সেই ইমামকে মানসিক হাসপাতালে ভর্তি

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
ফেনী

সাজানো ধর্ষণ মামলার শিকার ইমাম মাওলানা মুজাফফর আহমদ জুবায়ের। ছবি: সংগৃহীত

ফেনীর পরশুরামে সাজানো ধর্ষণ মামলায় কারাভোগের পর ডিএনএ টেস্টে নির্দোষ প্রমাণিত হওয়া ইমাম মাওলানা মুজাফফর আহমদ জুবায়েরকে মানসিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আইনি লড়াইয়ের ধকল আর সামাজিক লাঞ্ছনার ক্ষত সইতে না পেরে তিনি বর্তমানে রাজধানীর আদাবরের একটি বিশেষায়িত মানসিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

শুক্রবার (১৫ মে) দুপুরে ফেসবুকে এক পোস্টে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সদস্য সচিব তারেক রেজা জানান, ইমাম জুবায়েরকে আদাবরের এনলাইটেন্ড সাইকিয়াট্রিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এর আগে এক পোস্টে তারেক রেজা জানান, মোজাফফরকে তাঁর ছোট ভাই ইমনের বাসায় পাঠানো হয়। সেখানে পৌঁছানোর কিছুক্ষণ পরই তিনি হঠাৎ অত্যন্ত আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন। বাসার জিনিসপত্র ভাঙচুর করেন এবং ইফতি ও ইমনের ওপর চড়াও হয়ে মারধর এবং কামড়ে আহত করেন। এমনকি পাশের ফ্ল্যাটের মালিকের বাসায় ঢুকেও তাঁকে আঘাত করার চেষ্টা করেন।

তারেক রেজা জানান, ইমন বিষয়টি জানালে আমি দ্রুত সেখানে উপস্থিত হই। একপর্যায়ে তিনি আমাকেও আঘাত করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে বাধ্য হয়ে আমরা তাকে বেঁধে ফেলি এবং ৯৯৯-এ কল করে পুলিশের সহায়তা চাই। পরে পুলিশের সহযোগিতায় মোজাফফরকে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়।

জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৪ নভেম্বর স্থানীয় মক্তব শিক্ষক ও ইমাম মোজাফফর আহমদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এনে মামলা করে এক কিশোরীর পরিবার। গ্রেপ্তারের পর তিনি টানা ৩২ দিন কারাভোগ করেন। শুধু কারাভোগই নয়, সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন হওয়ার পাশাপাশি মসজিদের ইমামতি এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের চাকরিও হারান তিনি।

তদন্তভার পাওয়ার পর পুলিশ আধুনিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির সহায়তা নেয়। সিআইডির ফরেনসিক পরীক্ষায় দেখা যায়, মোজাফফরের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। তদন্তের একপর্যায়ে কিশোরী সঠিক তথ্য দেন।

গত ১৭ এপ্রিল আদালতে মামলার চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় পুলিশ। প্রতিবেদনে নিরপরাধ মোজাফফরকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয় এবং কিশোরীর ভাই মোরশেদকে প্রধান অভিযুক্ত করা হয়। পরে পুলিশ মোরশেদকে গ্রেপ্তার করে।

সম্পর্কিত