সাবেক প্রতিমন্ত্রী মিজানুর রহমান সিনহা আর নেই

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
মুন্সিগঞ্জ

প্রকাশ : ১৬ মে ২০২৬, ১২: ০৯
মিজানুর রহমান সিনহা। সংগৃহীত ছবি

সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মিজানুর রহমান সিনহা আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। দীর্ঘদিন সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন থাকাবস্থায় শুক্রবার (১৬ মে) দিবাগত রাত ২টার দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।

মিজানুর রহমান সিনহার মেয়ে তাসনিম সিনহা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মিজানুর রহমান সিনহা দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন, সবশেষ দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির কোষাধ্যক্ষ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২০ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনি রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। পরে ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে তিনি আবার রাজনীতিতে ফেরেন, দায়িত্ব পান মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবে। একই বছরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের তালিকায় তার নাম এলেও অসুস্থতার কারণে পরবর্তী সময়ে মনোনয়ন পরিবর্তন করা হয়।

১৯৪৩ সালের ১৮ আগস্ট মুন্সীগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলার কলমা ইউনিয়নের ডহুরী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার গ্রামের বাড়ি ‘সিনহা হাউজ’ দীর্ঘদিন ধরে দর্শনীয় স্থান হিসেবে পরিচিত। তার পিতা হামিদুর রহমান সিনহা ছিলেন দেশের ওষুধ শিল্পের অন্যতম পথিকৃৎ এবং একমি গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা।

শৈশবে কলকাতায় বেড়ে ওঠা মিজানুর রহমান সিনহা পরবর্তী সময়ে নারায়ণগঞ্জ সরকারি তোলারাম কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।

১৯৬৪ সালে হাবিব ব্যাংকে চাকরির মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি। পরে ১৯৭৫ সালে পিতার প্রতিষ্ঠিত একমি গ্রুপে যোগ দেন এবং ১৯৮৩ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন।

ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন মিজানুর রহমান সিনহা। সরকারি তোলারাম কলেজে অধ্যয়নকালে ছাত্র ইউনিয়নের প্রার্থী হিসেবে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৯০ সালে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন এবং পরে দলের কেন্দ্রীয় কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি বিএনপির মনোনয়নে মুন্সীগঞ্জ-২ আসন থেকে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে দুবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালের সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নূরুল ইসলাম খান বাদল এবং ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলিকে পরাজিত করেন।

রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সামাজিক উন্নয়ন, জনকল্যাণমূলক কাজ ও দানশীলতার জন্য এলাকায় ব্যাপক পরিচিত ছিলেন তিনি।

তার মৃত্যুতে মুন্সীগঞ্জে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মুন্সীগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম আজাদ, মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান রতন, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মো. মহিউদ্দিনসহ বিএনপির নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

সম্পর্কিত