বিশ্বকাপের নক্ষত্র—১

সাদিও মানের লাস্ট ড্যান্সের অপেক্ষায় সেনেগাল

স্পোর্টস ডেস্ক
স্পোর্টস ডেস্ক

প্রকাশ : ১৭ মে ২০২৬, ০০: ১০
সংগৃহীত ছবি

গতি, ড্রিবলিং ও ক্ষিপ্রতার দারুণ মিশেল সেনেগালের সাদিও মানে। লিভারপুলের সাবেক কোচ ইয়ুর্গেন ক্লপ তাঁকে বলতেন 'কমপ্লিট প্যাকেজ'। একই সঙ্গে উইংয়ে আবার স্ট্রাইকার হয়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ কাঁপিয়ে দেওয়া খেলোয়াড়।

বর্তমানে সৌদি প্রো লিগের দল আল-নাসরে খেলা সাদিও মানে ২০২৫-২৬ মৌসুমে ২৪ ম্যাচে ৯ গোলের পাশাপাশি করেছেন ৬ অ্যাসিস্ট।

সাদিও মানের জন্ম ১৯৯২ সালের ১০ এপ্রিল। সাধারণত খেলেন উইঙ্গার ও ফরোয়ার্ড পজিশনে। ১০ নম্বর জার্সিতে সেনেগাল জাতীয় দলের হয়ে ১২৪ ম্যাচে করেছেন ৫২ গোল।

ইংল্যান্ড ও লিভারপুলের কিংবদন্তি ফুটবলার স্টিভেন জেরার্ড বলেছিলেন, মানের গতি, টাচ ও ফিনিশ বিশ্বমানের। টাকা খরচ করে গ্যালারিতে বসে দেখতে চাইবেন এমন ফুটবলার।

ট্রফি ক্যাবিনেট ও অর্জন

সাদিও মানে ২০১৯ ও ২০২২ সালে আফ্রিকান ফুটবলার অব দ্য ইয়ার নির্বাচিত হন। লিভারপুলের হয়ে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ (২০১৮-১৯) জিতেন। পরের মৌসুমে (২০১৯-২০) ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা জিতেন । ২০১৮-১৯ মৌসুমে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ২২ গোলে জিতেন গোল্ডেন বুট। অন্যদিকে, জার্মান ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে বুন্দেসলিগা ও জার্মান কাপও জিতেছেন তিনি।

লিভারপুলের হয়ে ১৯৬ ম্যাচে করেছেন ৯০ গোল। ছবি: সংগৃহীত
লিভারপুলের হয়ে ১৯৬ ম্যাচে করেছেন ৯০ গোল। ছবি: সংগৃহীত

সাদিও মানের নৈপুণ্যে ২০২২ সালে প্রথম আফ্রিকা কাপ অব নেশনস জেতে সেনেগাল। এই টুর্নামেন্টের ২০২১ ও ২০২৫ আসরে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার উঠেছে মানের হাতে।

বিশ্বকাপ ট্র্যাজেডি ও লাস্ট ড্যান্স

বিশ্বকাপ মঞ্চ সাদিও মানের কাছে অপূর্ণ স্বপ্ন ও বেদনার গল্প। ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপে ভালো পারফরম্যান্স সত্ত্বেও গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয় সেনেগাল। সবচেয়ে বড় ধাক্কা আসে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের আগমুহূর্তে। বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে খেলার সময় গুরুতর চোট পেয়ে ছিটকে পড়েন বিশ্বকাপের স্কোয়াড থেকে।

এবারের আসর হয়তো ৩৪ বছর বয়সি মানের শেষ বিশ্বকাপ। ২০২৬ বিশ্বকাপে 'আই' গ্রুপে ফ্রান্স, নরওয়ে ও ইরাকের মুখোমুখি হবে সেনেগাল। নিজের শেষ বিশ্বকাপে দেশকে রূপকথার গল্প উপহার দিতে মরিয়া এই তারকা।

ভক্তদের সেলফিতে সার্দিও মানে। ছবি: সংগৃহীত
ভক্তদের সেলফিতে সার্দিও মানে। ছবি: সংগৃহীত

মাঠের বাইরের সুপারহিরো

বিশ্বের অনেক ফুটবলার বিলাসবহুল জীবনযাপন করে আলোচনায় আসেন। সাদিও মানে সেই পথে হাঁটেননি। তাঁর জন্মভূমি সেনেগালের অবহেলিত গ্রাম বামবালির দারিদ্র্য দূর করতে নিয়েছেন দারুণ সব উদ্যোগ। গ্রামে হাসপাতাল, আধুনিক স্কুল, পোস্ট অফিস ও ফুয়েল পাম্পও নির্মাণ করেছেন। মাঠের তারকা মানে তাই দেশের মানুষের কাছে সত্যি নক্ষত্র।

ফুটবল ট্রিভিয়া

২০১৫ সালে সাউদাম্পটনের হয়ে অ্যাস্টন ভিলার বিপক্ষে মাত্র ২ মিনিট ৫৬ সেকেন্ডে হ্যাটট্রিক করেন মানে। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসে সবচেয়ে দ্রুততম হ্যাটট্রিকের রেকর্ড আজও অক্ষত রয়েছে।

সম্পর্কিত