অধ্যাপক খন্দকার লুৎফুল এলাহীর সাক্ষাৎকার

শিক্ষার্থীরা রক্তাক্ত হচ্ছিল, আমি নিজের রক্তে ভেজা শার্ট উড়িয়ে পুলিশকে থামাতে চাচ্ছিলাম

অধ্যাপক ড. খন্দকার লুৎফুল এলাহী। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক। বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভোস্ট কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০২৪-এর জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তিনি অত্যন্ত সাহসী ও অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। আন্দোলনের সময় (১৫ জুলাই তারিখে) শিক্ষার্থীদের রক্ষা করতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে তিনি ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি হারান। জুলাই আন্দোলন এবং সে-সময়কার স্মৃতিচারণ নিয়ে ঢাকা স্ট্রিমের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মাইদুল ইসলাম

অধ্যাপক ড. খন্দকার লুৎফুল এলাহী

স্ট্রিম: প্রথমেই আমরা আপনার কাছে একটু জানতে চাইব, আপনি এখন চোখে কেমন দেখছেন বা আপনার চোখের বর্তমান অবস্থা কেমন?

খন্দকার এলাহী: বলা যায়, আমার ডান চোখটা এখন একেবারেই দৃষ্টিহীন। সামান্য যেটুকু ঝাপসা দেখি, তা আসলে ঠিক দেখার মতো কিছু নয়, কেবলই একটা রিফ্লেকশন বা প্রতিচ্ছবি। এছাড়া চোখের পজিশনটাও ডিসপ্লেস (স্থানচ্যুত) হয়ে যাওয়ায় ডাবল রিফ্লেকশন তৈরি হয়, যার ফলে চলাফেরা ও পড়ালেখা করা আমার জন্য আরও বেশি কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্ট্রিম: আপনার বিভাগের শিক্ষার্থীদের কাছে আপনি একজন জনপ্রিয় অধ্যাপক হিসেবে পরিচিত। চোখের এই দৃষ্টিহীনতা আপনার নিজের পড়ালেখায় কিংবা শিক্ষার্থীদের পাঠদানের ক্ষেত্রে কতটা ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে?

খন্দকার এলাহী: সত্যিকার অর্থে, একাডেমিক গবেষণা ও শিক্ষার্থীদের জন্য আমি আগে যে সময়টা বরাদ্দ রাখতাম বা ব্যয় করতাম, চোখের এই সমস্যার কারণে এখন আমাকে তার চেয়েও বেশি সময় দিতে হচ্ছে। দীর্ঘক্ষণ পড়ালেখা বা কম্পিউটারে কাজ করা এখন আর সম্ভব হয় না। বেশিক্ষণ কাজ করলেই চোখে ব্যথা করে, পানি পড়ে এবং জ্বালাপোড়া হয়—এটি এখন প্রতিদিনের নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমি ড্রপ ব্যবহার করে চোখটা ঠান্ডা রাখার চেষ্টা করি। এভাবেই কোনোমতে চলছি, তবে পুরো চাপটাই এখন এক চোখের ওপর পড়ছে। গুলিতে আহত হওয়ার পর থেকে ওই চোখটিও আগের চেয়ে আরও ঝাপসা হয়ে গেছে। আগে কেবল পড়ালেখার সময় চশমা পরতাম; কিন্তু এখন চলাফেরা করতে গেলেও চশমা ছাড়া ভালোভাবে দেখতে পাই না, এমনকি কাউকে চিনতেও বেশ অস্পষ্ট লাগে।

স্ট্রিম: ঢাকায় আপনার একবার এবং থাইল্যান্ডে তিনবার চোখের অপারেশন হয়েছে বলে আমরা জেনেছি। আপনার চোখের বর্তমান অবস্থা নিয়ে চিকিৎসকরা কী বলছেন?

খন্দকার এলাহী: গুলিতে আহত হওয়ার পর এনাম মেডিকেল কলেজে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে আমাকে জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইন্সটিটিউটে পাঠানো হয়। স্প্লিন্টার প্রবেশের পথ দিয়ে যাতে ইনফেকশন না ছড়ায়, সেজন্য ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই তারিখে সেখানে প্রথম অপারেশন করে জায়গাটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। সেখানে আমি প্রায় ১৫ দিন ভর্তি ছিলাম। তখন ওই চোখে আমি কিছুই দেখতাম না, পুরোপুরি দৃষ্টিহীন ছিলাম। রিলিজ দেওয়ার পর এক মাস পর্যবেক্ষণে রাখার পরও চিকিৎসকরা দৃষ্টি ফিরে পাওয়ার কোনো নিশ্চয়তা দিতে পারছিলেন না।

ভারতে যাওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হওয়ার পর থাইল্যান্ডে যাওয়ার ক্ষেত্রেও ভিসা জটিলতায় পড়ি। পরে আমার এক ছাত্র ওয়ালিদ ইসলামের সহযোগিতায় ভিসা পেয়ে সেদিনই থাইল্যান্ডে গিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হই। সেখানে প্রথম অপারেশনের পরদিন ব্যান্ডেজ খুললে কিছুটা দেখতে পাই; ঝাপসা হলেও কাছ থেকে হাতের আঙুল গুনতে পারছিলাম। এতে আমার মনে আশা জাগে। সব মিলিয়ে আমার চোখের চারটি অপারেশন হয়েছে—ঢাকায় একটি এবং থাইল্যান্ডে তিনটি।

আঘাতের কারণে আমার রেটিনা ছিঁড়ে স্থানচ্যুত হয়ে রক্তের সাথে মিশে গিয়েছিল। অপারেশনের মাধ্যমে সেটি জোড়া লাগানো হলেও সংকুচিত হওয়ার কারণে পজিশন সরে গেছে। এর ফলে আমি এখন সবকিছু দ্বৈত দেখি। পড়াশোনা করা বা সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় খুব সাবধানে পা ফেলতে হয়। এক কথায়, আমার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

স্ট্রিম: আমরা জেনেছি, আপনার শরীর থেকে চার-পাঁচটি গুলি বের করা সম্ভব হলেও বাকিগুলো করা যায়নি। এ বিষয়ে বিস্তারিত বলবেন কি?

খন্দকার এলাহী: হ্যাঁ, পাঁচটি গুলি বের করা হয়েছে। তবে এখনো প্রায় ৬৫-৭০টি ছররা গুলি আমার শরীরে রয়ে গেছে। ডান চোখের পাশে, বাম চোখের ভেতরে এবং মাথার ওপরের অংশে বেশিরভাগ স্প্রিন্টার আটকে আছে।

স্ট্রিম: জুলাই আন্দোলনে আপনি শিক্ষার্থীদের সামনে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন, তাদের সহযোগিতা করেছেন। আপনার চোখের সামনে ঘটে যাওয়া আন্দোলন এবং নিজে গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনাটি যদি আমাদের একটু বলতেন।

খন্দকার এলাহী: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৪ জুলাই রাত থেকেই মূলত আন্দোলন নতুন গতি পায়। সেদিন পরিস্থিতি খারাপ থাকায় আমার আর ঢাকায় যাওয়া হয়নি। মাগরিবের পর জানতে পারি, ঢাকায় শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতনের প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে মিছিল বের হবে। কিন্তু বাসা থেকে বের হতেই শুনি সংঘর্ষ শুরু হয়ে গেছে।

আমি দ্রুত ট্রান্সপোর্ট এলাকায় গিয়ে শ্রদ্ধেয় মাফরুহী সাত্তার স্যারের সাথে দেখা করি। কেমিস্ট্রি ও ফিজিক্স ভবনের মোড়ে তখন দুই পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল ছোড়াছুড়ি চলছিল। আমরা সংঘর্ষ থামানোর জন্য তাদের মাঝখানে অবস্থান নিই। এর মধ্যেই একটি ভয়াবহ খবর আসে যে, কিছু নারী শিক্ষার্থীকে ছাত্রলীগের ছেলেরা অবরুদ্ধ করে রেখেছে। আমরা উদ্বিগ্ন হয়ে তাদের উদ্ধারে যাই। সাবেক প্রো-ভিসি সোহেল আহমেদ স্যার এবং পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের জামালউদ্দিন রুনু স্যারও আমাদের সাথে যোগ দেন।

