পাহাড়ধসে সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত, প্লাবিত নিম্নাঞ্চল

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি

খাগড়াছড়ির দীঘিনালার কবাখালী এলাকায় সড়ক দেবে সাজেকের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ। সংগৃহীত ছবি

টানা ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে খাগড়াছড়িতে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) চেঙ্গী ও মাইনী নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে জেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এদিকে রাঙামাটির বিভিন্ন সড়কে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে সকালে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম-বাঙালহালিয়া সড়কে সাময়িক যান চলাচল বন্ধ ছিল। তবে বন্ধ আছে খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা।

খাগড়াছড়ি-সাজেক সড়কের দীঘিনালা-কবাখালি অংশ এবং বাঘাইহাট, মাচালং এবং সীমানাছড়া— চারটি পয়েন্টে এখনো সড়কের ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। বন্ধ রয়েছে সাজেকের সঙ্গে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ। এতে সাজেকে আটকা পড়া পর্যটকদের দ্রুত ফেরা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আজ বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় দুপুরে দিকে নৌযান ও সড়ক পথে কিছু পর্যটককে ঝুঁকি নিয়ে জেলা শহরে ফিরতে দেখা গেছে।

রাঙামাটি-চট্টগ্রাম জাতীয় মহাসড়কের সাপছড়িতে পাহাড়ধসে আড়াই ঘন্টা যান চলাচল ব্যাহত। সংগৃহীত ছবি
রাঙামাটি-চট্টগ্রাম জাতীয় মহাসড়কের সাপছড়িতে পাহাড়ধসে আড়াই ঘন্টা যান চলাচল ব্যাহত। সংগৃহীত ছবি

এদিকে দীঘিনালা উপজেলার বোয়ালখালী, কবাখালী ও মেরুং ইউনিয়নের প্রায় ২০ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে পানিবন্দি রয়েছে কয়েক হাজার মানুষ। ইতিমধ্যে উপজেলার ২০টি আশ্রয় কেন্দ্রে গতকাল রাত থেকে দেড় সহস্রাধিক মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। বন্যা দুর্গত মানুষের সহায়তায় উপজেলা প্রশাসন পক্ষ থেকে খিচুড়িসহ গরম খাবার রান্না করে দেওয়া হচ্ছে।

দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিল পারভেজ বলেন, উপজেলায় ২০টি আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় দুই হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। তাঁদের খাবার ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। রাতে পানি কিছুটা কমলেও আবার বাড়তে শুরু করেছে।

এদিকে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী পরিবারগুলোকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। শহরের শালবন, মোহাম্মদপুর, সবুজবাগ, কুমিল্লা টিলা, কলাবাগান, নুনছড়িবাজার, মোল্লাপাড়া, কৈবল্যপিঠ ও আঠারো পরিবার এলাকাসহ ঝুঁকিপূর্ণ স্থানের বাসিন্দাদের বিশেষ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত বলেন, জেলার বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় মোট ১৩৫টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। আশ্রয় নেওয়া মানুষদের জন্য খাবারসহ প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

মারিশ্যা-বাঘাইহাট সড়ক দেবে বাঘাইছড়ির সঙ্গে সারাদেশের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ। সংগৃহীত ছবি
মারিশ্যা-বাঘাইহাট সড়ক দেবে বাঘাইছড়ির সঙ্গে সারাদেশের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ। সংগৃহীত ছবি

রাঙামাটিতে পাহাড় ধসে যান চলাচল ব্যাহত

এদিকে পাহাড়ধস ও বৃষ্টিপাতে সড়ক ডুবে যাওয়ায় রাঙামাটির সঙ্গে পর্বত্য খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বন্ধ আছে। এছাড়া মারিশ্যা-বাঘাইহাট সড়ক দেবে বাঘাইছড়ির সঙ্গে সারাদেশের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।

সওজ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে সাপছড়ি এলাকায় রাঙামাটি-চট্টগ্রাম মহাসড়কে পাহাড়ধসে যানচলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। পরে দুপুরে সাড়ে ১২টার দিকে যানচলাচল স্বাভাবিক হয়। এর আগে সকাল ৬টার দিকে রাঙামাটি-বান্দরবান যাওয়ার সড়কের চন্দ্রঘোনা-বাঙ্গালহালিয়া সড়কের মতিপাড়া এলাকায় পাহাড়ধসে যান চলাচল বন্ধ যায়। পরে বিকাল ৩টার দিকে সড়কে যানচলাচলে স্বাভাবিক করা হয়।

বর্তমানে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও চন্দ্রঘোনা-বাঙালহালিয়া সড়কে যানচলাচল স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানান রাঙামাটি সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা।

এদিকে, রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার মারিশ্যা-বাঘাইহাট সড়কের ২ কিলো এলাকায় সড়ক দেবে গিয়ে বাঘাইছড়ি উপজেলার সঙ্গে খাগড়াছড়ির ও দীঘিনালা সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।

খাগড়াছড়ি সড়ক বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী প্রিয়দর্শী চাকমা বলেন, বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন জায়গায় সড়কে পানি ওঠায় আমরা ঘটনাস্থলে যেতে পারছি না। বিষয়টি আমরা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানিয়েছি। আমরা চেষ্টা করছি সড়কটি সচল করার।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয়ের তথ্য মতে, জেলার ২০৪টি আশ্রয়কেন্দ্রের মধ্যে ৩৪টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৪ হাজার ২৬৫ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। তবে বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রের আশ্রিত নিয়মিত খাবার-পানি পাচ্ছেন না অভিযোগ আসছে।

Ad 300x250

সম্পর্কিত