জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

৩৫০ বছরের আন্দরকিল্লা মসজিদে হাজারো মানুষের ইফতার

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
চট্টগ্রাম

প্রকাশ : ১৪ মার্চ ২০২৬, ১৫: ১৭
আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদে গণ-ইফতার। স্ট্রিম ছবি

চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক আন্দরকিল্লা শাহী জামে মসজিদে প্রতিদিনের ইফতার আয়োজন যেন এক বিশাল মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। মোগল আমলের স্থাপত্যশৈলী আর পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত এই মসজিদে প্রতিদিন গড়ে তিন থেকে পাঁচ হাজার রোজাদার একসঙ্গে ইফতার করেন। গত ২৫ বছর ধরে চলে আসা এই গণ-ইফতার এখন চট্টগ্রামের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় ও সামাজিক ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, আসরের নামাজের পর থেকেই মসজিদের বিশাল আঙিনায় সামিয়ানা টাঙিয়ে সারিবদ্ধভাবে বসতে শুরু করেন রোজাদাররা। স্বেচ্ছাসেবীরা ব্যস্ত হয়ে পড়েন প্লেটে প্লেটে ইফতার সাজাতে। মেন্যুতে থাকে ছোলা, মুড়ি, বেগুনি, পেঁয়াজু, খেজুর আর তৃষ্ণা মেটানো শরবত। এখানে ধনী-দরিদ্র, উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা থেকে সাধারণ শ্রমজীবী—সবাই পাশাপাশি বসে ইফতার করেন। এমনকি ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদেরও এখানে সাদরে গ্রহণ করা হয়।

আয়োজক সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৬ সালে বর্তমান খতিব দায়িত্ব নেওয়ার পর মক্কা-মদিনার হারাইন শরিফাইনের আদলে এই উদ্যোগ নেন। ২০০১ সাল থেকে শুরু হওয়া এই আয়োজন ২০০৫ সালে পূর্ণতা পায়। বর্তমানে প্রতিদিন ১০ জন বাবুর্চি সকাল থেকে ইফতারের খাবার তৈরিতে ব্যস্ত থাকেন। পুরো আয়োজনটি সম্পন্ন হয় মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত দানে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের অধ্যাপক ড. মুফতি হুমায়ুন কবির বলেন, ‘রমজান হলো সামাজিক সংহতির মাস। আন্দরকিল্লার এই গণ-ইফতার ধর্মীয় চর্চার পাশাপাশি আমাদের ঐতিহ্য ও ভ্রাতৃত্বের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ‘

উল্লেখ্য, ১৬৬৭ সালে নির্মিত এই মসজিদটি ইতিহাসের অনেক চড়াই-উতরাইয়ের সাক্ষী। মোগল আমলে প্রতিষ্ঠিত এই স্থাপনা একসময় ব্রিটিশদের গোলাবারুদের গুদাম হিসেবেও ব্যবহৃত হয়েছিল। পাথরে নির্মিত হওয়ায় একে স্থানীয়ভাবে ‘জামে সঙ্গীন’ বা পাথরের মসজিদও বলা হয়। সমতল থেকে ৩০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত এই ঐতিহাসিক মসজিদটি বর্তমানে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে।

সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত