সিরাজ চুই গোস্তের ঘি তৈরি সুগন্ধি-পামওয়েলে, মানহীন বোরহানি

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ১৬ মে ২০২৬, ০০: ১৭
পামওয়েল ও সুগন্ধি দিয়ে ঘি তৈরি এবং মানহীন বোরহানি বিক্রির অভিযোগে উঠেছে ‘সিরাজ চুইগোস্ত’- এর বিরুদ্ধে। ছবি: সংগৃহীত

পামওয়েল ও সুগন্ধি দিয়ে ঘি তৈরি এবং মানহীন বোরহানি বিক্রির অভিযোগে ‘সিরাজ চুইগোস্ত’– এর মালিক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত।

ডিএসসিসির নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক কামরুল হাসান গত ১১ মে এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। শুক্রবার স্ট্রিমকে কামরুল হাসান বলেন, ‘মানুষ টাকা দিয়ে ভালো খাবার খেতে চায়। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি নিয়মিত মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করছে। তারা যেটা ঘি বলে বিক্রি করছে, তাতে ঘি বলে কিছু নাই। পামওয়েল আর সুগন্ধি ব্যবহার করে এই ঘি তৈরি। তাদের বোরহানিও মানহীন।’

গত ৫ মে সিরাজ চুইগোস্ত রেস্টুরেন্টের খিলগাঁও শাখা থেকে খিরসা ঘি ও বোরহানির নমুনা সংগ্রহ করে ডিএসসিসি কর্তৃপক্ষ। পরে ডিএসসিসির জনস্বাস্থ্য খাদ্য পরীক্ষাগারের পরীক্ষায় পণ্য দুটি মানহীন প্রমাণিত হয়। এই ঘটনায় গত ১০ মে ডিএসসিসির বিশুদ্ধ খাদ্য আদালতে নালিশি মামলা দায়ের করেন নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক কামরুল হাসান।

নিয়ম অনুযায়ী, খিরসা ঘিতে দুগ্ধজাত চর্বি থাকার কথা ৯৯ দশমিক ৭০ শতাংশ। তবে সিরাজ চুইগোস্তের ঘিতে দুগ্ধজাত চর্বির কোনো উপস্থিতিই মেলেনি। অন্যদিকে, বোরহানিতে দুগ্ধ প্রোটিন থাকার কথা ন্যূনতম ২ দশমিক ৭ শতাংশ। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির বোরহানিতে পাওয়া গেছে ১ দশমিক ৮৯ শতাংশ। ১০ শতাংশ দুগ্ধ চর্বির জায়গায় পাওয়া গেছে ২ দশমিক ৪৭ শতাংশ এবং ০.৩ শতাংশ অম্লতার জায়গায় পাওয়া গেছে ০.৩৮ শতাংশ।

জনস্বাস্থ্য খাদ্য পরীক্ষাগারের খাদ্য বিশ্লেষক ইলিয়াস জাহেদী স্ট্রিমকে বলেন, সিরাজ চুইগোস্তোর ঘি পরীক্ষা করে আমরা কোনো ঘি পাইনি। ঘিয়ের যে সব ক্রাইটেরিয়া থাকে, তার সঙ্গে এটা ম্যাচ করেনি। বরং ম্যাচ করেছে পামওয়েলের সঙ্গে। ফলে আমরা বলছি, পামওয়েলের সঙ্গে ঘিয়ের ফ্লেভার বা সুগন্ধি যোগ করে এটা তৈরি করা হয়েছে। পামওয়েল খেলে যে ধরনের ক্ষতি হয়, এটাতেও তাই হবে। পাশাপাশি ভোক্তা ঠকানোর বিষয় তো আছেই।

তিনি বলেন, বোরহানিতে আমরা প্রোটিনের মান কম পেয়েছি। তবে এটা খেলে ক্ষতি হবে– আমরা তা বলছি না। আমরা বলছি, এটার মাধ্যমে ভোক্তাকে ঠকানো হচ্ছে।

পরীক্ষাগারের ফলাফল উল্লেখ করে মামলার নথিতে কামরুল হাসান লিখেছেন, সিরাজ চুইগোস্তকে ভালো খাবার উৎপাদন, বিষাক্ত রং ও ফ্লেভার ব্যবহার না করার জন্য আগে একাধিকবার মৌখিকভাবে বলা হয়েছিল। কিন্তু তারা তা না মেনে মানহীন পণ্য বিক্রি অব্যাহত রেখেছে।

এসব বিষয়ে সিরাজ চুইগোস্তের মালিক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলামকে কল করলে রিসিভ হয়নি। বার্তা দিয়েও সাড়া মেলেনি। তবে বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির মহাসচিব ইমরান হাসান বলেছেন, বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানকে সুযোগ দিতে মামলাটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে করা হয়েছে।

ডিএসসিসির প্রশাসক আবদুস সালাম বলেন, সিরাজ চুইগোস্তের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তাদের মালিকের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। আমরা ভেজাল খাদ্য ও ভোক্তা ঠকানোর বিষয়ে কোনো ছাড় দেব না।

সম্পর্কিত