গাইবান্ধায় সড়কে ফেলে যাচ্ছে চামড়া, বিপাকে ব্যবসায়ীরা

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
গাইবান্ধা

প্রকাশ : ৩০ মে ২০২৬, ১৭: ২৯
গোবিন্দগঞ্জের ফ্লাইওভারের কাছে মহাসড়কের পাশে ফেলে গেছে কোরবানির পশুর চামড়া। স্ট্রিম ছবি

গাইবান্ধায় ক্রেতা না পেয়ে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে কোরবানির পশুর চামড়া ফেলে যাচ্ছেন অনেকে। কাঙ্ক্ষিত দাম না পেয়ে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন জেলার ক্ষুদ্র ও মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। তবে অনেকেই আগামী বুধবার উত্তরাঞ্চলের অন্যতম চামড়ার হাট পলাশবাড়ির কালিবাজারের অপেক্ষায় আছেন তারা। তবে এতে ক্ষতির পরিমাণ বৃদ্ধির শঙ্কা আছে।

এদিকে শনিবার (৩০ মে) সকালেও জেলার গোবিন্দগঞ্জের পৌর এলাকা ফ্লাইওভারের নিচে ও পলাশবাড়ির পৌর এলাকায় মহাসড়কের একাধিক স্থানে চামড়া পড়ে থাকতে দেখা গেছে। পরে তা মাটিচাপা দেয় পৌর কর্তৃপক্ষ।

ব্যবসায়ীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে প্রতি ঈদুল আজহা-পরবর্তী প্রথম বুধবার জেলার পলাশবাড়ীর কালিবাজারে উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ চামড়ার হাট বসে। এ দিন ঢাকা থেকে ট্যানারিমালিকেরাও আসেন চামড়া কিনতে। তবে এবার ঈদের ছয় দিন পর বসছে এই হাট। বড় হাট হওয়াই ঈদের পরদিন থেকেই কালিবাজারে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও স্থানীয় পাইকাররা চামড়া কেনাবেচা করে। তবে এবার ক্রেতা না পেয়ে মহাসড়কের পাশে চামড়া ফেলে যাচ্ছেন অনেকে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঈদের দিন দুপুরের পর থেকেই পলাশবাড়ী শহরের কালিবাজারে কোরবানির চামড়া নিয়ে আসতে শুরু করেন ক্ষুদ্র ও মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। এ ছাড়া দানের চামড়া নিয়ে আসেন বিভিন্ন এতিমখানা-মাদ্রাসা। দুই দিন ধরে অপেক্ষা করেও কোনো ক্রেতার পায়নি। পরে সেগুলো মহাসড়কের পাশে রেখে চলে যায় তারা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার এক মাদ্রাসাশিক্ষক বলেন, গত দুদিন থেকে তাঁদের মাদ্রাসার কোনো চামড়া ক্রেতা যাননি। তাই পাইকার পাওয়া আশায় চামড়াগুলো ভ্যানে মহাসড়কে নিয়ে এসেছিলেন। কিন্তু সারা দিন অপেক্ষা করেও ক্রেতা পাননি। তাই রেখে সড়কের পাশে চলে যাচ্ছেন। এগুলো ফিরিয়ে নিতেও টাকার প্রয়োজন।

চামড়া ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরকারি দামে চামড়া বিক্রি হলেও তারা ক্ষতির মুখে পড়বেন।

গাইবান্ধায় কোরবানির পশুর চামড়া কিনে বিপাকে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। স্ট্রিম ছবি
গাইবান্ধায় কোরবানির পশুর চামড়া কিনে বিপাকে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। স্ট্রিম ছবি

চামড়া কিনে বিপাকে ব্যবসায়ীরা

একইভাবে সদর উপজেলার চাপাদহ গ্রামের ক্ষুদ্র চামড়া ব্যবসায়ী মানিক চন্দ্র রবিদাস (৫৫) প্রতিবছরের মতো এবারও ঈদের দিন বাইসাইকেলে গ্রাম ঘুরে চামড়া কিনেছেন। এ জন্য ৪০ হাজার টাকা ধারদেনা হয়েছে তাঁর। পরে পলাশবাড়ী হাটে চামড়া নিয়ে দুদিন অপেক্ষা করলেও বিক্রি করতে পারেননি তিনি। একই ধরনের অবস্থার কথা জানান পলাশবাড়ীর মনোহরপুর গ্রামের ক্ষুদ্র চামড়া ব্যবসায়ী হরিপদ দাস (৫৫)। ঈদের দিন তিনি ৫০ হাজার টাকার গরুর চামড়া কিনেছেন।

মানিক চন্দ্র রবিদাস বলেন, গাইবান্ধায় এবার পশুর চামড়ার দাম অনেকটা কম। স্থানীয় আড়তগুলোতে আমদানিও প্রচুর। কিন্তু পাইকাররা চামড়া কিনছেন না। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ধারদেনা করে চামড়ার ব্যবসায় লগ্নি করেছেন। চামড়া বিক্রি করতে না পেরে তারা বিপদে পড়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ক্ষুদ্র চামড়া ব্যবসায়ী বললেন, দাদন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে চড়া সুদে ৩৫ হাজার টাকা নিয়ে চামড়া কিনেছেন। কোনো মহাজন ছাগলের চামড়ার দামই করছেন না।

পলাশবাড়ী চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির নেতা মাহমুদুল হাসান বলেন, প্রতি বছর হাটের দিন ঢাকা থেকে ট্যানারির মালিকেরা চামড়া কিনতে আসেন। আগামী বুধবারও তাদের আসার কথা। তাদের চাহিদার ওপর চামড়ার বাজার অনেকটা নির্ভর করছে।

গাইবান্ধা শহরের চামড়া ব্যবসায়ী আরশাদ আলী মোবাইল ফোনে বলেন, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি মূল্যে চামড়া কিনেছেন। ফলে তাঁদের কাছ থেকে বেশি দামে চামড়া কিনতে আগ্রহী হচ্ছেন না মহাজনরা। এ ছাড়া এ বছর লাম্পি স্কিনের আক্রান্ত পশুর চামড়াও পাওয়া যাচ্ছে। এতে স্থানীয় পাইকাররা চামড়া কিনতেও ভয় পাচ্ছেন।

পলাশবাড়ী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক শেখ জাবের আহমেদ বলেন, ঈদের দিন থেকে আজ (শনিবার) পর্যন্ত পৌরসভার বিভিন্ন স্থানে গবাদি পশুর চামড়া লোকজন ফেলে রেখে যায়। সেগুলো পৌরসভার লোকজন দিয়ে মাটির নীচে পুঁতে ফেলানো হয়েছে।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, চলতি বছর গাইবান্ধায় কোরবানির পশুর চাহিদা ছিল ১ লাখ ৩৭ হাজার ৫০০টি। তবে চাহিদার তুলনায় জোগান বেশি ছিল ২৯ হাজার ৮৬৭টি পশুর। আগের বছর জেলায় কোরবানির চাহিদা ছিল ১ লাখ ২৬ হাজার ৩০৫টি পশু। তবে প্রস্তুত ছিল ১ লাখ ৯৬ হাজার ২৭৭টি গবাদিপশু।

সম্পর্কিত