আমরা অবরুদ্ধ শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করি। কয়েকজন আহত শিক্ষার্থীকে চিকিৎসার জন্য মেডিকেলে পাঠাই এবং বাকিদের বুঝিয়ে শহীদ মিনারের দিকে পাঠিয়ে দিই। রাত ৯টার দিকে আমি বিভাগে গিয়ে কিছুটা বিশ্রাম নিচ্ছিলাম। এরপর সাড়ে ৯টা-১০টার দিকে সহকর্মী প্রফেসর গোলাম রব্বানী ফোনে আমাকে জানান যে, সন্ধ্যার হামলার বিচারের দাবিতে হাজারখানেক শিক্ষার্থী উপাচার্যের বাসভবনের সামনে গিয়ে অবস্থান নিয়েছে।

স্ট্রিম: আক্রমণটা তো মূলত দুটি পক্ষ থেকে এসেছিল—পুলিশ এবং ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীদের পক্ষ থেকে...

খন্দকার এলাহী: ১৫ জুলাই সন্ধ্যায় আসলে পুলিশ ছিল না। তখন মূলত ছাত্রলীগ, বহিরাগত ও স্থানীয়দের সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে থাকা সাধারণ শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ হচ্ছিল। রাত ১০টার দিকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিচারের দাবিতে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে গিয়ে অবস্থান নেয়। তখন আমি নিজ বিভাগে বসে গবেষণার কাজ করছিলাম। রাত সাড়ে ১১টা থেকে পৌনে ১২টার দিকে আমার মোবাইলে কিছু ভিডিও ও ছবি আসতে থাকে। সেখানে দেখি, সন্ত্রাসীরা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে পিকআপে করে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গেট দিয়ে প্রবেশ করছে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল উপাচার্যের বাসভবনে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করা বা তাদের সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া।

ঠিক ওই সময় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস ক্লাবের তৎকালীন সম্পাদক ও আমাদের ছাত্র হারুন বিন নোমান আমাকে ফোন দেয়। সে কাঁদতে কাঁদতে বলে, "স্যার, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা জড়ো হচ্ছে। আপনারা একটা কিছু করেন, ওদেরকে বাঁচান, নাহলে আজ হয়তো লাশ পড়ে যেতে পারে।" তার এই আবেগতাড়িত কথা আমাকে ভীষণভাবে নাড়া দেয়। আমি তাকে শিক্ষক সমিতির তৎকালীন সভাপতি প্রফেসর ড. মোতাহার হোসেন স্যারকে বিষয়টি জানাতে বলি।

আমি চোখ বন্ধ করে দুই মিনিট চিন্তা করলাম, এখন আমার কী করণীয়! আমার বিবেক বলল, আমাকে যেতেই হবে। আমি বুঝতে পারছিলাম, এখানে লাশের রাজনীতি হওয়ার একটা সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে; হয়তো কাউকে হত্যার মাধ্যমে উপাচার্য বা প্রশাসন পরিবর্তনের কোনো ষড়যন্ত্র চলছে। কোনো শিক্ষার্থীর মৃত্যুর খবর যদি আমাকে শুনতে হয় এবং আমি যদি তাদের বাঁচাতে না যাই, তবে এই অপরাধবোধ আমাকে আজীবন পীড়া দেবে। এই নৈতিক দায়িত্ববোধ থেকেই আমি শিক্ষকদের দুটি গ্রুপে মেসেজ দিয়ে উপাচার্যের বাসভবনের দিকে রওনা হই।

গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির মধ্যে ছাতা নিয়ে হেঁটে ক্যাম্পাসের ‘চৌরঙ্গী’ নামক জায়গায় পৌঁছাই। সেখানে গিয়ে দেখি, চৌরাস্তা থেকে উপাচার্যের বাসভবন পর্যন্ত অস্ত্রধারীদের দীর্ঘ সারি। তাদের মুখ বাঁধা, মাথায় হেলমেট এবং হাতে দেশীয় ও আগ্নেয়াস্ত্র। আমি নিজে তাদের হাতে কাটা রাইফেল, পিস্তল, রামদা, চাপাতি দেখেছি। তারা অশ্লীল ভাষায় গালাগালি করছিল। আমি তাদের ঠিক পেছন পেছন হাঁটছিলাম। দীর্ঘ এই লাইনের সামনের অংশটি তখন উপাচার্যের বাসভবনের দরজায় আঘাত করছিল।

স্ট্রিম: জাহাঙ্গীরনগর ক্যাম্পাসে তো মোটামুটি সবাইকে চেনা যায়। এই যে ৩০০-৩৫০ জনের অস্ত্রধারী বিশাল জমায়েত দেখলেন, এদের মধ্যে কি শিক্ষার্থী ছিল, নাকি বেশিরভাগই বহিরাগত ছিল?

