রাবিতে নিয়োগ নিয়ে মুখোমুখি সাবেক-বর্তমান কর্মকর্তারা

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশ : ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ২২: ৫৫
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। সংগৃহীত ছবি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ১৬ মার্চ অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম নতুন উপাচার্যের দায়িত্ব নেন। এরপর তিনি পুরোনো ফাইল তলব করলে বর্তমান ও সাবেক প্রশাসনের বিরোধ সামনে আসে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিনের শিক্ষক-সংকট কাটাতে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ্ হাসান নকীবের আমলে ৩৪টি বিভাগে ১৫৪ জন নতুন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। নিয়োগে স্বচ্ছতা আনতে প্রথমবারের মতো লিখিত পরীক্ষা চালু করা হয়েছিল। তবে বর্তমান উপাচার্য দায়িত্ব নিয়েই এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ‘দলীয় এজেন্ডা’ বাস্তবায়নের অভিযোগ তুলেছেন।

বর্তমান উপাচার্য ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘গত ১৮ মাস ক্যাম্পাসে পরিকল্পিতভাবে ভয়ের পরিবেশ জিইয়ে রেখে একটি বিশেষ রাজনৈতিক মতাদর্শের ৯০ শতাংশ ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। মেডিকেল সেন্টারের চিকিৎসক থেকে শুরু করে চতুর্থ শ্রেণির শতাধিক কর্মচারী নিয়োগেও রাজনৈতিক প্রভাব ছিল। কেউ প্রতিবাদ করলে তাঁদের চাকরি হারানোর হুমকিও দেওয়া হয়েছে।’ তিনি এই পুরো প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে বলে মন্তব্য করেন।

তবে এসব অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ উল্লেখ করে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ্ হাসান নকীব বলেন, ‘যাঁরা দাবি করছেন, ৯০ শতাংশ নিয়োগ একটি বিশেষ দলের তাঁদের উচিত সেই ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করা। তা না পারলে এ ধরনের মন্তব্য করা দায়িত্বজ্ঞানহীনতা।’ তিনি আরও দাবি করেন, তাঁর সময়ে বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপিসহ সব পক্ষ থেকে নিয়োগের সুপারিশ এলেও তিনি তা আমলে নেননি এবং মেধার ভিত্তিতেই নিয়োগ দিয়েছেন।

এদিকে রাবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহি অভিযোগ করেছেন, আগের প্রশাসনের সময় বিভিন্ন বিভাগে রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বাইরের বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও রাজনীতি-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এসব অভিযোগের স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি।

সংগঠনের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সাব্বির হোসেন মোল্লা বলেন, ‘বর্তমান উপাচার্য যখন অনিয়ম খতিয়ে দেখতে ফাইল তলব করেছেন, তখন সাবেক উপাচার্যের উচিত ছিল তদন্তে সহযোগিতা করা। কিন্তু তিনি তা না করে অন্যের ওপর দোষ চাপাচ্ছেন।’

তবে রাকসুর ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, ‘কিছু স্বজনপ্রীতির অভিযোগ থাকলেও সামগ্রিকভাবে মেধার মূল্যায়ন হয়েছে। এর বড় প্রমাণ হলো—শিবিরের রাবি শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক হাফেজ মেহেদী হাসান আবেদন করলেও লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে না পারায় বাদ পড়েছেন। অনেক শিক্ষকের স্বজনেরাও অযোগ্যতার কারণে নিয়োগ পাননি। এতেই বোঝা যায় নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ছিল।’

সম্পর্কিত