স্ট্রিম প্রতিবেদক

ঈদের ছুটিতে ব্যস্ততম শহর ঢাকা বদলে যায়। পার্ক, শিশুমেলা আর প্রেক্ষাগৃহে জমে ওঠে মানুষের ভিড়, যেখানে পরিবার-পরিজন আর প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানো ছোট ছোট মুহূর্তই হয়ে ওঠে আনন্দের বড় উপলক্ষ। নগরজীবনের কোলাহল সরে গিয়ে দেখা মেলে ঢাকার এক অন্যরকম, প্রাণবন্ত রূপ।
ঘোড়ার ক্যারাউসেল ঘুরছে ধীরে ধীরে। রঙিন আলো, শিশুদের হাসি আর ঈদের দিনের উচ্ছ্বাসে জমে উঠেছে ঢাকার শিশুমেলা। সেই ভিড়ের মাঝেই ক্যামেরা তাক করে দাঁড়িয়ে আছেন বাবা সমীরণ কুন্ডু। ক্যারাউসেলের ঘোড়ার পিঠে বসে থাকা ছোট্ট অর্নিকা বাবাকে দেখেই হাত নাড়ছে, কখনো হেসে উঠছে। কখনো যেন চোখের ভাষায় বলছে —দেখো বাবা, আমি কত মজা করছি।
দিনাজপুর থেকে আসা চিকিৎসক সমীরণ কুন্ডুর পরিবার ঢাকাতেই থাকে। তাঁর স্ত্রী একজন চিকিৎসক; ঈদের দিনেও ডিউটিতে থাকতে হয়। ব্যস্ততার ফাঁকেই মেয়েকে নিয়ে বেরিয়ে পড়েছেন তিনি। সমীরণ বলেন, স্ত্রী যে হাসপাতালে কর্মরত, শিশুমেলা তার কাছেই। তাই মেয়ের আনন্দের কথা ভেবেই এখানে আসা। তাঁর ভাষায়, ‘ঈদ মানেই তো আনন্দ। আনন্দ সবার জন্যই। কিন্তু বাচ্চাদের আনন্দটাই আগে। অন্য জায়গার চেয়ে এখানে ও বেশি আনন্দ পায়।’ পাঁচ বছরের বেশি বয়সী অর্নিকার জন্য এটি শিশুমেলায় দ্বিতীয়বার আসা। তবু তার উচ্ছ্বাসে একটুও কমতি নেই।

শিশুমেলার আরেক কোণে দেখা গেল মোহাম্মদ আলাউদ্দিনকে। সঙ্গে দুই নাতি, আরিয়ান ও রাফিয়ান। একজনের বয়স সাড়ে পাঁচ, আরেকজনের মাত্র ১৮ মাস। পিরোজপুরে কর্মরত আলাউদ্দিন ঈদের ছুটিতে ঢাকায় এসে নাতিদের নিয়ে বেরিয়েছেন। তাঁর কণ্ঠে ছিল সহজ, নির্ভেজাল পারিবারিক সুখের কথা। নাতিদের ঈদের খুশিতেই তাঁর নিজের আনন্দ। দূরে থাকা অন্য দুই নাতিকে মনে পড়লেও, এই দুই নাতির হাত ধরে ঈদের বিকেলটাকে তিনি পূর্ণ করে তুলতে চান। শিশুমেলায় আসা তাঁর কাছে শুধু ঘোরাঘুরি নয়, পরিবারের ছোটদের মুখে হাসি দেখার একটি উপলক্ষও।
ঈদের ছুটিতে ঢাকার রাস্তাঘাট যতই ফাঁকা হোক, রাজধানীর খোলা জায়গাগুলোতে কিন্তু থেমে নেই উৎসবের প্রাণ।
জিয়া উদ্যানে গিয়ে দেখা গেল সবুজের ভেতর অন্যরকম স্বস্তি। কেউ হাঁটছেন, কেউ পরিবারের সঙ্গে বসে আছেন, কেউবা ছবি তুলছেন। শ্যামলীর আদাবর থেকে আসা সাকিব স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে এসেছেন ঘুরতে। তিনি বলেন, ঈদের ছুটিতে পরিবার নিয়ে বের হওয়ার সুযোগ খুব বেশি হয় না। আর আজকের আবহাওয়াটাও ছিল দারুণ। তাঁর চোখে এই উদ্যান আগের তুলনায় অনেক বেশি গোছানো, পরিচ্ছন্ন, পরিপাটি। ডাস্টবিনে আলাদা সাইন, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ আর খোলামেলা সবুজ, সব মিলিয়ে ঈদের ফাঁকা ঢাকায় জায়গাটি তাঁকে দিয়েছে স্বস্তির অনুভূতি। তাঁর কথায়, ‘এটা ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। যারা আসছে বা আসবে, এই আবহাওয়ায় এসে আরও চনমনে লাগবে।’

ধানমন্ডি ৩২-এর পার্ক এলাকাতেও ছিল একই চিত্রের আরেক রূপ। মেহজাবিন রহমান পরিবার নিয়ে বিকেলে বেরিয়েছিলেন লেকপারে।

তিনি বলেন, ‘ঈদের দিনে ঢাকার ব্যস্ততা একটু থেমে যায়, তখন শহরটাকে নতুন করে দেখা যায়। বাচ্চাদের নিয়ে খুব দূরে না গিয়েও এমন খোলা জায়গায় কিছুটা সময় কাটানো যায়, সেটাই ভালো লাগে। সবাই মিলে হাঁটা, গল্প করা, একটু ফুচকা খাওয়া, এই ছোট ছোট মুহূর্তই তো ঈদের আনন্দ। ফাঁকা শহরে এই পার্কটা আজ আরও শান্ত, আরও আপন মনে হচ্ছে।’
অন্যদিকে, নগরজীবনের আরেক রঙ ধরা পড়েছে বসুন্ধরা শপিং কমপ্লেক্সের স্টার সিনেপ্লেক্সে। ঈদের বিকেল গড়াতেই সেখানে ভিড় জমিয়েছেন সিনেমাপ্রেমীরা।

বন্ধুদের সঙ্গে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ দেখতে আসা রায়হান কবির বলেন, ‘ঈদের দিনে সিনেমা দেখতে আসার একটা আলাদা মজা আছে। বাইরে ঘোরাঘুরি যেমন আছে, তেমনি বড় পর্দায় একসঙ্গে সিনেমা দেখা এখন আমাদের ঈদের অংশ হয়ে গেছে। হলের ভিড়, টিকিট হাতে অপেক্ষা, শো শুরু হওয়ার আগের উত্তেজনা, সব মিলিয়ে উৎসবটা অন্যরকম লাগে। পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে এই সময়টা কাটানোই আসল আনন্দ।’
ঈদের ছুটিতে ফাঁকা হয়ে যাওয়া ঢাকা তাই পুরোপুরি নির্জন নয়। বরং ব্যস্ততার আবরণ সরে গেলে শহরের অন্য এক মুখ দেখা যায়। যেখানে পার্কে শিশুর হাসি, উদ্যানে পরিবারের হাঁটাহাঁটি, লেকপারে ছোট্ট আড্ডা আর প্রেক্ষাগৃহে উৎসবের ভিড় মিলেমিশে তৈরি করে অন্যরকম এক নগর ঈদ।

ঈদের ছুটিতে ব্যস্ততম শহর ঢাকা বদলে যায়। পার্ক, শিশুমেলা আর প্রেক্ষাগৃহে জমে ওঠে মানুষের ভিড়, যেখানে পরিবার-পরিজন আর প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটানো ছোট ছোট মুহূর্তই হয়ে ওঠে আনন্দের বড় উপলক্ষ। নগরজীবনের কোলাহল সরে গিয়ে দেখা মেলে ঢাকার এক অন্যরকম, প্রাণবন্ত রূপ।
ঘোড়ার ক্যারাউসেল ঘুরছে ধীরে ধীরে। রঙিন আলো, শিশুদের হাসি আর ঈদের দিনের উচ্ছ্বাসে জমে উঠেছে ঢাকার শিশুমেলা। সেই ভিড়ের মাঝেই ক্যামেরা তাক করে দাঁড়িয়ে আছেন বাবা সমীরণ কুন্ডু। ক্যারাউসেলের ঘোড়ার পিঠে বসে থাকা ছোট্ট অর্নিকা বাবাকে দেখেই হাত নাড়ছে, কখনো হেসে উঠছে। কখনো যেন চোখের ভাষায় বলছে —দেখো বাবা, আমি কত মজা করছি।
দিনাজপুর থেকে আসা চিকিৎসক সমীরণ কুন্ডুর পরিবার ঢাকাতেই থাকে। তাঁর স্ত্রী একজন চিকিৎসক; ঈদের দিনেও ডিউটিতে থাকতে হয়। ব্যস্ততার ফাঁকেই মেয়েকে নিয়ে বেরিয়ে পড়েছেন তিনি। সমীরণ বলেন, স্ত্রী যে হাসপাতালে কর্মরত, শিশুমেলা তার কাছেই। তাই মেয়ের আনন্দের কথা ভেবেই এখানে আসা। তাঁর ভাষায়, ‘ঈদ মানেই তো আনন্দ। আনন্দ সবার জন্যই। কিন্তু বাচ্চাদের আনন্দটাই আগে। অন্য জায়গার চেয়ে এখানে ও বেশি আনন্দ পায়।’ পাঁচ বছরের বেশি বয়সী অর্নিকার জন্য এটি শিশুমেলায় দ্বিতীয়বার আসা। তবু তার উচ্ছ্বাসে একটুও কমতি নেই।

শিশুমেলার আরেক কোণে দেখা গেল মোহাম্মদ আলাউদ্দিনকে। সঙ্গে দুই নাতি, আরিয়ান ও রাফিয়ান। একজনের বয়স সাড়ে পাঁচ, আরেকজনের মাত্র ১৮ মাস। পিরোজপুরে কর্মরত আলাউদ্দিন ঈদের ছুটিতে ঢাকায় এসে নাতিদের নিয়ে বেরিয়েছেন। তাঁর কণ্ঠে ছিল সহজ, নির্ভেজাল পারিবারিক সুখের কথা। নাতিদের ঈদের খুশিতেই তাঁর নিজের আনন্দ। দূরে থাকা অন্য দুই নাতিকে মনে পড়লেও, এই দুই নাতির হাত ধরে ঈদের বিকেলটাকে তিনি পূর্ণ করে তুলতে চান। শিশুমেলায় আসা তাঁর কাছে শুধু ঘোরাঘুরি নয়, পরিবারের ছোটদের মুখে হাসি দেখার একটি উপলক্ষও।
ঈদের ছুটিতে ঢাকার রাস্তাঘাট যতই ফাঁকা হোক, রাজধানীর খোলা জায়গাগুলোতে কিন্তু থেমে নেই উৎসবের প্রাণ।
জিয়া উদ্যানে গিয়ে দেখা গেল সবুজের ভেতর অন্যরকম স্বস্তি। কেউ হাঁটছেন, কেউ পরিবারের সঙ্গে বসে আছেন, কেউবা ছবি তুলছেন। শ্যামলীর আদাবর থেকে আসা সাকিব স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে এসেছেন ঘুরতে। তিনি বলেন, ঈদের ছুটিতে পরিবার নিয়ে বের হওয়ার সুযোগ খুব বেশি হয় না। আর আজকের আবহাওয়াটাও ছিল দারুণ। তাঁর চোখে এই উদ্যান আগের তুলনায় অনেক বেশি গোছানো, পরিচ্ছন্ন, পরিপাটি। ডাস্টবিনে আলাদা সাইন, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ আর খোলামেলা সবুজ, সব মিলিয়ে ঈদের ফাঁকা ঢাকায় জায়গাটি তাঁকে দিয়েছে স্বস্তির অনুভূতি। তাঁর কথায়, ‘এটা ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। যারা আসছে বা আসবে, এই আবহাওয়ায় এসে আরও চনমনে লাগবে।’

ধানমন্ডি ৩২-এর পার্ক এলাকাতেও ছিল একই চিত্রের আরেক রূপ। মেহজাবিন রহমান পরিবার নিয়ে বিকেলে বেরিয়েছিলেন লেকপারে।

তিনি বলেন, ‘ঈদের দিনে ঢাকার ব্যস্ততা একটু থেমে যায়, তখন শহরটাকে নতুন করে দেখা যায়। বাচ্চাদের নিয়ে খুব দূরে না গিয়েও এমন খোলা জায়গায় কিছুটা সময় কাটানো যায়, সেটাই ভালো লাগে। সবাই মিলে হাঁটা, গল্প করা, একটু ফুচকা খাওয়া, এই ছোট ছোট মুহূর্তই তো ঈদের আনন্দ। ফাঁকা শহরে এই পার্কটা আজ আরও শান্ত, আরও আপন মনে হচ্ছে।’
অন্যদিকে, নগরজীবনের আরেক রঙ ধরা পড়েছে বসুন্ধরা শপিং কমপ্লেক্সের স্টার সিনেপ্লেক্সে। ঈদের বিকেল গড়াতেই সেখানে ভিড় জমিয়েছেন সিনেমাপ্রেমীরা।

বন্ধুদের সঙ্গে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ দেখতে আসা রায়হান কবির বলেন, ‘ঈদের দিনে সিনেমা দেখতে আসার একটা আলাদা মজা আছে। বাইরে ঘোরাঘুরি যেমন আছে, তেমনি বড় পর্দায় একসঙ্গে সিনেমা দেখা এখন আমাদের ঈদের অংশ হয়ে গেছে। হলের ভিড়, টিকিট হাতে অপেক্ষা, শো শুরু হওয়ার আগের উত্তেজনা, সব মিলিয়ে উৎসবটা অন্যরকম লাগে। পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে এই সময়টা কাটানোই আসল আনন্দ।’
ঈদের ছুটিতে ফাঁকা হয়ে যাওয়া ঢাকা তাই পুরোপুরি নির্জন নয়। বরং ব্যস্ততার আবরণ সরে গেলে শহরের অন্য এক মুখ দেখা যায়। যেখানে পার্কে শিশুর হাসি, উদ্যানে পরিবারের হাঁটাহাঁটি, লেকপারে ছোট্ট আড্ডা আর প্রেক্ষাগৃহে উৎসবের ভিড় মিলেমিশে তৈরি করে অন্যরকম এক নগর ঈদ।

আইন বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, ‘এই দেশ, রাষ্ট্র ও সমাজকে ঠিক রাখতে হলে সব ধরনের দুর্বৃত্তায়ন থেকে দূরে থাকতে হবে। আমরা সব দুর্বৃত্তায়নের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছি। আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার যে প্রত্যয় নিয়ে এসেছি তা আমরা বাস্তবায়ন করব।’
২৩ মিনিট আগে
জেলা পরিষদের প্রশাসক নিয়োগে দলীয়করণ হয়নি, বিএনপি নেতাদের সাময়িক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক খালেদ হোসেন মাহবুব।
২৮ মিনিট আগে
ফরিদপুরের সদরপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। শনিবার (২১ মার্চ) বেলা ১১টার পর উপজেলা সদরে এ ঘটনা ঘটে। দুপুর ২টার দিকে স্থানীয়রা কুকুরটিকে মেরে ফেলেন।
৩৬ মিনিট আগে
বাবার সঙ্গে ভোলায় বঙ্গোপসাগরের মোহনায় মাছ ধরতে গিয়েছিলেন দুই ছেলে। তবে আকস্মিক ঝড়ে ডুবে যায় তাঁদের নৌকা। এরপর তিনজনই সাঁতার কেটে তীরে ফেরার চেষ্টা করলেও বাবা নুরে আলম মাঝপথেই প্রাণ হারান। পরে দুই ছেলে প্রায় ২ ঘণ্টা সাঁতরে বাবার নিথর দেহ নিয়ে ফেরেন তীরে।
১ ঘণ্টা আগে