কাজী মাহফুজুল হক সুপন

সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিল করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিল দেশের সর্বোচ্চ আদালতে খারিজ হয়ে গেছে। এই রায়ের ফলে বাংলাদেশের রাজনীতি ও সংবিধানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুটি বিষয়—তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা এবং সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে গণভোটের বিধান পুনরায় বহাল থাকল। বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে এই রায়টি কেবল একটি আইনি সিদ্ধান্ত নয়, বরং এটি দীর্ঘদিনের জনআকাঙ্ক্ষারই প্রতিফলন।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় নির্বাচন সবসময়ই একটি বড় সংকটের নাম। বিগত রাজনৈতিক/দলীয় সরকারগুলোর আমলে, বিশেষ করে গত তিনটি জাতীয় নির্বাচনের একটিও সুষ্ঠু হয়নি, যা আজ দেশি-বিদেশি সর্বমহলে স্বীকৃত। এই তিক্ত অভিজ্ঞতার পর দেশের আপামর জনগণ ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একটি বিষয়ে দৃঢ় ঐকমত্য তৈরি হয়েছে যে— নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া বাংলাদেশে কোনোভাবেই সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।
১৯৯০ সালে স্বৈরাচার এরশাদ-বিরোধী গণঅভ্যুত্থানের পর যে রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রূপরেখা তৈরি হয়েছিল, এই রায়ের মাধ্যমে আমরা মূলত সেখানেই ফিরে গেলাম। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ক্ষমতা পরিবর্তনের পথ যদি সুগম ও শান্তিপূর্ণ না হয়, তবে তার পরিণতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তা জাতি হিসেবে আমরা বারবার দেখেছি। তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফিরে আসার মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তরের সেই গণতান্ত্রিক পথটি আবারও সুগম হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হলো।
একইসঙ্গে সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে গণভোটের বিধান পুনর্বহাল হওয়া এই রায়ের আরেকটি চমৎকার দিক। আমাদের সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদে স্পষ্ট বলা আছে, প্রজাতন্ত্রের সব ক্ষমতার মালিক জনগণ এবং এই সংবিধান জনগণের ইচ্ছার অভিপ্রকাশ। সুতরাং, সংবিধানে যখন কোনো গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হবে, সেখানে জনগণের সরাসরি মতামত থাকা বাঞ্ছনীয়।
বিগত সময়ে আমরা দেখেছি, সংসদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার সুযোগ নিয়ে তৎকালীন শেখ হাসিনা সরকার সম্পূর্ণ দলীয় স্বার্থে সংবিধানে যথেচ্ছ কাঁটাছেঁড়া করেছে। জনগণের মতামতের তোয়াক্কা না করেই তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করেছিল। গণভোটের বিধান ফিরে আসার ফলে এখন চাইলেই কোনো সরকার খেয়ালখুশিমতো সংবিধান পরিবর্তন করতে পারবে না। কারণ, তাদের মাথায় সবসময় এই মনস্তাত্ত্বিক চাপ থাকবে যে, জনগণের স্বার্থবিরোধী কোনো সংশোধনী আনলে তা গণভোটে বাতিল হয়ে যেতে পারে। এর মাধ্যমে জনগণের ক্ষমতা কেবল ৫ বছর পর পর ভোট দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকল না, বরং রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন প্রণয়নেও তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হলো।
২০২৪-এর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মূল আকাঙ্ক্ষাও ছিল একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলা। আর রাষ্ট্রে বৈষম্যের বীজ বপন করা হয় একটি কারচুপিপূর্ণ ও বাজে নির্বাচনের মাধ্যমেই। দলীয় সরকারের অধীনে হওয়া বিগত নির্বাচনগুলোকে হাতিয়ার করেই মূলত সমাজে চরম রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য তৈরি করা হয়েছিল। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে বলা যায়, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরে আসার এই রায় চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের মূল স্পিরিট বা জনআকাঙ্ক্ষাকেই ধারণ করে। সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করার মাধ্যমেই বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গড়ার প্রথম পদক্ষেপটি নেওয়া সম্ভব।
