
হাম ও রোগটির উপসর্গে প্রতিদিন শিশুর প্রাণহানি হচ্ছে। মৃত্যু না হলেও একাধিক প্রাপ্তবয়স্কের হামে আক্রান্তের তথ্য পাওয়া গেছে। তাঁরা ডায়রিয়া, ইউরিন ইনফেকশন, লিভার এনজাইমে প্রদাহের মতো জটিলতার সম্মুখীন হয়েছেন।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানে ভাইরাসের ব্যাপক সংক্রমণের কারণে বড়দের হামে আক্রান্ত বাড়ছে। রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি থাকায় তাদের তেমন সমস্যা হচ্ছে না। তবে ডায়াবেটিস, ক্যানসারের রোগীদের জন্য এটি মারাত্মক জটিলতা তৈরি করতে পারে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যে, বুধবার (২২ জুলাই) পর্যন্ত হাম ও রোগটির উপসর্গে মোট ৮০৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে উপসর্গে ৭০৮ ও হাম শনাক্তের পরে মারা গেছে ৯৫ শিশু। এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার ৩৫২ শিশুর। এ সময় হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ৩ হাজার ৭৮ শিশু। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ৯৯ হাজার ২৯৪ শিশু বাড়ি ফিরেছে। আর গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত ১৪ হাজার ৮৪১ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। তবে প্রাপ্তবয়স্ক কতজন আক্রান্ত হয়েছেন, তার তথ্য অধিদপ্তরে নেই।
স্ট্রিম কয়েকটি হাসপাতালে প্রাপ্তবয়স্কদের হামের চিকিৎসা নেওয়ার তথ্য পেয়েছে। এর মধ্যে ডিএনসিসি ডেডিকেটেড কভিড-১৯ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন অনেকে। হাসপাতালের ওয়ার্ড সরদার ইমরান হোসেন স্ট্রিমকে বলেন, ‘আগে রোগী বেশি ছিল। এখন অনেক কম। এখানে হামের শিশু রোগী বেশি। প্রতিদিন ১০০ জন ভর্তি হলে, তাদের মধ্যে ২৫-৩০ বছর বয়সী ছয়-সাতজন থাকতেন।’
চট্টগ্রামের বাসিন্দা ৩৫ বছর বয়সী জুলকারনাইন ইবনে আলম রাজধানীতে ইসলামী ব্যাংকে চাকরি করেন। তিনি চট্টগ্রামের সিএসসিআর হাসপাতালে হামের চিকিৎসা নিয়েছেন। স্ট্রিমকে জুলকারনাইন বলেন, ‘প্রথমে ১০১ থেকে ১০২ ডিগ্রি জ্বর ছিল। কয়েকদিন পর সারা শরীরে র্যাশ দেখা দেয়। প্রথমে ডেঙ্গু সন্দেহ করেছিলাম। চিকিৎসকের পরামর্শে পরীক্ষা করে হামে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হই।’
তিনি আরও বলেন, ‘চিকিৎসকের দেওয়া ওষুধ, ইনহেলার এবং পর্যাপ্ত বিশ্রামের মাধ্যমে প্রায় দুই সপ্তাহ লেগেছে সুস্থ হতে। তবে পুরোপুরি দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে লেগেছে প্রায় দেড় মাস। চিকিৎসকদের কাছেই জেনেছি– আমার মতো বেশ কয়েকজন একই ধরনের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছিলেন। পরে তাদের হাম শনাক্ত হয়।’
চট্টগ্রামের আরেক বাসিন্দা ২৮ বছর বয়সী তাহমিদ আমানও হামে আক্রান্ত হন। তাঁর মা স্ট্রিমকে বলেন, প্রথমে ১০৩ থেকে ১০৪ ডিগ্রি জ্বর, শরীরব্যথা ও খাবার খেতে সমস্যা হয়। পরে সারা শরীরে র্যাশ ছড়িয়ে পড়ে। ডেঙ্গু পরীক্ষার ফল নেগেটিভ আসার পর চিকিৎসকেরা হামের চিকিৎসা শুরু করেন। এ সময় তাঁর ডায়রিয়া, ইউরিন ইনফেকশন ও লিভারের এনজাইম বেড়ে জটিলতা দেখা দেয়। কয়েকদিন হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর অবস্থার উন্নতি হয়।
বড়দের হামে আক্রান্ত নিয়ে রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মুশতাক হোসেন স্ট্রিমকে বলেন, ‘বড়দেরও হাম হতে পারে। তবে তাদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি থাকায় অধিকাংশ ক্ষেত্রে সুস্থ হয়ে ওঠেন। কিন্তু ডায়াবেটিস, ক্যানসারের রোগী, যাদের শরীরে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম এবং অন্তঃসত্ত্বার জন্য হাম মারাত্মক জটিলতা তৈরি করতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘আগে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে হামের ঘটনা খুব কম ছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে ভাইরাসের ব্যাপক সংক্রমণের কারণে বড়রাও আক্রান্ত হচ্ছেন। হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে টিকাদানের পরিধি আরও বাড়াতে হবে।’
এখন পর্যন্ত প্রাপ্তবয়স্ক কতজন হামে আক্রান্ত হয়েছেন– প্রশ্নে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রক) হালিমুর রশীদ বলেন, ‘হামে আক্রান্তের সংখ্যা জানানো হয়। কিন্তু সেখানে প্রাপ্তবয়স্ক বা শিশু– এ রকম আলাদা তথ্য থাকে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রাপ্তবয়স্করা শারীরিকভাবে দুর্বল থাকলে প্রতিবছরই কিছু না কিছু আক্রান্ত হয়, এটি স্বাভাবিক। এজন্য আলাদা সংখ্যা দেখানো হয়নি।’
.png)

মিটার নেই, বিদ্যুৎ সংযোগও নেই। তবুও ৬৯২ টাকা বিদ্যুৎ বিলের কাগজ পেয়েছেন জামালপুরের মাদারগঞ্জের পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহক শ্রী নিমাই চন্দ্র সরকার। তার অভিযোগ, মিটার খুলে নেয়ার পর নতুন কোনো মিটার সংযোগ না দেয়া হলেও বিল আসায় বিস্মিত তিনি।
১ ঘণ্টা আগে-2aeb91-256x144.webp)
রংপুরের কয়েকটি উপজেলায় চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ মিলছে অর্ধেক। এতে সবচেয়ে বড় ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগীরা। বিদ্যুৎ না থাকায় হাসপাতালের ফ্যান বন্ধ। চলছে না এক্স-রে, ইসিজি, নেবুলাইজারসহ গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্র। কোথাও আবার জরুরি বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় মুঠোফোনের আলোয় রোগী দেখতে হচ্ছে চিকিৎসক-নার্সদের।
২ ঘণ্টা আগে
ঢাকার অদূরে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩ সেপ্টেম্বর ডেঙ্গু রোগী ছিলেন ৪৫। এর আগের ২৪ ঘণ্টায় এখানে ভর্তি হন ১৬ জন। সবমিলে ওই সপ্তাহে ভর্তির সংখ্যা ৮৭ জন। গত ১৮ আগস্ট ডেঙ্গুতে একজনের মৃত্যুও হয়। অথচ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যে চলতি বছর হাসপাতালটিতে ডেঙ্গু রোগী ভর্তিই হয়েছেন একজন।
৪ ঘণ্টা আগে
তরুণ উদ্যোক্তাদের এগিয়ে যাওয়ার পথে প্রধান তিন বাধা হিসেবে দক্ষতার ঘাটতি, ঋণপ্রাপ্তির কঠিন শর্ত ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কথা বলেছেন যশোরের ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা। একই সঙ্গে স্থানীয় অর্থনীতির চাহিদার সঙ্গে জাতীয় প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সামঞ্জস্য নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।
৪ ঘণ্টা আগে