মেঘনায় ঝুঁকি নিয়ে ঘরমুখী ভোলার যাত্রীরা, ছোট ট্রলারে দুর্ভোগ বেশি

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
ভোলা

প্রকাশ : ২৭ মে ২০২৬, ১৭: ৩৮
ভোলা-লক্ষ্মীপুর রুটে অবৈধভাবে ছোট ট্রলারে বহন করা হচ্ছে যাত্রী। স্ট্রিম ছবি

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে মেঘনায় অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে ঢাকা থেকে ভোলার ইলশাঘাটে আসছে লঞ্চগুলো। নদীতে নাব্য সংকটের সুযোগে ভোলা-লক্ষ্মীপুর রুটে অবৈধভাবে ছোট ট্রলারে যাত্রী বহন করা হচ্ছে। রোদ-বৃষ্টির মধ্যে গাদাগাদির আনা যাত্রীদের কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়া।

ডেঞ্জার জোনের আওতায় হওয়ায় ১৫ মার্চ থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত ভোলা-লক্ষ্মীপুর রুটে সি-সার্ভে বা বে-ক্রসিং সনদবিহীন নৌযান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করে অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহণ কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)।

কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, ভোলা-লক্ষ্মীপুর রুটে চারটি সি-ট্রাক লঞ্চ চলাচল করছে। এছাড়া এমভি পারিজাত ও অপরাজিতা নামের আরও দুইটি বেসরকারি লঞ্চ রয়েছে। পাশাপাশি চারটি ফেরিও নিয়মিত চলাচল করছে। তবে ঈদ উপলক্ষে যাত্রী বাড়লেও এই রুটে নৌযানের সংখ্যা বাড়ানো হয়নি।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে ভোলার ইলিশা লঞ্চঘাটে গিয়ে দেখা যায়, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ৮টি লঞ্চ একে একে ভোলার ইলিশাঘাটে ভেড়ে। প্রতিটি লঞ্চেই ছিল ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী। তবে নাব্য সংকটে মেঘনার ভোলা-লক্ষ্মীপুর রুটে লঞ্চ চলাচল ব্যহত হচ্ছে। এই সুযোগে লক্ষ্মীপুরের মজু চৌধুরীর ঘাট থেকে ৫টি ছোট ট্রলারে কয়েক হাজার যাত্রী ইলিশাঘাটে আসে। এতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করছেন যাত্রীদের।

মেঘনায় অতিরিক্ত বোঝাই দিয়ে ট্রলারে যাত্রীরা আসছেন ভোলার ইলশাঘাটে। স্ট্রিম ছবি
মেঘনায় অতিরিক্ত বোঝাই দিয়ে ট্রলারে যাত্রীরা আসছেন ভোলার ইলশাঘাটে। স্ট্রিম ছবি

লক্ষ্মীপুর থেকে ট্রলারে আসা যাত্রী ইকবাল হোসেন জানান, চট্টগ্রাম থেকে রওনা দিয়ে বেলা ২টার দিকে মজু চৌধুরীর ঘাটে পৌঁছান। দীর্ঘ অপেক্ষার পর লঞ্চ না পেয়ে ট্রলারে উঠেছেন। ১৮০ টাকার ভাড়া ২৫০ নিয়েছে। ছোট্ট ট্রলারে বিপুল যাত্রী তোলায় নড়াচড়ারও সুযোগ হয়নি তাঁর। খোলা ট্রলারে একদিকে তীব্র গরমে ও বৃষ্টিতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে যাত্রীদের।

ট্রলারের অপর যাত্রী মো. মাইন উদ্দিন জানান, মজু চৌধুরীর ঘাট থেকে রওয়ানা করার কিছুক্ষণ পর লঞ্চটি মাঝনদীতে আটকে যায়। পরে বিকল্প উপায়ে ট্রলারে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে ইলিশা ঘাটে এসেছেন। মেঘনায় যাত্রী বহন করা এমবি আফনান খন্দকার-২ নামের একটি ট্রলারের চালক মো. শাজাহানের দাবি, ডুবোচরে লঞ্চ আটকে যাওয়ায় যাত্রীরা দুর্ভোগ কমাতে ট্রলারে যাত্রী বহন করছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইলিশা লঞ্চঘাটের কয়েকজন স্টাফ জানান, লক্ষ্মীপুরের মজুচৌধুরীর হাট এলাকার দিদার নামে এক প্রভাবশালী ব্যক্তি গত রোববার ও সোমবার বৈরী আবহাওয়া মধ্যেও ৮টি স্টিলবডি ট্রলারে ভোলায় যাত্রী পাঠিয়েছেন। এসব ট্রলার ভোলার ইলিশা ঘাটে দেখাশোনার দায়িত্বে রয়েছেন আরও দুজন। এতে লঞ্চঘাটের ইজারাদার ও কয়েকজন স্টাফও জড়িত থাকায় বিআইডব্লিউটিএর পন্টুন থেকেই অবৈধ নৌযান মেঘনায় চলাচল করছে।

মেঘনা পারি দিয়ে ভোলার ইলশাঘাটে নামছেন ট্রলারের যাত্রীরা। স্ট্রিম ছবি
মেঘনা পারি দিয়ে ভোলার ইলশাঘাটে নামছেন ট্রলারের যাত্রীরা। স্ট্রিম ছবি

ভোলার ইলিশা নৌ-থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ আশিকুর রহমান জানান, অবৈধ ট্রলারগুলো মূলত আসে লক্ষ্মীপুর থেকে। অবৈধ নৌযান বন্ধ ও সরকারি নৌযানে বাড়ানোর বিষয়ে ভোলার বিআইডব্লিউটিএর সহকারী পরিচালককে জানানো হয়েছে। যাত্রীরা নিরাপদ নৌযান না পেয়ে অবৈধ ট্রলারে ওঠে। তবে অবৈধ নৌযান বন্ধে কাজ করে যাচ্ছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ইলিশাঘাটে বিআইডব্লিউটিসির ব্যবস্থাপক মো. কাছার জানান, ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের ভোগান্তি লাঘবে এ রুটে চলাচলকারী সি-ট্রাক ও লঞ্চগুলো শিডিউল ছাড়াই যতক্ষণ যাত্রী থাকবে ততক্ষণ চলাচল করতে বলা হয়েছে। এরপরও যাত্রী বেশি হলে তাদের ফেরিতে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

ভোলার বিআইডব্লিউটিএর সহকারী পরিচালক নির্মল কান্তি দে জানান, লক্ষ্মীপুর থেকে যাত্রী নিয়ে ভোলায় আসার পর একটি ট্রলারকে আটকের পর মামলা দেওয়া হয়েছে। তবে সোমবার সকালে একটি লঞ্চ ডুবোচরে আটকে যাওয়ায় তার যাত্রীরা ট্রলারে এসেছেন। তবে অবৈধ ট্রলার বন্ধে ঘাটে নিয়মিত টহল চলছে।

সম্পর্কিত