খন্দকার এলাহী: সবার মুখ বাঁধা থাকায় চেনা কঠিন ছিল, তবে তাদের কথাবার্তা ও চালচলন দেখে বুঝতে পারছিলাম তাদের বড় অংশই বহিরাগত। আমি পুরো রাস্তা জুড়ে থাকা মিছিলের পেছনে ছিলাম। সামনের অংশটি তখন উপাচার্যের বাসভবনের গেটে হামলা চালাচ্ছিল এবং ককটেল ও পেট্রোল বোমা ছুড়ছিল। আর ভেতর থেকে অবরুদ্ধ শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের বৈঠকখানার লন থেকে আর্তনাদ করছিল, "স্যার বাঁচান, ভিসি স্যার বাঁচান, আমাদেরকে মেরে ফেলবে।" চৌরঙ্গী পার হতেই শিক্ষার্থীদের এই বাঁচার আকুতি আমার কানে আসে।

স্ট্রিম: ওই সময়টাতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা কি উপাচার্যের বাসভবনের ভেতরে আশ্রয় নিয়েছিল?

খন্দকার এলাহী: হ্যাঁ, তারা প্রথমে বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়েছিল, কিন্তু হামলা শুরু হলে প্রাণ বাঁচাতে ভেতরে আশ্রয় নেয়। সন্ত্রাসীরা বাসভবনের দুটি গেট ভেঙে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করছিল। গেট ভাঙতে পারলে সেদিন নিশ্চিত রক্তারক্তি হতো। আমি উপাচার্যের বাসভবন ও ক্লাবের রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে, মাত্র ১০ হাত দূর থেকে দেখছিলাম কীভাবে তারা চিৎকার করে গেট ভাঙার চেষ্টা করছে এবং কাঁচের বোতল ও পেট্রোল বোমা ছুড়ছে। আমি নিজেই এই ভয়াবহ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী।

স্ট্রিম: ভেতরে আশ্রয় নেওয়া শিক্ষার্থীরা কি তখন লাইভ ভিডিও করছিলেন?

খন্দকার এলাহী: হ্যাঁ, তারা লাইভ ভিডিও করছিল এবং আমি মোবাইলে সেসব দেখছিলাম। সেখানে গিয়ে দেখলাম মুখ ও মাথা গামছা দিয়ে বাঁধা অপরিচিত কিছু লোক অস্ত্র হাতে দৌড়াদৌড়ি করছে। অন্ধকারের মধ্যে তারা আমাকেও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করছিল এবং বলছিল যে, মেয়েদেরও ধরে নিয়ে যাবে, কেটে ফেলবে। তাদের অকথ্য ভাষা শুনেই আমি নিশ্চিত হই যে এরা বহিরাগত সন্ত্রাসী, কারণ আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভাষা এমন হতে পারে না।

তাদের দৌড়াদৌড়ি ও ইটপাটকেল ছোড়াছুড়ির মধ্যে আমি নিজের নিরাপত্তার কথা ভেবে উপাচার্যের বাসভবনের রাস্তা থেকে সরে ক্লাবের সামনে গিয়ে দাঁড়াই। তখন আমার সাথে থাকা কয়েকজন জুনিয়র শিক্ষক ব্যাচেলর কোয়ার্টারের দিকে চলে গেলে আমি একা হয়ে পড়ি। আমি আমাদের শিক্ষকদের গ্রুপে মেসেজ দিয়ে জানাই যে হামলা শুরু হয়ে গেছে, আপনারা পারলে আসেন। এরপর আমি একে একে শ্রদ্ধেয় মাফরুহী সাত্তার স্যার, বর্তমান উপাচার্য প্রফেসর কামরুল হাসান স্যার (যিনি তখন ঢাকা থেকে ফিরছিলেন), প্রফেসর নজরুল ও মনসুর তোমাল স্যারকে ফোন করে ডেকে নিই। আমরা ক্লাবের উল্টো পাশে অবস্থান নিই। সেখানে গিয়ে দেখি, সন্ত্রাসীরা সাংবাদিকদের ওপরও হামলা করে তাড়া করছে এবং তারা প্রাণ বাঁচাতে উপাচার্যের বাসভবনের উল্টো দিকের লেকের দিকে পালাচ্ছে।

উপাচার্যের বাসভবনের ভেতরে তখন প্রায় ৫০-৬০ জন নারী শিক্ষার্থী এবং সমসংখ্যক ছাত্র অবরুদ্ধ ছিল। আমরা বাইরে থেকে বর্তমান উপাচার্য ও অন্যান্যদের মাধ্যমে ভেতরে থাকা প্রক্টর ও প্রশাসনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করি। উপাচার্যকে না পেয়ে প্রফেসর বশির আহমেদ, তৎকালীন প্রক্টর আলমগীর কবির এবং বঙ্গবন্ধু শিক্ষক পরিষদের নেতাদের সাথে আমাদের কথা হয়। আমরা পাঁচজন শিক্ষক উপাচার্যের বাসভবনে প্রবেশ করি। আমরা তাদের বলি, শিক্ষার্থীদের নিরাপদে বের করে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে। তারা জানান, শিক্ষার্থীরা যেতে চাচ্ছে না।

আমরা তখন শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে বুঝতে পারি, মেয়েরা মূলত আতঙ্কের কারণে তাদের সহপাঠী ছেলেদের ফেলে একা যেতে চাচ্ছে না। তাদের ভয় ছিল, তারা চলে গেলে ছেলেদের ওপর ভয়াবহ হামলা হবে। আমরা প্রস্তাব দিই, পুলিশের বড় গাড়ি এনে ছেলে-মেয়ে সবাইকে একসাথে তাদের হলে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক। আমরা যখন উপাচার্যের বাসভবনের লনে দাঁড়িয়ে প্রফেসর গোলাম রব্বানী ও শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলছিলাম, তখন আমাদের দেখে শিক্ষার্থীরা কিছুটা সাহস পায়।

কিন্তু ঠিক সেই মুহূর্তেই দুই পাশের গেট থেকে আক্রমণ শুরু হয় এবং ক্রমান্বয়ে তা বাড়তে থাকে। সবচেয়ে অবাক করার বিষয় হলো, আমরা ঢোকার সময় গেটে যে ৫০-৬০ জন পুলিশের বেষ্টনী দেখেছিলাম, তারা হঠাৎ করেই সরে যায় এবং বহিরাগত সন্ত্রাসীদের ভেতরে ঢুকে হামলার সুযোগ করে দেয়। সামনের মূল ফটক ফাঁকা পেয়ে সন্ত্রাসীরা আমাদের ওপর সরাসরি আক্রমণ চালায়। আত্মরক্ষার্থে আমরা বারান্দায় জড়ো হই। তখন শিক্ষার্থীরা আমাদের চারপাশ দিয়ে ঘিরে মানবঢাল তৈরি করে এবং নিজেদের মাথা ও পিঠ পেতে আঘাতগুলো সহ্য করে। আমাদের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীর মাথা ফেটে রক্তাক্ত হয়ে যায়। আমার হাতে থাকা ছাতাটা মেলে ধরে আমি তাদের বাঁচানোর চেষ্টা করছিলাম। একপর্যায়ে আমার পায়ে ইটের মারাত্মক আঘাত লাগে এবং পা ফুলে যায়।

হামলার তীব্রতায় অন্যান্য শিক্ষকরা আত্মরক্ষার্থে এদিক-সেদিক আশ্রয় নিলেও আমি শিক্ষার্থীদের সঙ্গেই ছিলাম। আমি দেওয়াল ধরে দাঁড়িয়ে বারবার হাত নেড়ে সন্ত্রাসীদের থামানোর চেষ্টা করছিলাম। আমি যদি সেখান থেকে সরে যেতাম, তবে তারা হয়তো আমার শিক্ষার্থীদের কুপিয়ে হত্যা করত। রাত ২টার দিকে অন্যান্য হল থেকে হাজার হাজার সাধারণ শিক্ষার্থী এসে আমাদের উদ্ধার করে। তখন এক আবেগময় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, সবাই সবার সাথে কোলাকুলি করে নতুন জীবন পাওয়ার আনন্দ প্রকাশ করে।

এর মধ্যেই অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ হিল কাফী এসে আমাদের নির্দেশ দেন দ্রুত জায়গা খালি করে দেওয়ার জন্য। আহতদের এবং মেয়েদের নিরাপত্তার কথা ভেবে আমরা ধীরে ধীরে বের হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। কিন্তু পুলিশ আমাদের দুই মিনিটও সময় না দিয়ে সরাসরি উপাচার্যের বাসভবনের ভেতরে গুলি ও টিয়ারশেল ছোড়া শুরু করে। আমি পরে শুনেছি, গেটের সামনে প্রথম গুলিতে আমাদের সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মেহেদী মামুন আহত হয়।

স্ট্রিম: গোলাগুলির ঘটনাটা কি ওই রাতেই ঘটেছিল?

খন্দকার এলাহী: হ্যাঁ, ১৫ জুলাই দিবাগত রাত আনুমানিক দেড়টা থেকে পৌনে দুইটার দিকে। আমরা যখন গেট দিয়ে বের হবো, তখন পুলিশ টিয়ারশেল ছুড়তে শুরু করে। আমরা বাধ্য হয়ে বাসভবনের ভেতরের কয়েকটি গাছের আড়ালে আশ্রয় নিই। নারী শিক্ষার্থীরা এবং প্রফেসর গোলাম রব্বানী সেখানেই বসে পড়েন। আমি ভাবছিলাম, উপাচার্যের বাসভবনের মতো সুরক্ষিত জায়গায় আমরা শিক্ষকরা দাঁড়িয়ে আছি, এখানে কার নির্দেশে পুলিশ গুলি চালাবে? খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে পুলিশ প্রবেশই করতে পারেনি, আর আমাদের এখানে পুলিশ সন্ত্রাসীদের ভেতরে ঢোকার সুযোগ করে দিয়ে উল্টো আমাদের ওপর টিয়ারশেল ও গুলি চালাচ্ছে!

ধোঁয়ায় আমাদের শ্বাসরুদ্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। আমি ঘাড় ফেরানোর সুযোগটুকুও পাইনি। হঠাৎ একটি টিয়ারশেলের পর একাধিক গুলি প্রচণ্ড বেগে আমার চোখে-মুখে ও শরীরে এসে লাগে। আমি প্রথমে আমার হাত চেক করি, দেখি পুরো হাত রক্তে ভেসে যাচ্ছে এবং হাতটা ওঠাতে পারছি না। এর মধ্যেই টের পাই আমার একটা চোখের আলো পুরোপুরি নিভে গেছে। আমি রব্বানী স্যারকে বলি, "প্রফেসর, আমার তো গুলি লেগেছে!"

গ্লাস উল্টে দিলে যেভাবে পানি পড়ে, আমার চোখ দিয়ে সেভাবে রক্ত ঝরছিল। আমি নিজের পরনের শার্ট খুলে মাথা ও চোখ বেঁধে নিই। আমি বুঝতে পারছিলাম অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে আমি দুর্বল হয়ে পড়ছি। আমি রব্বানী স্যারকে বললাম, তোমরা শিক্ষার্থীদের দেখো, আমি পুলিশকে থামানোর চেষ্টা করছি। ওই অবস্থাতেই আমি রক্তমাখা শার্টটা হাতে নিয়ে ওড়াতে ওড়াতে গেটের দিকে দৌড় দিই এবং পুলিশকে বলি, "আপনারা আর গুলি চালাবেন না!" আমার এই অবস্থা দেখে পুলিশ কিছুটা পিছু হটে গেটের বাইরে যায়, কিন্তু তারপরেও তারা আমার মাথার ওপর দিয়ে গুলি চালিয়েছিল।

স্ট্রিম: আপনি কি তখন এক চোখে একেবারেই দেখতে পাচ্ছিলেন না?

খন্দকার এলাহী: হ্যাঁ, আমার এক চোখের দৃষ্টি তখন পুরোপুরি চলে গেছে এবং পাশের আঘাতে অন্য চোখটিও ফুলে গেছে। আমি গেটের কাছে গিয়ে আর রাস্তা খুঁজে পাচ্ছিলাম না। তখন শিক্ষক সমিতির তৎকালীন সেক্রেটারি সাঈদ রানা আমার হাত ধরে গেট পর্যন্ত নিয়ে যান। কিন্তু পুলিশ আবার গুলি চালালে সবাই সরে যায়, আমি একা পুলিশের সামনে দাঁড়িয়ে থাকি। এরপর আমি ধীরে ধীরে হেঁটে বের হয়ে কারো কাছে মেডিকেলে যাওয়ার সাহায্য চাই।

