রমজানের পরেই এসএসসি পরীক্ষা: শিক্ষামন্ত্রী

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ৩১ আগস্ট ২০২৬, ১৭: ৪৫
সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন। ছবি: সংগৃহীত
সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন। ছবি: সংগৃহীত

আসন্ন রমজান ও পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতির কথা বিবেচনায় এসএসসি পরীক্ষা এগিয়ে আনা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন। তাই আগামী এসএসসি পরীক্ষা রোজার পরেই অনুষ্ঠিত হবে।

আজ সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই তথ্য জানান। শিক্ষামন্ত্রীর সাম্প্রতিক চীন সফর নিয়ে মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, বর্ষা ও বন্যার মৌসুমে এসএসসি পরীক্ষা আয়োজনের জটিলতা এড়িয়ে শিক্ষাবর্ষকে একটি নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে আনার পরিকল্পনা ছিল সরকারের। তিনি বলেন, ‘আমাদের পরিকল্পনা ছিল বছরের শুরুতে এসএসসি এবং এরপর এইচএসসি পরীক্ষা শেষ করা; যাতে শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি ও বিদেশে পড়তে যাওয়ার সময়সূচির সাথে সমন্বয় করা সম্ভব হয়। সেই অনুযায়ী পরীক্ষা নেওয়ার সবচেয়ে উপযুক্ত সময় ছিল ফেব্রুয়ারি মাস। কিন্তু রোজার কারণে তখন পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।’

মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ভেবেছিলাম জানুয়ারির ৭ তারিখে পরীক্ষা শুরু করলে ফেব্রুয়ারির ৭ তারিখে শেষ হবে। এরপর ফেব্রুয়ারির ১০ তারিখ থেকে মার্চের ১০ তারিখ পর্যন্ত রোজা চলবে।’ তবে অংশীজনদের অনুরোধে পরীক্ষা এগিয়ে আনার পরিকল্পনা করতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির বিষয়টি সামনে আসে বলে জানান তিনি।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘দেখা যায়, দশম শ্রেণির সিলেবাস শেষ হলেও নবম শ্রেণির পড়ালেখা রিভিউ করার পর্যাপ্ত সুযোগ শিক্ষার্থীরা পাচ্ছে না। তাই সার্বিক দিক বিবেচনা করে পরীক্ষা এগিয়ে আনার পরিকল্পনা থেকে সরে এসে রোজার পরেই নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

পরীক্ষা আরও পেছানোর কোনো সম্ভাবনা আছে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘না, এসএসসি পরীক্ষা আর পেছানোর কোনো কারণ নেই। কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি না ঘটলে পরীক্ষা পেছাবে না।’

শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির জন্য পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘প্রায় দেড় বছর আগেই পরীক্ষার এই পরিকল্পনার কথা জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কাজেই তারা যথাযথ প্রস্তুতি নিচ্ছে।’

কারিগরি ও উচ্চশিক্ষার উন্নয়ন প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘টিটিসি হচ্ছে উচ্চশিক্ষা। আমরা আমাদের টিভিইটি সেক্টরকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি এবং মাননীয় উপদেষ্টাও এ বিষয়ে কাজ করেছেন।’

তিনি বলেন, টিভিইটি খাতে জাপান কীভাবে সহযোগিতা করতে পারে, তা নিয়ে কাজ চলছে। পাশাপাশি ক্রস বর্ডার এডুকেশন কার্যক্রমে মালয়েশিয়ান মডেল অনুসরণের কথাও ভাবছে সরকার।

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ‘কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়নে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আমাদের যেসব দুর্বলতার কথা আপনারা তুলে ধরেছেন, সেগুলোর ওপর ভিত্তি করেই আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাবো।’

এ সময় শিক্ষা খাতের সার্বিক উন্নয়নে সবার আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত