বৈশ্বিক সাহায্য কমে যাওয়া কৌশল পুনর্বিবেচনার সুযোগ: রাশেদ তিতুমীর

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০৮ জুলাই ২০২৬, ২২: ৩৩
বুধবার সিপিডি ও ওইসিডির যৌথ উদ্যোগে এ ভার্চুয়াল সংলাপ আয়োজিত হয়। ছবি: সংগৃহীত

বৈশ্বিক সাহায্য কমে যাওয়ার প্রবণতাকে কেবল সতর্কবার্তা হিসেবে না দেখে আগামী দশকের উন্নয়ন অর্থায়ন কৌশল নতুন করে সাজানোর সুযোগ হিসেবে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

বুধবার (৮ জুলাই) ‘ওইসিডি মাল্টিল্যাটারাল ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স ২০২৬ রিপোর্ট (এমডিএফআর): পারসপেক্টিভস ফ্রম সাউথ এশিয়া’ শিরোনামের এক ভার্চ্যুয়াল আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ইতিমধ্যে অভ্যন্তরীণ সম্পদ সংগ্রহ, পুঁজিবাজার সংস্কার এবং বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে নিজস্ব অর্থায়ন বহুমুখীকরণের পথে হাঁটছে। একই সঙ্গে জলবায়ু, খাদ্য ও জ্বালানি সংকটের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর বাস্তবতায় সাড়া দিয়ে বহুপাক্ষিক সংস্থাগুলোকে তাদের হারানো ‘নৈতিক কর্তৃত্ব’ ফিরে পাওয়ার তাগিদ দেন তিনি।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) এবং ওইসিডির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই ভার্চ্যুয়াল সংলাপে দক্ষিণ এশিয়া ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের অবস্থান ও ভবিষ্যৎ প্রস্তুতি তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

আলোচনায় সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, অবকাঠামো, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বাংলাদেশ বহুপাক্ষিক অর্থায়নের সুবিধা পেলেও বৈশ্বিক অর্থায়নের এই নেতিবাচক পরিবর্তন এলডিসি উত্তরণের মুখে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে।

ওইসিডির অর্থনীতিবিদ অঁরি-বার্নার্ড সোলিনিয়াক লেকোমতে বলেন, বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার অনন্য মূল্য আজ হুমকির মুখে। যা রক্ষা করতে সাহসী ও সুপরিকল্পিত সংস্কারের বিকল্প নেই।

পাকিস্তানের পক্ষে এসডিপিআইয়ের নির্বাহী পরিচালক ড. আবিদ কাইয়ুম সুলেরি উন্নয়নশীল দেশগুলোকে একক কণ্ঠে কথা বলার আহ্বান জানান এবং জরুরি ও রেয়াতি অর্থায়নকে আলাদা উইন্ডোর আওতায় রাখার তাগিদ দেন।

অন্যদিকে সাউদার্ন ভয়েসের গবেষণা প্রধান ড. প্রত্যুষ শর্মা সতর্ক করেন যে, কেন্দ্রীয় তহবিল কমানো হলে তার নেতিবাচক প্রভাব মাঠপর্যায়ের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডেও পড়বে।

নেপালের প্রেক্ষাপটে ড. পরশ খরেল এবং শ্রীলঙ্কার ড. রওশন অ্যান পেরেরা বলেন, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার টেকসই না হওয়া পর্যন্ত অনুদান ও রেয়াতি অর্থায়নকে অর্থনৈতিক সুরক্ষার সেতু হিসেবে ব্যবহার করতে হবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক শাহ আসিফ রহমান এসডিজি বাস্তবায়ন ও এলডিসি উত্তরণের স্বার্থে উন্নত বিশ্ব ও দাতা সংস্থাগুলোর জোরালো প্রতিশ্রুতির ওপর জোর দেন।

আলোচকেরা একমত পোষণ করেন যে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোকে বহুপাক্ষিক অর্থায়ন সংস্কারে সক্রিয় ভূমিকা রাখার পাশাপাশি নিজস্ব অভ্যন্তরীণ সম্পদ সংগ্রহ জোরদার করতে হবে।

Ad 300x250

সম্পর্কিত