মিরপুরে বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার: সন্তানদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চেয়ে রিট

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০৩ জুন ২০২৬, ১৭: ৩৩
হাইকোর্ট ভবন। সংগৃহীত ছবি

রাজধানীর মিরপুরের একটি ফ্ল্যাট থেকে বৃদ্ধা নূরজাহান বেগমের (৭৫) গলিত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তাঁর সন্তানদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে। প্রবীণদের সুরক্ষায় সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীনে ‘কেয়ারগিভার’ বা সেবাকর্মী নিয়োগের নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে এই জনস্বার্থমূলক আবেদনে।

বুধবার (৩ জুন) অ্যাডভোকেট মো. শরীফ সরকারের পক্ষে জনস্বার্থে এই রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এইচ এম সানজিদ সিদ্দিকী।

রিট আবেদনে বলা হয়েছে, গত ৩১ মে মিরপুর-১১-এর পল্লবী এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে নূরজাহান বেগমের পচনধরা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশের ধারণা, উদ্ধারের অন্তত সাত-আট দিন আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছিল। ফ্ল্যাটটি অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর, আবর্জনায় পূর্ণ ও দুর্গন্ধযুক্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। মর্মান্তিক বিষয় হলো, নিহত বৃদ্ধার এক মেয়ে একই ফ্ল্যাটের পাশের কক্ষে বসবাস করলেও তিনি মায়ের মৃত্যুর খবর পুলিশকে জানাননি।

নূরজাহান বেগমের চার সন্তানের মধ্যে বড় ছেলে সরকারের একজন যুগ্ম সচিব, মেজ ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষক এবং ছোট ছেলে কানাডায় বসবাস করেন। রিটকারীর দাবি, প্রতিষ্ঠিত হওয়া সত্ত্বেও সন্তানরা তাঁদের মায়ের চিকিৎসা ও যত্নে চরম অবহেলা করেছেন, যা আইনে 'গ্রস নেগ্লিজেন্স ম্যানস্লটার' বা অবহেলাজনিত মৃত্যু ঘটানোর শামিল। ওই বৃদ্ধাকে পর্যাপ্ত খাবার, ওষুধ ও চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। এমনকি তাঁকে বাইরের পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন করে আটকে রাখা হয়ে থাকতে পারে বলেও রিটে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে, যা বাংলাদেশের সংবিধানের ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদ এবং মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণাপত্রের ৩, ৫ ও ৯ নম্বর অনুচ্ছেদের সরাসরি লঙ্ঘন।

রিটে ৬৫ বছরের বেশি বয়সী প্রবীণদের জন্য সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীনে সেবাকর্মী নিয়োগ ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হাইকোর্টের কাছে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগে পুলিশকে ফৌজদারি ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি খতিয়ে দেখে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে (এনএইচআরসি) সাত দিনের মধ্যে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের আরজি জানানো হয়েছে।

এতে স্বরাষ্ট্র, আইন ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব, সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার এবং পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) বিবাদী করা হয়েছে।

রিটকারীর আইনজীবী এইচ এম সানজিদ সিদ্দিকী জানান, আগামী সোমবার বিচারপতি ফাতেমা নজিবের আদালতে রিট আবেদনটির শুনানি হতে পারে।

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত