জাবিতে ধর্ষণচেষ্টা: প্রক্টর অবাঞ্ছিত, অভিযুক্তের সন্ধানে পুরস্কার ঘোষণা

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশ : ১৬ মে ২০২৬, ১৪: ১৭
জাবিতে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় প্রক্টরকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা। ছবি: সংগৃহীত

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) এক ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টায় অভিযুক্তের বিচারের দাবিতে চলমান আন্দোলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম রাশিদুল আলমকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন শিক্ষার্থীরা। এ ছাড়া অভিযুক্তের সন্ধান দিতে পারলে পুরস্কারের ঘোষণা করেছে পুলিশ।

প্রশাসনকে দেওয়া ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম শেষ হয়েছে। এর মধ্যে অপরাধী গ্রেপ্তার না হওয়ায় শনিবার (১৬ মে) উপাচার্য বাসভবনের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে জাবি শিক্ষার্থীরা এ ঘোষণা দেন।

সংবাদ সম্মেলনে নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ফারজানা তাবাসসুম রূপা বলেন, ‘আমাদের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হলেও অপরাধী গ্রেপ্তার হননি। বরং প্রশাসন ধারাবাহিকভাবে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে, বিভ্রান্তি তৈরি করেছে এবং নিজেদের দায় এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছে।’

প্রশাসনের এমন অসততাকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বেইমানি আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘১৩ মে নারী শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের সামনে যে দাবিগুলো উত্থাপন করেছিল, উপাচার্য নিজে সেখানে উপস্থিত থেকে সেসব দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দেন। অথচ আজ সেই একই প্রশাসন প্রকাশ্যে সেই অবস্থান অস্বীকার করছে।’

ফারজানা তাবাসসুম রূপা বলেন, ‘ভোর পর্যন্ত প্রক্টর আমাদের সামনে আসার ন্যূনতম সাহসও দেখাননি। ভোর ৫টার দিকে উপাচার্যের বাসভবনের ভেতর থেকেই প্রক্টর বের হয়ে আসেন। পরবর্তীতে সেই প্রক্টর প্রকাশ্যে আন্দোলনরত নারী শিক্ষার্থীদের ষড়যন্ত্রকারী বলে আখ্যা দেন। বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে আমরা এই প্রক্টরিয়াল বডিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করলাম।’

এ ছাড়া সংবাদ সম্মেলনে রোববার প্রশাসনিক ভবন অবরোধের ঘোষণা দেন শিক্ষার্থীরা। এ বিষয়ে ও আরও কর্মসূচি সম্পর্কে পরবর্তীতে বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানান তারা।

সংবাদ সম্মেলন শেষে, সকাল পৌনে দশটার দিকে উপাচার্যের বাসার সামনে থেকে প্রক্টর কার্যালয়ে যান আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এরপর সেখানে দেয়াল লিখন কর্মসূচি শুরু করেন। শিক্ষার্থীরা প্রক্টর অফিসের মূল দরজায় ‘অবাঞ্ছিত প্রক্টর’ লিখে দেন। কনফারেন্স রুমের দরজায় ‘Get Lost’ লিখতে দেখা যায়।

দেয়াল লিখন শেষে, প্রক্টর অফিস ও কনফারেন্সে রুমের তালা ভেঙে সেখানে নতুন তালা ঝুলিয়ে দেন শিক্ষার্থীরা।

অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী নাজিহা নাওয়ার বলেন, ‘আমাদের কর্মসূচির পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে প্রক্টর অফিসে তালা দিয়েছি। প্রক্টরকে আমরা অযোগ্য মনে করি। আমরা তাঁকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছি। যতদিন না পর্যন্ত যোগ্য কেউ আমাদের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিচ্ছে, ততদিন প্রক্টর অফিসে এই ব্যর্থ প্রক্টরকে যেতে দেব না।’

সন্দেহভাজনের ছবি প্রকাশ, সন্ধান মিললে পুরস্কারের ঘোষণা

এদিকে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা এক ব্যক্তির ছবি ও ভিডিও ধরে পরিচয় শনাক্তের কাজ করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অভিযুক্তের সন্ধান দিতে পারলে পুরস্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। শনিবার পুলিশ সদর দপ্তরের মিডিয়া শাখা থেকে এক জরুরি জনসচেতনতামূলক বার্তায় এই তথ্য জানানো হয়েছে।

সন্দেহভাজন ব্যক্তি। ছবি: সংগৃহীত
সন্দেহভাজন ব্যক্তি। ছবি: সংগৃহীত

বার্তায় বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে ছাত্রীকে আক্রমণ ও ধর্ষণচেষ্টার ঘটনার পর আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ফুটেজে এক সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে দেখা গেছে, যার পরিচয় শনাক্তে কাজ করছেন তদন্ত কর্মকর্তারা।

ওই ব্যক্তির পরিচয়, বর্তমান অবস্থান বা ঘটনা সংশ্লিষ্ট কোনো তথ্য কারও জানা থাকলে তা দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে। তথ্যের জন্য একটি বিশেষ হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর (01320-089305) চালু করা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে, তথ্যদাতার পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে। একই সঙ্গে যিনি নির্ভরযোগ্য ও সঠিক তথ্য দিতে পারবেন, তাকে যথাযথ পুরস্কৃত করা হবে।

সম্পর্কিত