দেশে কোনো উগ্রবাদ-চরমপন্থার ঠাঁই হবে না: প্রধানমন্ত্রী

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

সংসদে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: পিএমও

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ হবে এমন একটি রাষ্ট্র, যেখানে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে। বৈষম্যের স্থান থাকবে না। কোনো উগ্রবাদ ও চরমপন্থার ঠাঁই হবে না।

বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সংসদে প্রথমবারের মতো একটি জনবান্ধব বাজেট পাস হয়েছে। এই বাজেটের মূল লক্ষ্য দেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বাংলাদেশকে একটি কল্যাণ রাষ্ট্রে রূপান্তর করা।

সংসদকে প্রাণবন্ত করে তোলায় সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের ধন্যবাদ জানিয়ে সংসদ নেতা বলেন, দীর্ঘদিন পর জনগণের প্রকৃত প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে সংসদে প্রাণবন্ত আলোচনা ও বিতর্কের মধ্য দিয়ে বাজেট পাস হয়েছে। দেশের গণতন্ত্রের জন্য এটি ঐতিহাসিক এক মুহূর্ত। বাজেটকে কার্যকর করতে সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

বক্তব্যের শুরুতে তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধ, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান, বিগত দেড় দশকের আন্দোলন এবং বিভিন্ন গণতান্ত্রিক সংগ্রামে নিহতদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তারেক রহমান বলেন, জুলাই যোদ্ধা ও ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে সরকার এবং বিরোধী দল একসঙ্গে সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ইউনিভার্সাল কার্ড চালুর পরিকল্পনা

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, প্রবাসী কার্ড ও বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা ভবিষ্যতে একটি ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’-এর আওতায় আনা হবে। এসব সুবিধা জনগণের প্রতি রাষ্ট্রের করুণা নয়, রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

তিনি বলেন, সরকার পর্যায়ক্রমে ৯ কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। তথ্যপ্রযুক্তি, ব্লু ইকোনমি, ইকো-ট্যুরিজম, যোগাযোগ ও পরিবহন খাতে ব্যাপক কর্মসংস্থানের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিদেশগামী কর্মীদের জন্য ভাষা ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণও চালু করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তরের পরিকল্পনা নিয়েছে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়ন হলে ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির কাছাকাছি পৌঁছাতে পারবে।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে বড় অগ্রাধিকার

সংসদ নেতা জানান, আগামী পাঁচ বছরে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য উভয় খাতেই জিডিপির ৫ শতাংশ পর্যন্ত বরাদ্দ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, দেশের পাঁচ বিভাগে ২০০ শয্যার পাঁচটি শিশু হাসপাতাল চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে চালু করা হবে। এ ছাড়া এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ এবং প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতে প্রতিবছর প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে। এই দুর্নীতির কারণেই দেশের অবকাঠামো ও জনসেবা খাত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বিদ্যুৎ খাতে অতীতের ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, সরকার জ্বালানির মজুত ৪৫ দিনের বেশি পর্যায়ে উন্নীত করেছে এবং তা ৯০ দিনে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। একইসঙ্গে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্সকে শক্তিশালী করে নতুন গ্যাস অনুসন্ধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পরিবেশে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর কর্মসূচি

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর কর্মসূচি ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী। এই কর্মসূচির আওতায় ১০ হাজার নতুন নার্সারি গড়ে তোলা হবে, যেখানে প্রায় আড়াই লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে বলে জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী সামাজিক মূল্যবোধ পুনরুদ্ধার, পরিবারে নৈতিক শিক্ষা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি সবাইকে যত্রতত্র ময়লা না ফেলার আহ্বান জানিয়ে পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর বাংলাদেশ গঠনে সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকায় নেতৃত্ব দেওয়ার অনুরোধ জানান।

তারেক রহমান আরও বলেন, ‘বর্তমান সরকার জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গঠনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে নাগরিকের জীবন হবে নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও সম্ভাবনাময়; অর্থনীতি হবে অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং রাষ্ট্র হবে জনগণের কল্যাণে নিবেদিত।’

Ad 300x250

সম্পর্কিত