রায়ে সন্তুষ্ট নন আবু সাঈদের মা-বাবা, ক্ষোভ

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৯: ১১
আবু সাঈদের মা ও বাবা। সংগৃহীত ছবি

ছেলের হত্যার রায়ে আংশিক বিচার হয়েছে দাবি করে ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন শহীদ আবু সাঈদের মা-বাবা। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে রায় ঘোষণার পর রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বাবনপুর গ্রামে নিজ বাড়িতে এ প্রতিক্রিয়া জানান তাঁরা।

আবু সাঈদের মা মনোয়ারা বেগম বলেন, ‘আমার ছেলের বিচার এখনো সঠিক হয়নি। বিচার আরোও করতে লাগবে। এই জন্য আমার মন, আমার অন্তর ঠান্ডা হয়নি। সরকারের কাছে আমার এটাই দাবি আরোও যেন ফাঁসি হয়। এই জন্য আমার মন সন্তুষ্ট হয়নি।’

আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন বলেন, ‘এ রায়ে সন্তুষ্ট নই আমি। কনস্টেবলদের মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়েছে। তাদের ওপর লেভেলের অফিসাররা যারা সমর্থন করছে গুলি করার জন্য, তারা এড়াই গেছে। ভালো তদন্ত করে তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া উচিত। এই জন্য আমি সন্তুষ্ট নই।’

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী প্রথম শহীদ আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বৃহস্পতিবার রায় দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। রায়ে ৩০ আসামির মধ্যে দুজনকে মৃত্যুদণ্ড, তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং বাকি ২৫ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ সর্বসম্মতিক্রমে এ রায় ঘোষণা করেন। অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

আজকের রায়ে পাঁচজনকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাঁরা হলেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) সাবেক উপাচার্য ড. হাসিবুর রশিদ ওরফে বাচ্চু, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক কমিশনার মনিরুজ্জামান ওরফে বেল্টু, বেরোবির সহযোগী অধ্যাপক মশিউর রহমান, সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মণ্ডল ওরফে আসাদ ও বেরোবি ছাত্রলীগের তৎকালীন সভাপতি পোমেল বড়ুয়া।

এ ছাড়াও পাঁচ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন সাবেক উপপুলিশ কমিশনার আবু মারুফ হোসেন ওরফে টিটু, সাবেক অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার শাহ নূর আলম পাটোয়ারী ওরফে সুমন, বেরোবির সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, বেরোবি ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এমরান চৌধুরী ওরফে আকাশ ওরফে দিশা, বেরোবি ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাসুদুল হাসান ওরফে মাসুদ, বেরোবির অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মাহাবুবার রহমান ওরফে বাবু, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) রংপুরের সভাপতি ডা. সারোয়ার হোসেন ওরফে চন্দন, বেরোবির সাবেক প্রক্টর শরীফুল ইসলাম।

রায়ে তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে বেরোবির সহকারী রেজিস্ট্রার হাফিজুর রহমান ওরফে তুফান, সেকশন অফিসার মনিরুজ্জামান পলাশ, ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহাফুজুর রহমান শামীম, ছাত্রলীগের সহসভাপতি ফজলে রাব্বী ওরফে গ্লোরিয়াস ফজলে রাব্বী, ছাত্রলীগের সহসভাপতি আখতার হোসেন, ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সেজান আহম্মেদ ওরফে আরিফ, ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ধনঞ্জয় কুমার ওরফে টগর, ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদক বাবুল হোসেন, এমএলএসএস মোহাম্মদ নুরুন্নবী মন্ডল, সিকিউরিটি গার্ড নূর আলম মিয়া এবং বেরোবির এমএলএসএস এ কে এম আমির হোসেন ওরফে আমুকে।

এ ছাড়া প্রক্টর অফিসের চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী আনোয়ার পারভেজ ওরফে আপেলের হাজতবাস সময়কে কারাদণ্ড হিসেবে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।

সম্পর্কিত