‘ডিবি হেফাজতে’ ছাত্রলীগকর্মীর মৃত্যুর আগে কী ঘটেছিল, ভিডিও ফেসবুকে

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
ফরিদপুর

প্রকাশ : ২৬ জুন ২০২৬, ২২: ১৪
ফরিদপুরে ‘ডিবি হেফাজতে’ নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কর্মী মির্জা ইশতিয়াক আহমেদ প্রান্তের মৃত্যুর ঘটনায় আটকের ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

ফরিদপুরের মধুখালীতে ‘ডিবির হেফাজতে’ নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কর্মী মির্জা ইশতিয়াক আহমেদ প্রান্তের (২৮) মৃত্যুর ঘটনায় নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাত থেকে ফেসবুকে তাঁর আটকের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। এটি ঘিরে ডিবির অভিযানের ধরন ও ইশতিয়াকের মৃত্যুর কারণ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

প্রান্ত মধুখালী পৌরসভার পশ্চিম গোন্দারদিয়া এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি ফরিদপুর আইন কলেজের শিক্ষার্থী ও স্থানীয় ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

ফেসবুকে ভাইরাল প্রান্তকে আটকের ২ মিনিট ৩৯ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, ২১ জুন বিকেলে মধুখালী উপজেলার পৌরসদরের গোন্দারদিয়া এলাকায় নিজ বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে প্রান্ত। পরনে লুঙ্গি ও কাঁধে একটি ল্যাপটপের ব্যাগ। সেখানে উপস্থিত কয়েকজন (যাদের স্থানীয়রা ডিবি পুলিশের সদস্য বলে দাবি করছেন) প্রান্তকে ঘিরে ধরেন।

লাল রঙের টি-শার্ট পরা এক ব্যক্তি প্রথমে প্রান্তর গতিরোধ করে কথা বলার চেষ্টা করেন। পরে সাদা টি-শার্ট পরা আরেকজন এসে প্রান্তকে ধরে তল্লাশি করেন। এ সময় প্রান্তকে দুই কান ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। সাদা টি-শার্টের ব্যক্তিকে গালাগাল ও প্রান্তকে থাপ্পড় দেন। এ সময় লাল টি-শার্টের ব্যক্তি তাঁকে থামিয়ে বলেন, ‘মারিস না’।

ভিডিওর ৪৩ সেকেন্ডে ছাই রঙের চেক শার্ট পরা আরেক ব্যক্তিকে মোবাইলে বলতে শোনা যায়– লাঠি নিয়ে মরিচবাজার এলাকায় আসেন, দ্রুত আসেন। পরে তাঁকেও প্রান্তর দেহ তল্লাশির কাজে অংশ নিতে দেখা যায়। একপর্যায়ে একটি সাদা রঙের মাইক্রোবাস ঘটনাস্থলে আসে। তা থেকে নারীসহ কয়েকজন প্রান্তদের কাছে আসেন।

আটকের পরে ডিবির সদস্যরা ঘিরে ধরে প্রান্তকে তল্লাশি করেন। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া
আটকের পরে ডিবির সদস্যরা ঘিরে ধরে প্রান্তকে তল্লাশি করেন। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

ভিডিওর ২ মিনিট ৭ সেকেন্ডের সময় ছাই রঙের শার্ট পরা ব্যক্তিকে কিছু একটি দেখিয়ে এই যে এক টোপলা বলতে শোনা যায়। ভিডিওতে স্পষ্ট, ওই বস্তুটি প্রান্তের তল্লাশির স্থান থেকে কিছুটা দূরে ছিল।

এই ব্যাপারে গত ১৯ জুন প্রান্তর মা খাদিজা আক্তার সাংবাদিকদের বলেছিলেন, আটকের পর ডিবি সদস্যরা আমার ছেলেকে নিয়ে বাড়িতে আসেন। নারী সদস্য দিয়ে আমাকেও তল্লাশি করা হয়। পরে বাড়িঘর তল্লাশি করে আমার ছেলেকে নিয়ে যাওয়া হয়। রাতে ৬৫ হাজার টাকা দিলে আমার ছেলেকে ছেড়ে দেওয়া হবে বলে এক আত্মীয়ের সঙ্গে ডিবি পুলিশের কথা হয়েছিল। পরে ডিবি জানায়, এই ছেলে ছাত্রলীগ করে, আজ তাঁকে ছাড়া হবে না। পরদিন সকালে ১ লাখ টাকা নিয়ে ফরিদপুরে যেতে বলা হয়।

তিনি বলেন, সকালে আমি ১ লাখ টাকা নিয়ে ফরিদপুরে যাই। পরে শুনি আমার ছেলেকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালে গিয়ে আমার ছেলের লাশ পাই। আমার ছেলেকে আমার সামনে থেকে জীবিত নিয়ে গেল, পরে তাঁর লাশ পেলাম।

তবে প্রান্তর মৃত্যুর পর গত ২২ জুন ফরিদপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, মাদকবিরোধী অভিযানে প্রান্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। হেফাজতে থাকা অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে প্রথমে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতাল, পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রান্ত মারা যান।

তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে তাঁরা জেনেছেন– মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের কারণে প্রান্তের মৃত্যু হয়েছে। তাঁর শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি এবং পুলিশ হেফাজতে কোনো ধরনের শারীরিক নির্যাতন করা হয়নি।

এদিকে, প্রান্তর মৃত্যুর সঠিক তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ফরিদপুর জেলা বিএনপির সদস্যসচিব এ কে এম কিবরিয়া। স্থানীয় বিএনপির একাধিক নেতাও ঘটনাটিকে ‘হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে উল্লেখ করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

Ad 300x250

সম্পর্কিত