়ি উৎসব। উনিশ বছরের নিষেধাজ্ঞার পর আবারো চালু হয়েছে এই অনুষ্ঠান। উৎসব উপলক্ষে সেজে উঠেছে লাহোরের প্রতিটি রাস্তা।

সংবাদ সংস্থা রয়টার্স ও সংবাদমাধ্যম বিসির প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

শতাব্দীপ্রাচীন এই উৎসব মূলত বসন্তের আগমন উপলক্ষে আয়োজন করা হয়। ‘বাসন্ত’ নামের এই উৎসবের প্রধান আকর্ষণ হলো রঙ বেরঙের ঘুড়ি ওড়ানো। তবে, ২০০৭ সালে এটি নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।

ওই সময়ে বেশ কিছু হতাহতের কারণে উৎসবটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। ঘুড়ি ওড়ানোর এই উৎসব শুধু সৌন্দর্যের নয়, প্রতিযোগিতামূলকও। ঘুড়ির সুতো কেটে তাকে নামিয়ে দেওয়া এর প্রধান লক্ষ্য। কে কত ঘুড়ির সুতো কাটতে পারে, তা নিয়েই শুরু হয় প্রতিযোগিতা। এজন্য অনেকেই সুতোগুলো আরও ধারালো ও শক্ত করতে এতে গুঁড়ো কাচ, ধাতব বা রাসায়নিক উপাদান ব্যবহার করতেন; যা নিচে পড়ে মোটরসাইকেল আরোহীদের দুর্ঘটনার কারণ হতো। এছাড়াও ছাদ থেকে পড়ে যাওয়া এমনকি অতি উৎসাহী হয়ে আকাশে গুলি ছোড়ার কারণে পর পর কয়েক বছর বহু মানুষ আহত ও নিহত হয়েছিলেন। এমনকি আহত-নিহতের তালিকায় ছিল শিশুরাও।

অবশেষে জনগণের দাবির প্রেক্ষিতে গত বছর এ নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়। এ বছর পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজ শুধুমাত্র লাহোর শহরেই এই উৎসব উদযাপনের অনুমতি দিয়েছেন। এ বছর উৎসবের সূচনা হয় গত শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাতে—পাঞ্জাবের তথ্যমন্ত্রী আজমা বুখারি প্রথম ঘুড়ি উড়িয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বাসন্তের উদ্বোধন করেন।

লাহোরের রাস্তায় হাঁটলেই বোঝা যায়—বাসন্ত উৎসব ফিরে এসেছে। কোথাও বিদ্যুতের তারে আটকে থাকা ঘুড়ি নামানোর চেষ্টা, দূরে ঢোলের শব্দ, পুরনো শহরের সরু গলিতে মাথা তুললেই আকাশে রঙিন নিয়নের ঝলক। উৎসবটা যেন মাথার ওপরেই চলছে।

সূর্য অস্ত যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শহরের প্রায় প্রতিটি ছাদে সবার মাঝে দেখা যায় হাসি, চিৎকার আর আনন্দ। এর মাঝেই আকাশে ঘুড়িগুলো এঁকেবেঁকে উড়ছে।

লাহোরের প্রযুক্তি প্রকৌশলী আবু বকর আহমদ বলেন, ‘আমাদের আগের প্রজন্ম সবাই ঘুড়ি ওড়াতে জানে, কিন্তু আমরা জেন-জি-রা তেমন জানি না।’

অনেকের জন্য এবারই প্রথম ঘুড়ি ওড়ানো। নতুন প্রজন্ম আগে কখনো লাহোরের আকাশকে এমন দেখেননি। আবার কেউ কেউ বহু বছর পর তাদের পুরোনো অভ্যাসে ফিরছেন।

কানওয়াল আমিন বলেন, ঘুড়ি ওড়ানো হলেও এর মূল উদ্দেশ্য সবাই একসঙ্গে থাকা। লাহোরবাসীদের জন্য এটি শুধু ঘুড়ি আর সুতো নয়, এটি তাদের ঐতিহ্য।

তবে শহরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবার উৎসবটি মাত্র তিনদিনের জন্য আয়োজন করা হয়েছে। নিরাপত্তার প্রয়োজনে মোটরসাইকেল চালকদের হ্যান্ডেলের মধ্যে ধাতবদণ্ড বসানো হয়েছে, যাতে সুতো গলায় পেঁচিয়ে না যায়। বড় ঘুড়ি ও শক্ত সুতো নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

আগের বছরগুলোতে ধাতব সুতো বিদ্যুতের তারে পড়ে শর্ট সার্কিট ও বিদ্যুৎস্পৃষ্টের ঘটনা ঘটায় এবার কিছু রাস্তায় জাল বসানো হয়েছে। এছাড়াও ফেব্রুয়ারির আগে বিক্রি হওয়া ঘুড়ি ও বিপজ্জনক সুতো জব্দ করা হয়েছে।

লাহোর পুলিশের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল ফয়সাল কামরান ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে জানান, তারা এক লাখের বেশি ঘুড়ি ও ২ হাজার ১০০ রোল সুতো জব্দ করেছেন। এছাড়াও ড্রোন, সিসিটিভি ও সরাসরি নজরদারির মাধ্যমে ছাদ ও আকাশ পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

কর্তৃপক্ষ আশা করছে, নিরাপত্তা ব্যবস্থাগুলো সফল হবে। পাঞ্জাব সরকারও উৎসবটি ফেরানোর পক্ষে এবং সক্রিয়ভাবে প্রচার করছে। ঘুড়ি বিক্রেতা উসমান জানান, কয়েক দিনে তিনি সাত হাজারের বেশি ঘুড়ি বিক্রি করেছেন।

জেলা প্রশাসনের মুখপাত্র হারিস আলি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘আমাদের হিসাব অনুযায়ী বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত ঘুড়ি কেনাবেচার পরিমাণ ৩০০ কোটি রুপিরও বেশি ছাড়িয়ে গেছে।’

বাসন্ত উৎসবের দীর্ঘদিনের সমর্থক ইউসুফ সালাহউদ্দিন বলেন, ‘এই উৎসব শহরের অর্থনীতিতেও বড় ভূমিকা রাখে। এই আয়ের একটা অংশ স্বল্প আয়ের মানুষদের কাছেও পৌঁছায়। রাস্তার বিক্রেতা, রেস্তোরাঁ, হোটেল, সবাই এ থেকে উপকৃত হয়।’

বিবিসি ও রাটার্স থেকে অনুবাদ করেছেন মাহজাবিন নাফিসা

Ad 300x250

সম্পর্কিত