আমাদের সিকিউরিটি অফিসার ফজলুল হাসান সজল আমাকে ধরে ১ নম্বর (প্রান্তিক) গেট পর্যন্ত নিয়ে যায়। সেখান থেকে সাংবাদিক সমিতির আব্দুল্লাহ আল মামুন ও আরেকজন ছাত্র আমাকে মোটরসাইকেলে করে আমাদের মেডিকেলে নিয়ে যায়। আমাকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখে সাধারণ শিক্ষার্থীরা কেঁদে ফেলে। মেডিকেলে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর প্রফেসর এজহার ও আইবিএ'র পলাশ সাহা আমাকে একটি অ্যাম্বুলেন্সে তুলে দেন। আমাকে প্রথমে এনাম মেডিকেল কলেজে নেওয়া হয়। শেষ রাতে শিক্ষক সমিতির সভাপতিসহ অনেকেই আমাকে দেখতে আসেন।

ভোরেই আমাকে ঢাকায় জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইন্সটিটিউটে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে আমার প্রথম অপারেশন হয়। এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য আমি থাইল্যান্ডে যাই। সেখানে কয়েক ধাপে আমার আরও তিনটি অপারেশন হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আমাকে নিয়মিত চেকআপের মধ্যে থাকতে হবে; চোখ পুরোপুরি ভালো হতেও পারে, আবার নাও হতে পারে—তারা নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছেন না।

শেষে একটি কথা বলে রাখতে চাই, আমি যখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলাম, তখন তৎকালীন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান (বর্তমান প্রধানমন্ত্রী) জনাব তারেক রহমান লন্ডন থেকে ড্যাবের নেতা ও ইউনাইটেড হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. মেহবুবকে পাঠিয়ে আমার চিকিৎসার খোঁজখবর নিয়েছিলেন এবং সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এই আন্দোলনে অনেক শিক্ষকই ভূমিকা রেখেছেন, কিন্তু আমার মতো এত ভয়াবহভাবে কেউ গুলিবিদ্ধ হননি। সেই দুঃসময়ে খোঁজ নেওয়ার জন্য আপনাদের মাধ্যমে আমি তাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

স্ট্রিম: আপনি ইতিহাসের অধ্যাপক। আমরা দেখছি, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাসকে নানাভাবে বিকৃত করে একে 'বিচ্ছিন্নতাবাদীদের আন্দোলন' বা অন্য কোনো ন্যারেটিভ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। জুলাইয়ের এই ইতিহাসকে আসলে কীভাবে সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা সম্ভব?

খন্দকার এলাহী: এগুলো নিছক প্রোপাগান্ডা। আপনি খেয়াল করলে দেখবেন, জুলাই মাসে 'প্রত্যয়' স্কিম বাতিলের দাবিতে দলমত নির্বিশেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একটি স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন চলছিল। ঠিক একই সময়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরাও তাদের ন্যায্য অধিকারের দাবিতে কোটা সংস্কার আন্দোলন শুরু করে। যখন শিক্ষার্থীদের এই শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে সন্ত্রাসী কায়দায় গুলি চালিয়ে স্তব্ধ করার চেষ্টা করা হলো, তখন সাধারণ মানুষ বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে এবং জনমত ঐক্যবদ্ধ হয়। এটি কোনো পূর্বপরিকল্পিত বা উদ্দেশ্যমূলক বিষয় ছিল না, বরং বিভিন্ন ঘটনার পারস্পরিক যোগসূত্রে সৃষ্ট এক স্বতঃস্ফূর্ত গণবিস্ফোরণ।

স্ট্রিম: এই ইতিহাস সংরক্ষণে ইতিহাসবিদদের বা রাষ্ট্রের এখন কী করা উচিত?

খন্দকার এলাহী: এর জন্য রাষ্ট্রের সদিচ্ছা ও পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন। এই বিপ্লবের পটভূমি ও কারণ থেকে শুরু করে রাষ্ট্রব্যবস্থার পরিবর্তন পর্যন্ত প্রতিটি ঘটনা সংরক্ষণ করা আমাদের জাতীয় ইতিহাসের স্বার্থেই অপরিহার্য। বিশেষ করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কান্ডারি ভূমিকার কথা বলতেই হয়। ১৫ জুলাই রাতের ঘটনা এবং ১৬ জুলাই ভোরে জাবির ঘুরে দাঁড়ানোর বিষয়টি সারা দেশের আন্দোলনকারী ও সমন্বয়কদের প্রবলভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল। ১৬ তারিখে রংপুরে আবু সাঈদ শহীদ হন, কিন্তু এর আগের রাতেই জাবিতে আমি বা আমার কোনো শিক্ষার্থী নিহত হতে পারতাম।

তবে অত্যন্ত আক্ষেপের বিষয় হলো, উপাচার্যের বাসভবনের মতো জায়গায় পুলিশকে গুলি চালানোর নির্দেশ কে দিয়েছিল—তার তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বা রাষ্ট্র আজও কোনো মামলা করেনি। আমি অবিলম্বে সেদিনের দোষীদের খুঁজে বের করে বিচারের আওতায় আনার জোর দাবি জানাচ্ছি।

স্ট্রিম: জুলাই আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় জড়িত থাকায় জাবির ১৯ জন শিক্ষক ও ২ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রশাসন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। কাউকে বাধ্যতামূলক অবসর, কারও পদাবনতি বা কাউকে প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এই বিচার প্রক্রিয়াকে কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?

খন্দকার এলাহী: তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতেই সিন্ডিকেট এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থার অনুমোদন দিয়েছে। সিন্ডিকেট বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ বডি হলেও, আমি ব্যক্তিগতভাবে তদন্ত কমিটির কিছু সদস্যের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলাম। কমিটিতে এমন একজন সদস্য আছেন, যিনি গত ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে আওয়ামী প্রশাসনের আমলে সিন্ডিকেট সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং কখনোই কোনো অন্যায়ের প্রতিবাদ করেননি।

তাছাড়া বর্তমান সিন্ডিকেটে কোনো নির্বাচিত শিক্ষক প্রতিনিধি নেই। শিক্ষক প্রতিনিধি থাকলে বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে সাধারণ শিক্ষকদের মধ্যে আস্থা থাকত। আমি চাই, একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সুষ্ঠু বিচার সম্পন্ন হোক। আমার কোনো নির্দোষ সহকর্মী যেন বিনা অপরাধে শাস্তি না পান, আবার প্রকৃত অপরাধীরাও যেন পার পেয়ে না যায়—এটাই আমার মূল চাওয়া।

স্ট্রিম: দেশকে স্বৈরাচারমুক্ত করতে এবং অকুতোভয় শিক্ষার্থীদের জন্য আপনি নিজের একটি চোখ উৎসর্গ করেছেন। আন্দোলনকারী সেই জেন-জি বা নতুন প্রজন্মের উদ্দেশে আপনার চূড়ান্ত বার্তা কী?

খন্দকার এলাহী: বায়ান্ন থেকে একাত্তর পর্যন্ত বহু ত্যাগের বিনিময়ে আমরা যে বাংলাদেশ পেয়েছিলাম, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান দেশকে নতুন করে গড়ার পথ তৈরি করে দিয়েছে। নতুন প্রজন্মের প্রতি আমার একটাই বার্তা—আমাদের দলীয় অন্ধত্ব থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে সার্বজনীনতার ভিত্তিতে সবাইকে সমান অধিকার দিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের জন্য কাজ করতে হবে। যার যার রাজনৈতিক মতাদর্শ থাকতে পারে, কিন্তু জাতীয় স্বার্থে সবাইকে এক হতে হবে। তাহলেই চব্বিশের এই বিপ্লব সফল হবে।

আমি আমার শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছিলাম এবং আজও বলছি—বর্তমান বা ভবিষ্যতের যেকোনো প্রশাসন যদি আমার শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতন চালায়, তবে আমি আবারও তাদের পাশে গিয়ে দাঁড়াব। তাদের রক্ষায় আমি আবারও গুলির সামনে বুক পেতে দিতে বিন্দুমাত্র দ্বিধাবোধ করব না।

স্ট্রিম: আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

খন্দকার এলাহী: আপনাকেও ধন্যবাদ।

সর্বাধিক পঠিত
লেটেস্ট
Ad 300x250

সম্পর্কিত