রাজধানীর মিরপুর বাংলা স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে বিগত তিন নির্বাচনের চেয় এবার বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা গেছে। এবার এই ভোটকেন্দ্রে বিগত নির্বাচনগুলোর মতো দলীয় নেতাদের দাপট বা হম্বিতম্বি নেই। পেশিশক্তির প্রদর্শন ছাড়াই উৎসবমুখর পরিবেশে চলছে ভোটগ্রহণ। আইন শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী ও নির্বাচন কর্মকর্তারা বলছেন, কোনো ধরনের প্রভাব বিস্তার ছাড়াই ভোটাররা নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন।
আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ঢাকা-১৬ আসনের মিরপুর বাংলা স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্র ঘুরে এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র পাওয়া গেছে। এই কেন্দ্রে মোট পাঁচটি ভোটকেন্দ্র রয়েছে এবং মোট ভোটার সংখ্যা প্রায় ১৭ হাজার।
মিরপুর বাংলা স্কুল অ্যান্ড কলেজ সেন্টারে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক কাজী গোলাম মোস্তফা জানান, অতীতের নির্বাচনের তুলনায় এবারের পরিবেশ সম্পূর্ণ ভিন্ন। তিনি স্ট্রিমকে বলেন, ‘প্রতিবারই নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করেছি। অতীতে প্রতিবারই দেখা গেছে, কোনো না কোনো কেন্দ্রে রাজনৈতিক শক্তি বা দলের নেতারা ঢুকে অযাচিতভাবে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করতেন। কিন্তু এবার সেই ঘটনাগুলো একেবারেই নেই। সকাল থেকে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং কারও কোনো অভিযোগ নেই।’
মিরপুর বাংলা স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে একাধিক কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ চলছে। কেন্দ্র নম্বর ৬৩-এর প্রিসাইডিং কর্মকর্তা জানান, সকাল সাড়ে ৭টায় ভোট শুরুর পর থেকে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত এই কেন্দ্রে ৮৫৯টি ভোট কাস্ট হয়েছে। শুরুর দিকে উপস্থিতি কিছুটা কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিড় ও ভোটারদের চাপ বেড়েছে।
অন্যদিকে কেন্দ্র নম্বর ৬২-এর প্রিসাইডিং কর্মকর্তা আতাউর রহমান জানান, সকাল ১১টা পর্যন্ত তাঁর কেন্দ্রে ৭৬৩টি ভোট পড়েছে। এখানে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ হাজার ৪৭০ জন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও শান্তিপূর্ণ বলেও দাবি করেন তিনি।
বাংলা কলেজের ৬৬ নম্বর কেন্দ্রটি মূলত নারী ভোটারদের জন্য নির্ধারিত। সেখানকার প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মশিউর রহমান জানান, সকাল সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ভোট পড়েছে প্রায় ২০ শতাংশ, যা সংখ্যার হিসাবে ৬০০-এর বেশি। তিনি উল্লেখ করেন, সকাল থেকেই ভোটারদের চাপ রয়েছে এবং নারী ভোটাররা একসঙ্গে কেন্দ্রে আসায় উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
কেন্দ্রে পুলিশ ও আনসারের পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও র্যাবের টহল জোরদার রয়েছে। র্যাব-৪ এর সহকারী পরিচালক জাহেদুর রহমান স্ট্রিমকে বলেন, ‘মিরপুর ১০ ও ১৪ নম্বর আংশিকসহ ঢাকা-১৬ আসনের সব সেন্টার ঘুরেও কোথাও কোনো অনিয়মের তথ্য পাওয়া যায়নি। কোনো পক্ষই অভিযোগ করেনি। এবারের পরিবেশ সম্পূর্ণরূপে শান্ত রয়েছে এবং একটি কেন্দ্রেও দলীয় নেতাদের কোনো প্রভাব দেখা যায়নি।’
সাধারণ ভোটাররাও স্বস্তিতে ভোট দিতে পেরে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। পেশায় পোশাকশ্রমিক মনির হোসেন বলেন, ‘মিরপুর ১১ নম্বর থেকে সপরিবারে বাংলা স্কুল অ্যান্ড কলেজ সেন্টারে ভোট দিতে এসেছি। এবার কোনো ধরনের সমস্যা হয়নি এবং সবাই যার যার ভোট দিয়ে নির্বিঘ্নে বাসায় ফিরছেন।’
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টায় ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোট গ্রহণ শুরু হয়। একজন প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে শেরপুর-৩ আসনের ভোট গ্রহণ বাতিল করা হয়েছে। ভোট গ্রহণ চলবে বিকেল চারটা পর্যন্ত।
গণ-অভ্যুত্থানের দেড় বছর পর নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ভোট দিচ্ছেন দেশের মানুষ। এছাড়া গণভোট হচ্ছে। সংবিধানের বেশ কিছু মৌলিক পরিবর্তন আনার প্রস্তাবে ‘হ্যাঁ’-‘না’ ভোট দেবেন ভোটাররা।
নির্বাচনে ১২ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ১৮৫ ভোটারের মধ্যে প্রথমবারের মতো প্রায় ৪ কোটি তরুণ ভোটদানের সুযোগ পাচ্ছেন। এছাড়া প্রথমবারের মতো পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। তাদের সঙ্গে এই ব্যবস্থাপনায় ভোট দিতে পারছেন নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও বন্দিরা।
এবারের নির্বাচনে স্বতন্ত্র ছাড়াও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে ৫০টি দল। মোট প্রার্থী ২০২৮ জন, যার মধ্যে ২৭৩ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী।