আজ সকাল ৯টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে চুয়াডাঙ্গায় ১১ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এতে বাড়িয়ে তুলেছে শীতের দাপট। গেল দুদিন মেলেনি সূর্যের দেখা। সেই সঙ্গে সকালের দিকে থাকছে হালকা কুয়াশা। সারাদিনের মেঘলা আকাশে বয়ে চলেছে হিমশীতল বাতাস। এতে শীতের তীব্রতা বাড়িয়ে তুলেছে দ্বিগুণ। উত্তরের হিমেল বাতাসে বেড়েছে দুর্ভোগ।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, সোমবার (২২ ডিসেম্বর) সকাল ৯টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে চুয়াডাঙ্গায়, ১১ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এসময় বাতাসের আদ্রতা ছিল শতকরা ৯৭ ভাগ।
এছাড়াও পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ১২ ডিগ্রি, নওগাঁর বদলগাছীতে ১২ দশমিক ১, কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ১২ দশমিক ২, রাজশাহীতে ১২ দশমকি ৪, সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ীতে ১২ দশমিক ৭ ও পাবনার ঈশ্বরদিতে ১২ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।
সিনপটিক অবস্থার বর্ণনা দিয়ে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে, এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তরপূর্ব বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে আগামী ২৪ ঘণ্টায় অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে এবং মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারা দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। তবে এই সময়ে সারা দেশে রাতের এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলেও মনে করছে সংস্থাটি।
এদিকে তীব্র শীতে দুর্ভোগে পড়েছে চুয়াডাঙ্গার খেটে-খাওয়া ছিন্নমূল মানুষ। সকাল থেকে সকাল ১০টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত দেখা মেলেনি সূর্যের। সন্ধ্যার পর শীত অনুভূত অনেক বেশি হচ্ছে। শীত প্রকোপ বাড়তে থাকায় চুয়াডাঙ্গার সদর হাসপাতালে বাড়ছে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা। সকালে প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘরের বাইরে বেড়াছে না। ফলে শহরের রাস্তা অনেকটা ফাঁকা সকালের দিকে। শীতের প্রকোপে কাজ না পেয়ে বাড়ি ফিরে যেতে হচ্ছে দিনমজুর শ্রমিকদের। অবশ্য শীত উপেক্ষা করেই সকালের দিকে কৃষকদের মাঠে কাজ করতে দেখা গেছে।
রিকশাচালক সেলিম মিয়া বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গায় অনেক শীত। সকালে হালকা কুয়াশা। শীতের দাপটে রাস্তায় মানুষের চলাচল কম। যে কারণে রিকশায় যাত্রী পাচ্ছি না। শীত বাড়ায় আয় রোজগারে সমস্যা হয়ে যাচ্ছে।’
পথচারী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘শীত তো চুয়াডাঙ্গায় অনেক বেশি। এ তীব্র শীতের কারণে সবাই কষ্ট পাচ্ছে। শীত দাপটে হাসপাতালে ঠান্ডাজনিত রোগী বাড়ছে। সারাদিন দেখা নেই সূর্যের হিম শীতল বাতাসে তীব্র শীত জানান দিচ্ছে। বিশেষ করে সকাল ও রাতে শীত বেশি পড়ছে।’
চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান বলেন, ‘তাপমাত্রা ১১ থেকে ১২ ডিগ্রির ঘরে উঠা নামা করছে। এমন অবস্থা অব্যাহত থাকতে পারে। সামনের দিনে তাপমাত্রা আরো নিচের দিকে নামা শুরু হবে। ফলে শীতের তীব্রতা আরো বাড়বে। সেই সাথে কয়েকদিন মেঘলা আকাশ থাকবে। এতে হিমশীতল বাতাসে শীতের তীব্রতা আরও বাড়িয়ে তুলছে। আজ চুয়াডাঙ্গায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।’