গোয়েন্দা কর্মকর্তাকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত গ্রেপ্তার

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক
সাভার (ঢাকা)

এসবি সদস্য হত্যার ঘটনায় আটক প্রাইভেটকারের চালক জহিরুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত
এসবি সদস্য হত্যার ঘটনায় আটক প্রাইভেটকারের চালক জহিরুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত

সাভারের আমিনবাজারে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) সদস্য আলতাফ হোসেনকে (৫৮) হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত জহিরুল ইসলামকে (৩০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদেরও শনাক্ত করা হয়েছে। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সাভার মডেল থানার ওসি সাইফুল আলম।

ওসি জানান, ভোরে আমিনবাজার এলাকা থেকে মূল অভিযুক্ত জহিরুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি সাভারের বড়দেশি এলাকার মোসলেম উদ্দিনের ছেলে। জহিরুলের স্বীকারোক্তি ও সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে এ ঘটনায় জড়িত ১২ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

এর আগে নিহত আলতাফের স্ত্রী শিউলি বেগম মামলা করেন। মামলায় এজাহারভুক্ত ১৫ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

আলতাফ সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানার সাধুপাড়া গ্রামের প্রয়াত জুরাইন আলী শেখের ছেলে। তিনি পরিবার নিয়ে সাভারের আমিনবাজারের বড়দেশি মদিনা সিটি এলাকায় বসবাস করতেন। তিনি এসবির ঢাকার মালিবাগ জোনে উপপরিদর্শক (এসআই) হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

পুলিশ জানায়, শনিবার রাতে নামাজ পড়তে মদিনা সিটি মসজিদের সামনে যান আলতাফ হোসেন। মসজিদের পশ্চিম পাশে আবুল কালাম আজাদ নামে এক ব্যক্তির অটোরিকশার গ্যারেজ রয়েছে। গ্যারেজের সামনে সড়কের ওপর একটি অটোরিকশা রাখা ছিল। সে সময় চালকসহ চারজন একটি সাদা প্রাইভেটকারে সেখানে আসেন। সড়কে অটোরিকশা থাকায় তাঁদের চলাচলে কিছুটা সমস্যা হচ্ছিল। এ নিয়ে গাড়ি থেকে নামা ব্যক্তিদের সঙ্গে গ্যারেজের মালিক আজাদের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তাঁরা আজাদকে কয়েকটি চড় মারেন।

আলতাফ হোসেন তখন প্রাইভেটকারটির কাছে ছিলেন। আজাদকে কেন মারা হয়েছে, তা জানতে চাইলে ওই ব্যক্তিদের সঙ্গে আলতাফেরও কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আলতাফ তাঁর ছোট ছেলে আরিফুল ইসলামকে (২৬) নিয়ে সেখান থেকে সরে যান। তাঁরা পাশেই আলতাফের বড় ছেলের মালিকানাধীন একটি মিনি গেঞ্জি কারখানায় আশ্রয় নেন।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ব্যক্তিরাও তাঁদের পিছু নিয়ে কারখানার ভেতরে ঢুকে পড়েন। সেখানে আলতাফ ও তাঁর ছেলের মাথায় লাঠি দিয়ে একের পর এক আঘাত করেন। পরে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ছেড়ে পালিয়ে যায়। তাদের উদ্ধার করে রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আলতাফকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন জানান, তুচ্ছ ঘটনার প্রতিবাদ করায় নিজ বাসার কাছেই ওই পুলিশ কর্মকর্তা ও তাঁর ছেলে হামলার শিকার হন।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত