সুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ, ৩৭% কাস্টিং

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

এআই দিয়ে বানানো ছবি

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির (বার) দুই দিনব্যাপী নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। বুধবার সকাল ১০টায় সমিতির অডিটোরিয়ামে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে চলে বিকাল ৫টা পর্যন্ত। আবার বৃহস্পতিবার সকালে শুরু হয়ে বিকাল ৫টায় শেষ হয়।

নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন নির্বাচন উপকমিটি।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে আইনজীবীদের উপস্থিতি ছিল বিগত বছরগুলোর তুলনায় অনেক কম। ১১ হাজার ৯৭ জন ভোটারের মধ্যে দুই দিনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন মাত্র ৪ হাজার ৪৮ জন। সে হিসেবে মোট ভোটারের মাত্র ৩৬ দশমিক ৪৮ শতাংশ ভোট দিয়েছেন।

এবারের নির্বাচনে ভোটদানের হারে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। ২০১৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত টানা চার বছর মোট ভোটার ছিল ৭ হাজার ৭০০ থেকে ৮ হাজার ৬০০-এর মধ্যে। এসব নির্বাচনে গড়ে সাড়ে ৫ হাজার থেকে ৬ হাজারের কাছাকাছি ভোট পড়েছে। এর মধ্যে ২০২০-২০২১ মেয়াদে ৭ হাজার ৭৮১ জন ভোটারের মধ্যে সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৯৪০টি ভোট পড়েছিল।

২০২৩-২০২৪ মেয়াদের নির্বাচনে ভোট পড়ার হার বিস্ময়করভাবে কমে গিয়ে ৮ হাজার ৬০২ জন ভোটারের বিপরীতে মাত্র ৪ হাজার ১৩৭টি ভোট গ্রহণ হয়। তবে ২০২৪-২০২৫ মেয়াদে তা কিছুটা বেড়ে ৭ হাজার ৮৮৩ ভোটারের মধ্যে ৫ হাজার ৩১৯টি ভোট পড়ে।

এবারের ২০২৬-২০২৭ মেয়াদে ভোটার সংখ্যা বেড়ে ১১ হাজার ৯৭ হলেও ভোট পড়েছে মাত্র ৪ হাজার ৪৮টি। এর মধ্যে প্রথম দিন ১ হাজার ৭৭১ জন এবং দ্বিতীয় দিন ২ হাজার ২৭৭ জন ভোট দিয়েছেন।

একটি প্যানেলের ভোট বর্জনের ঘোষণা এবং কম ভোটার উপস্থিতি নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বিচারপতি মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী অতীত ও বর্তমানের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরেন।

ভোট বর্জন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে কোনো পক্ষ নাই, সবাই কলিগ। যারা বর্জনকারী পক্ষ হিসেবে পরিচিত, তাদের অনেকেও ভোট দিতে এসেছেন। সুতরাং ওই নোংরামিটা তারাও পছন্দ করে না। নানা জনের নানা মত থাকে, অনেকে মনে করতেছে ধুর, আজকে ভোট না গেলে কী হইবে।’

সাধারণ ভোটারদের পক্ষ থেকে ওঠা অভিযোগ নির্বাচন সাব-কমিটি উড়িয়ে দিয়েছে উল্লেখ করে সহ-সম্পাদক প্রার্থী মোস্তফা আসগর শরীফী বলেন, ‘যে অভিযোগগুলো করা হয়েছে, সেগুলো যথাযথ প্রক্রিয়ায় লিখিতভাবে নিষ্পত্তি করা উচিত। এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশন অফিশিয়ালি কোনো জবাব দেয়নি। এই অফিশিয়াল জবাবটা সাধারণ ভোটারের জানার জন্য জরুরি ছিল।’

ভোটার উপস্থিতির হার নিয়ে শরীফী বলেন, ‘ভোটের হার কম ছিল, তবে যতটুকু কম মনে করা হয়েছিল আসলে ততটুকু কম হয়নি। ৪ হাজারের ওপরে ভোট কাস্ট হয়েছে, এটা মোটামুটি সন্তোষজনক।’

ভোটের সার্বিক পরিবেশ নিয়ে সবুজ প্যানেলের সহ সভাপতি প্রার্থী মহিউদ্দিন ফারুকী জানান, একজনের সাতটি ভোট দেওয়ার যে গুঞ্জন উঠেছে, তা তিনি শুনেছেন, তবে এখনও বিস্তারিত খবর নেননি।

ভোটের পরিবেশ ভালো দাবি করে তিনি বলেন, ‘পরিবেশ খারাপ মনে হয় নাই। উপস্থিতি তো খুব কম না, ১০ হাজার ৪ শ ভোট কাস্ট হইছে (যদিও নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক তথ্যমতে ভোট পড়েছে ৪ হাজার ৪৮টি)। এর আগেরবারও এরকমই হইছে।’

আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবীদের উপস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যারা পরিচিত মুখ বা যাদের ওপরে ক্ষোভ আছে, এ রকম ভোটার আসেননি।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সরকারপতনের পর ২০২৫-২০২৬ মেয়াদে বারে কোনো নির্বাচন হয়নি। প্রায় দুই বছরের বিরতির পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে ১৪টি পদের বিপরীতে তিনটি প্যানেল থেকে ৪০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্যানেলগুলো হলো বিএনপি সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী নীল প্যানেল, জামায়াত সমর্থিত সবুজ প্যানেল এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) সমর্থিত লাল-সবুজ প্যানেল।

সম্পর্কিত