সরকারি হাসপাতালে দামি যন্ত্র কেনার পরই নষ্ট হয় কেন, তদন্তের আহ্বান চসিক মেয়রের

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
চট্টগ্রাম

প্রকাশ : ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ১১: ৫৬
ডা. শাহাদাত হোসেন। সংগৃহীত ছবি

সরকারি হাসপাতালে দামি রোগনির্ণয়যন্ত্র কেনার কিছুদিনের মধ্যেই বিকল হয়ে যাচ্ছে অভিযোগ করে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, এর পেছনে কোনো ‘অদৃশ্য সিন্ডিকেট’ কাজ করছে কি না তা খতিয়ে দেখা দরকার।

সোমবার (৬ এপ্রিল) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

বৈঠকে তার মূল আলোচ্য বিষয় ছিল চসিকের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের আবাসন প্রকল্প। তবে সেটি উপস্থাপিত না হলেও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন প্রকল্প ও সরকারি হাসপাতাল পরিচালনা নিয়ে মতামত দেন তিনি। বৈঠক শেষে মেয়র নিজেই স্ট্রিমকে এসব কথা বলেন।

মেয়র বলেন, ‘দামি যন্ত্র শুধু কিনলেই হবে না। কেন হঠাৎ সেগুলো নষ্ট হচ্ছে, সেটাও খতিয়ে দেখতে হবে। অনেক সময় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে প্রচুর ব্যবসায়িক সুবিধা দেওয়ার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে মেশিনগুলো খারাপ রাখা হয়।’

মেয়র আরও বলেন, ‘যেসব কোম্পানির সঙ্গে (যন্ত্র ক্রয়সংক্রান্ত) চুক্তি হয়, তাদের তিন থেকে পাঁচ বছরের বিনামূল্যে সার্ভিস দিতে হবে। হাসপাতালেও অভিজ্ঞ জনবল থাকা উচিত, যাতে যন্ত্রগুলো ঠিকমতো পরিচালনা করা যায়। এমআরআই বা সিটি স্ক্যানের একেকটি অংশের দাম ২০–৪০ লাখ টাকার মতো। তাই পোস্ট সেল সার্ভিস অপরিহার্য।’

এদিকে বৈঠকে জাইকার অর্থায়নে ঢাকার ও চট্টগ্রামের ১৭০টি ওয়ার্ডে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র স্থাপনের সম্ভাব্যতা সমীক্ষার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। একনেকের আগামী সভায় এই প্রকল্প অনুমোদনের কথা রয়েছে।

চসিক পরিচ্ছন্ন কর্মীদের জন্য আবাসন প্রকল্পের ব্যয় ২৩১ কোটি টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ৩০৯ কোটি টাকা এবং বাস্তবায়ন মেয়াদ ২০২৮ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাবও প্রস্তুত করা হয়েছে। মেয়র বলেন, ‘এটি অলাভজনক প্রকল্প। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের জন্য। সম্পূর্ণ ব্যয় সরকার বহন করাই যৌক্তিক।’

সম্পর্কিত