ভবিষ্যতে কোনো সরকার যেন সংবিধানকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করে ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে না পারে, সেজন্য সাংবিধানিক কাঠামোতে পর্যাপ্ত রক্ষাকবচ প্রয়োজন। বর্তমানে আমাদের সামনে তিনটি বড় রক্ষাকবচ তৈরি হলো: প্রথমত, সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা; দ্বিতীয়ত, জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণ বা গণভোট; এবং তৃতীয়ত, উচ্চ আদালতের বিচারিক পর্যালোচনা । কোনো সংশোধনী সংবিধানের মূল কাঠামোর পরিপন্থী হলে আদালত তা বাতিল করে দিতে পারেন, যেমনটি পঞ্চদশ সংশোধনীর ক্ষেত্রে ঘটেছে।
সর্বোচ্চ আদালতের এই রায়টি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রায় একটি মাইলফলক। এখন রাজনৈতিক দল, সরকার এবং দেশের প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব হলো এই রায়কে সম্মান জানানো। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে সমাজে ও রাজনীতিতে গভীরভাবে প্রোথিত করতে চাইলে, জনমতের প্রতিফলনে দেওয়া এই যুগান্তকারী রায়টিকে ধারণ করে আমাদের সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।

সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিল করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিল দেশের সর্বোচ্চ আদালতে খারিজ হয়ে গেছে। এই রায়ের ফলে বাংলাদেশের রাজনীতি ও সংবিধানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুটি বিষয়—তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা এবং সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে গণভোটের বিধান পুনরায় বহাল থাকল। বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে এই রায়টি কেবল একটি আইনি সিদ্ধান্ত নয়, বরং এটি দীর্ঘদিনের জনআকাঙ্ক্ষারই প্রতিফলন।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় নির্বাচন সবসময়ই একটি বড় সংকটের নাম। বিগত রাজনৈতিক/দলীয় সরকারগুলোর আমলে, বিশেষ করে গত তিনটি জাতীয় নির্বাচনের একটিও সুষ্ঠু হয়নি, যা আজ দেশি-বিদেশি সর্বমহলে স্বীকৃত। এই তিক্ত অভিজ্ঞতার পর দেশের আপামর জনগণ ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একটি বিষয়ে দৃঢ় ঐকমত্য তৈরি হয়েছে যে— নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া বাংলাদেশে কোনোভাবেই সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।
১৯৯০ সালে স্বৈরাচার এরশাদ-বিরোধী গণঅভ্যুত্থানের পর যে রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রূপরেখা তৈরি হয়েছিল, এই রায়ের মাধ্যমে আমরা মূলত সেখানেই ফিরে গেলাম। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ক্ষমতা পরিবর্তনের পথ যদি সুগম ও শান্তিপূর্ণ না হয়, তবে তার পরিণতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তা জাতি হিসেবে আমরা বারবার দেখেছি। তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফিরে আসার মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তরের সেই গণতান্ত্রিক পথটি আবারও সুগম হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হলো।
একইসঙ্গে সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে গণভোটের বিধান পুনর্বহাল হওয়া এই রায়ের আরেকটি চমৎকার দিক। আমাদের সংবিধানের ৭ অনুচ্ছেদে স্পষ্ট বলা আছে, প্রজাতন্ত্রের সব ক্ষমতার মালিক জনগণ এবং এই সংবিধান জনগণের ইচ্ছার অভিপ্রকাশ। সুতরাং, সংবিধানে যখন কোনো গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হবে, সেখানে জনগণের সরাসরি মতামত থাকা বাঞ্ছনীয়।
বিগত সময়ে আমরা দেখেছি, সংসদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার সুযোগ নিয়ে তৎকালীন শেখ হাসিনা সরকার সম্পূর্ণ দলীয় স্বার্থে সংবিধানে যথেচ্ছ কাঁটাছেঁড়া করেছে। জনগণের মতামতের তোয়াক্কা না করেই তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করেছিল। গণভোটের বিধান ফিরে আসার ফলে এখন চাইলেই কোনো সরকার খেয়ালখুশিমতো সংবিধান পরিবর্তন করতে পারবে না। কারণ, তাদের মাথায় সবসময় এই মনস্তাত্ত্বিক চাপ থাকবে যে, জনগণের স্বার্থবিরোধী কোনো সংশোধনী আনলে তা গণভোটে বাতিল হয়ে যেতে পারে। এর মাধ্যমে জনগণের ক্ষমতা কেবল ৫ বছর পর পর ভোট দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকল না, বরং রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন প্রণয়নেও তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হলো।
২০২৪-এর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মূল আকাঙ্ক্ষাও ছিল একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলা। আর রাষ্ট্রে বৈষম্যের বীজ বপন করা হয় একটি কারচুপিপূর্ণ ও বাজে নির্বাচনের মাধ্যমেই। দলীয় সরকারের অধীনে হওয়া বিগত নির্বাচনগুলোকে হাতিয়ার করেই মূলত সমাজে চরম রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য তৈরি করা হয়েছিল। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে বলা যায়, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরে আসার এই রায় চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের মূল স্পিরিট বা জনআকাঙ্ক্ষাকেই ধারণ করে। সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করার মাধ্যমেই বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গড়ার প্রথম পদক্ষেপটি নেওয়া সম্ভব।
ভবিষ্যতে কোনো সরকার যেন সংবিধানকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করে ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে না পারে, সেজন্য সাংবিধানিক কাঠামোতে পর্যাপ্ত রক্ষাকবচ প্রয়োজন। বর্তমানে আমাদের সামনে তিনটি বড় রক্ষাকবচ তৈরি হলো: প্রথমত, সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা; দ্বিতীয়ত, জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণ বা গণভোট; এবং তৃতীয়ত, উচ্চ আদালতের বিচারিক পর্যালোচনা । কোনো সংশোধনী সংবিধানের মূল কাঠামোর পরিপন্থী হলে আদালত তা বাতিল করে দিতে পারেন, যেমনটি পঞ্চদশ সংশোধনীর ক্ষেত্রে ঘটেছে।
সর্বোচ্চ আদালতের এই রায়টি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রায় একটি মাইলফলক। এখন রাজনৈতিক দল, সরকার এবং দেশের প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব হলো এই রায়কে সম্মান জানানো। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে সমাজে ও রাজনীতিতে গভীরভাবে প্রোথিত করতে চাইলে, জনমতের প্রতিফলনে দেওয়া এই যুগান্তকারী রায়টিকে ধারণ করে আমাদের সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।
.png)

কিশোরগঞ্জের একটি খবর পড়ে আমি কিছুক্ষণ চুপ করে ছিলাম। একটি কনসার্ট বন্ধের দাবি জানিয়ে প্রশাসনের কাছে চিঠি দেওয়া হয়েছে। সেই চিঠিতে বলা হয়েছে, গান-বাজনা ইসলামী শরিয়াহবিরোধী। পরে প্রশাসনিক অনুমতি বা লাইসেন্স না থাকার কথাও বলা হয়েছে।
১৯ আগস্ট ২০২৬
শেখ মুজিবুর রহমান নিহত হয়েছিলেন ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট। তাঁকে হত্যা করা হয়েছিল সপরিবারে। সেই রাতে আরও একাধিক বাসভবনে নির্বিচারে হত্যাকাণ্ড চালানো হয়। এর মধ্য দিয়ে শেখ মুজিব নেতৃত্বাধীন স্বৈরশাসনের অবসান হয়েছিল, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে সেই লক্ষ্য অর্জনে ওই ধরনের হত্যাকাণ্ডই একমাত্র উপায় ছিল কিনা, তা
১৬ আগস্ট ২০২৬
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে একটি জাহাজভাঙা ইয়ার্ডে বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে ৯ জন শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু এবং বেশ কয়েকজনের আহত হওয়ার ঘটনাটি দেশের শ্রম খাতের এক ভয়াবহ ও রূঢ় বাস্তবতাকে আবারও আমাদের সামনে উন্মোচিত করেছে।
১৬ আগস্ট ২০২৬
ময়মনসিংহের ত্রিশালের একটি বালুমহাল। সেখানকার অস্থায়ী টিনের কার্যালয়ে বসে কাজ করছিলেন ইজারাদারের এক কর্মচারী। হঠাৎ সেখানে দলবল নিয়ে প্রবেশ করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সদস্য। সরকারি কর্মকর্তাদের এমন আকস্মিক প্রবেশে কিছুটা ভড়কে যান ওই কর্মচারী।
১৩ আগস্ট ২০২৬