জুলাইয়ে নিহতদের বড় অংশই ছিলেন শ্রমজীবী: আনু মুহাম্মদ

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
ঢাকা

প্রকাশ : ০৩ আগস্ট ২০২৬, ১৪: ৫৫
জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে এক সেমিনারে অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। ছবি: সংগৃহীত

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের বড় একটি অংশই শ্রমজীবী মানুষ ছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। সোমবার (৩ আগস্ট) জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে এক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।

আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘জুলাইয়ে আমরা চোখের সামনে একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হতে দেখেছি। যারা নিহত হয়েছেন, তাদের বড় একটি অংশ ছিলেন শ্রমজীবী মানুষ। কোটাব্যবস্থার সঙ্গে সরাসরি কোনো সম্পর্ক না থাকলেও তারা আন্দোলনে নেমেছেন, প্রাণ দিয়েছেন। এমনকি যারা আগে কখনো মিছিলে যাননি, তারাও জুলাইয়ে রাজপথে নেমেছিলেন।’

তিনি বলেন, ‘এসব অভিজ্ঞতা প্রশ্ন তৈরি করে—মানুষ কেন রাস্তায় নেমেছিল? কী তাদের উদ্বুদ্ধ করেছিল? একাত্তরের অভিজ্ঞতার দিকে তাকালেও আমরা একই ধরনের চিত্র দেখি। তখনও নারী, ছাত্র ও শ্রমিক সবাই অস্ত্র হাতে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন।’

দেশের গণআন্দোলনের ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, গত ছয় দশকে তিনটি বড় গণঅভ্যুত্থান হয়েছে। এ ছাড়া ফুলবাড়ি গণঅভ্যুত্থানও একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়, যা আগস্ট মাসেই সংঘটিত হয়। দিনাজপুরে ইয়াসমিন ধর্ষণ ও হত্যার প্রতিবাদে আগস্টেই গণআন্দোলন গড়ে উঠেছিল। সেই আন্দোলনে টানা সাত দিন প্রশাসন কার্যত অকার্যকর ছিল এবং সাতজন প্রাণ হারিয়েছিলেন।

আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘হাসিনা আমলে উন্নয়নের মহাসড়কে দেশ এগিয়ে যাওয়ার কথা বলা হলেও সেই সরকারের পতন হয়েছে। কারণ উন্নয়নের পাশাপাশি বেড়েছিল বৈষম্য, বেকারত্ব, অনিশ্চয়তা ও পরিবেশ বিপর্যয়। রামপাল ও রূপপুরের মতো পরিবেশবিরোধী প্রকল্পও হাতে নেওয়া হয়েছিল। তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে মানুষের ওপর দমন-পীড়ন। ফুটপাতের দোকানদার থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, সবাই নিপীড়নের শিকার হয়েছেন।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগ আয়োজিত এ সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সিত্তুল মুনা হাসান। আরও বক্তব্য দেন ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্কের সদস্য অধ্যাপক নাসির উদ্দীন।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত