লঘুচাপের প্রভাবে ৩-৪ ফুট উঁচু জোয়ার, রাঙ্গাবালীর বিভিন্ন গ্রাম প্লাবিত

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
রাঙ্গাবালী (পটুয়াখালী)

প্রকাশ : ১৬ জুলাই ২০২৬, ২১: ০০
লঘুচাপের প্রভাবে ৩-৪ ফুট উঁচু জোয়ার, রাঙ্গাবালীর বিভিন্ন গ্রাম প্লাবিত। সংগৃহীত ছবি

লঘুচাপের প্রভাবে আগুনমুখা, দারছিড়া, বুড়াগৌরাঙ্গ ও রাবনাবাদ নদীর পানি স্বাভাবিকের চেয়ে ৩ থেকে ৪ ফুট বৃদ্ধি পাওয়ায় পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে জোয়ারের সময় চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নের ভেঙে থাকা বেড়িবাঁধ দিয়ে লোকালয়ে পানি ঢুকে কয়েকটি গ্রাম তলিয়ে যায়। এতে কয়েক ঘণ্টা পানিবন্দি হয়ে দুর্ভোগে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নের গরুভাঙা, মধ্য চালিতাবুনিয়া, গোলবুনিয়া ও বিবির হাওলা গ্রাম। জোয়ারের পানিতে বসতবাড়ির আঙিনা, রাস্তাঘাট ও নিম্নাঞ্চল তলিয়ে যায়। অনেক পরিবার বাড়ি থেকে বের হতে সমস্যায় পড়ে। কোথাও কোথাও উঠান ও ঘরের বারান্দা পর্যন্ত পানি উঠে যায়।

এ দিকে উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়নের চরআন্ডাসহ বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলেও জোয়ারের পানি প্রবেশ করে। এতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়। ভেঙে থাকা বেড়িবাঁধ দিয়ে পানি প্রবেশ করায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তাদের আশঙ্কা, পরবর্তী জোয়ারেও একই পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।

স্থানীয়রা জানান, স্বাভাবিকের তুলনায় জোয়ারের পানি অনেক বেশি উচ্চতায় প্রবাহিত হওয়ায় অল্প সময়ের মধ্যেই গ্রামগুলো প্লাবিত হয়। এতে বাড়িঘরের পাশাপাশি কৃষিজমি, পুকুর ও চলাচলের সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

রাঙ্গাবালী উপজেলার চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা ওমর সানি জানান, গরু ভাঙ্গা, মধ্য চালিতাবুনিয়া, বিবির হাওলা, চালিতাবুনিয়া বাজার, চিনাবুনিয়া—এই গ্রামগুলোতে জোয়ারের পানি ঢুকে পড়ছে। এতে অনেক বসত ঘর স্কুল-মাদ্রসা পানিতে তলিয়ে গেছে।

ওই ইউনিয়নের আরেক বাসিন্দা সায়েম গাজী বলেন, চালিতাবুনিয়া ইউনিয়ন ভাঙনকবলিত এলাকা আজকে অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে নিচুঁ এলাকায় পানি ঢুকে পড়ছে। পানির যে চাপ, তাতে বাঁধের অনেক ক্ষতির হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এমনিতেই বাঁধগুলো নাজুক। এখন বাঁধ উপচে পানি ঢুকছে লোকালয় অনেক বসতঘরের মধ্যে পানি ঢুকে পড়ছে। ফসলিজমিও তলিয়ে গেছে।

তবে বেলা দেড়টার দিকে ভাটা শুরু হলে ধীরে ধীরে পানি নামতে থাকে। বিকেলের দিকে অধিকাংশ এলাকা থেকে পানি নেমে গেলেও ভেঙে থাকা বেড়িবাঁধ দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে চালিতাবুনিয়া ও চরমোন্তাজের চরআন্ডা এলাকার বাঁধ ভেঙে থাকলেও স্থায়ী সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

স্থানীয়রা দ্রুত ভেঙে থাকা বেড়িবাঁধ মেরামতের পাশাপাশি স্থায়ী টেকসই বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে জোয়ারের পানিতে বারবার এমন দুর্ভোগে পড়তে না হয়।

এ বিষয়ে রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খায়রুল হাসান জানান, লঘুচাপ ও অমাবস্যার প্রভাবে স্বাভাবিকের চেয়ে ৩-৪ ফুট পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে রাঙ্গাবালী বিভিন্ন এলাকায় পানিতে প্লাবিত হয়েছে। আমরা খোঁজ খবর রাখছি। এমন পরিস্থিতি আরো দু-এক দিন বিরাজ করতে পারে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত